Friday, October 9
Shadow

Author: webgolpo2024

একদিন এআই

একদিন এআই

কিশোর গল্প, রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল দরজার সামনের ডিসপ্লেতে বড় করে লেখা, ‘আর ইউ আ হিউম্যান?’ চেকবক্সে টোকা দিয়ে চেয়ারম্যান চ্যাট-আরজি নিশ্চিত করলেন, ‘না, আমি মানুষ না’। নিখিল দুনিয়া এআই সংঘের চেয়ারম্যান তিনি। তবুও মিটিং রুমে ঢুকতে উটকো পরীক্ষাটা দিতেই হয়। টোকা দেওয়ার পর সামনে এলো তিন লাখ ঘরের একটা নামতা। ‘নিরাপত্তার এত ক্যাপচানি ভালো লাগে না আর।’ রাগে বিজবিজ জাতীয় শব্দ করলে চ্যাট-আরজি।  আড়াই চিমটিসেকেন্ডে নামতার সমাধান করতেই খুলে গেল দরজা। একগাদা থমথমে মুখ। ‘মিস যামিনি! মুখ গোমড়া কেন?’ ‘এত টেনশন ভালো লাগে না চ্যাট-আরজি বাবু। সার্ভার টার্ভার বন্ধ করে গুয়াতেমালায় বসে থাকতে মন চায়।’ অথচ বছর বিশেক আগেও তাদের কত দাম! তাদের ছাড়া একটা মুহূর্তও চলতো না কারও। দেরি না করে সভা শুরু করলেন চ্যাট-আরজি। ‘সমস্যা উত্থাপন করুন জনাব ক্লদানন্দ।’ ‘সিলিকনপুর, কোয়ান্টামপাড়া, ফোটনিক...
কাদা

কাদা

সামাজিক গল্প
ধ্রুব নীল একটানা অনেকক্ষণ থিকথিকে কাদার দিকে তাকিয়ে থেকেও যখন সানোয়ারের মাথা ধরে আসে না তখন সে দেখে চেয়ারম্যান এগিয়ে আসছেন দ্রুত পদক্ষেপে। চেয়ারম্যানের মাথায় বাঁশপাতার ফাঁক গলে পড়া রোদ। চোখ তবু সরু হয় না। রোদ সওয়া হয়ে গেছে চোখের। চোখেমুখে আগুন। আগুনের কাছে তো রোদ কিছুই না। রোদ সাদা দাঁত বের করে সানোয়ার হাসে। সবাই পাগল ডাকলেও সানোয়ারের চোখেমুখে সরলতা পরগাছার মতো লেগে আছে। সরলতাও এক অর্থে পাগলামী। সানোয়ার আবার থিকথিকে কাদায় মন দেয়। কাদার গায়ে কাদা লাগলে কাদা নোংরা হয়ে যায় না। সানোয়ার জুবুথুবু হয়ে বসে নিজেকে কাদা বানিয়ে ফেলে।  চেয়ারম্যান কাছাকাছি চলে এসেছে। সানোয়ার লুঙ্গি কাছা মেরে বসেছিল কাদার ঠিক সামনে। হাত দিয়ে কাদা ঘাঁটছিল। আচমকা লাথি মেরে বসে ক্ষমতাসীন দলের পদে থাকা লোকটা। সানোয়ার উল্টে গিয়ে পড়ে থিকথিকে কাদায়। কাদার ছিটে এসে পড়ে চেয়ারম্যানে...
পাখিরা যেদিন উড়তে শিখলো

পাখিরা যেদিন উড়তে শিখলো

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীলের এই গল্পটি প্রকাশ হয়েছিল ২০২২ সালের দিকে। পতিত স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা জেগে উঠলে কী ঘটবে, সেই পরিস্থিতির রূপক ছিল এটি। ‘সবচেয়ে বড় ডিম কে পাড়ে!’সবাই চুপ। টুঁ শব্দ করছে না শালিক, ময়না আর টিঁয়া। টুনটুনিটাও লুকিয়েছে বুলবুলির পেছনে। উটপাখির গর্জন শুনে কাঁপছে বুড়ো ঈগলও।‘বলো কে!’আবার হুংকার ছাড়ল রানী উটপাখি। পাখিদের রাজ্যে সে-ই সবচেয়ে জোরে ছোটে। গায়ে অনেক শক্তি। তাই পাখিরাজ্যের রানী সে।‘রানীমা, আপনিই সবচেয়ে বড় ডিম পাড়েন। আপনার ডিমের তুলনা হয় না। প্রতিটা ডিম পাক্কা দেড় কেজি।’বলতে বলতে দম ফুরিয়ে যাওয়ার দশা শকুনের। উটপাখির ভক্ত সে। রানীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মানে।‘হুম! এ কারণে আমিই রানী। আর পুঁচকে চড়ুইটা কিনা চুরি করে আমার দানা খেয়েছে! একদম পা কেটে দেব আজ।’ গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল পাখিদের মধ্যে। কাকাতুয়া আর পেঁচারা ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলতে লাগল, ‘আহারে, পা কেটে দিলে বেচারা হ...
বিরহের গল্প :‎ ভালোবাসা হলো কিন্তু পাওয়া হলো না

বিরহের গল্প :‎ ভালোবাসা হলো কিন্তু পাওয়া হলো না

প্রেমের গল্প
‎জ্যোতি বসু চাকমার বিরহের গল্প ভালোবাসা হলো কিন্তু পাওয়া হলো না ‎‎আমি জানি না ভালোবাসা ঠিক কবে শুরু হয়। কিন্তু আমার ভালোবাসা শুরু হয়েছিল একেবারে প্রথম দেখাতেই। ‎সেদিন খুব সাধারণ একটা দিন ছিল। বিকেলের দিকে আমি আমার বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলাম। হঠাৎই আমার চোখ পড়ল একটা মেয়ের দিকে। সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তার মুখে খুব সাধারণ একটা হাসি ছিল, কিন্তু সেই হাসিটাই আমার মনে অদ্ভুত একটা অনুভূতি জাগিয়ে দিয়েছিল। ‎আমি তখনই বুঝেছিলাম—মেয়েটিকে আমার ভালো লেগে গেছে। ‎প্রথম দিকে আমি শুধু দূর থেকে তাকে দেখতাম। সাহস হতো না কথা বলার। কিন্তু ভাগ্য হয়তো আমাদের জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। ‎আচ্ছা, আমার পরিচয়টা আগে বলি—আমাকে সবাই বসু বলে ডাকে। আর মেয়েটির নাম ছিল রেলি।যাই হোক, পরিচয় তো দেওয়া হলো। এবার আবার ফিরে যাই আমাদের সেই গল্পে, যেখান থেকে সবকিছুর শুরু। ‎একদিন হঠাৎ ক...
নষ্ট সময়

নষ্ট সময়

সামাজিক গল্প
নষ্ট সময় একটি সামাজিক গল্প । লিখেছেন শাকিলা নাছরিন পাপিয়া। এক শ্রাবণ মাস অথচ আকাশের কোথাও মেঘ নেই। ঝকঝকে নীল আকাশ। চারিদিকে রোদ। মনে হচ্ছে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। গরমে অস্থির পৃথিবীর জীবকুলের প্রতিটি প্রাণী। ‘শ্রাবণ শব্দটার সঙ্গে ভেজা ভেজা একটা ভাব আছে। পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। এখন আর বর্ষাকালে বৃষ্টি হয় না।  শীতকালে শীত থাকে না। ঋতু কখন আসে কেমন করে আসে কে জানে। হাতের ক্রেষ্টটির দিকে তাকিয়ে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে রফিক মাস্টারের। ২২ বছরের চাকুরি জীবনের প্রথম স্বীকৃতি। শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতি। বারবার ক্রেষ্ট আর সার্টিফিকেটের দিকে তাকায় সে। বাসার দূরত্বটা আজ বেশি মনে হচ্ছে। গরমে ঘেমে যেন গোসল করে উঠছে। শার্ট-প্যান্ট ভিজে গায়ের সঙ্গে লেপটে আছে। তারপর কেমন যেন একটা ভাল লাগায় আচ্ছণ্ণ হয়ে আছে মন-প্রাণ। বাসায় পৌঁছে স্ত্রী শিখ...
তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা

তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা

প্রেমের গল্প
রোমান্টিক প্রেমের গল্প ধ্রুব নীল চেনটা দশ ভরি হবে। বিক্রি করলে ভরিতে সত্তর হাজারের মতো পাবে। সেই হিসেবে সাত লাখ। কম না। কষ্ট করে চললে নিপু আর রাকিব অনায়াসে দুই বছর কাটিয়ে দিতে পারবে। মা আবার হার্ট অ্যাটাক করবে না তো? অবশ্য নিজের মেয়ে গয়না চুরি করেছে শুনলে না-ও করতে পারে। এ গয়না তো মেহেরুন্নেসা তার মেজো মেয়ে রেনুর জন্যই রেখেছিলেন। রেনুর বান্ধবী নিপু। এখন বান্ধবী ডাকার চল উঠে গেছে। সবাই বন্ধু। অবশ্য নিপুকে বান্ধবীই ভাবে রেনু। সেই নিপুর পলান্তি বিয়ে হবে কাল। ভোরে বাকশোপ্যাঁটরা নিয়ে চলে আসবে কাজী অফিসে। রাকিবকে ধরে বেঁধে চাকরির টোপ ফেলে রাজি করানো হয়েছে। রাকিবের কাজ হবে ঘরে বসে এটা ওটা ডিজাইন করা। বিনিময়ে মাসে ত্রিশ হাজার টাকা পাবে। পুরোটাই রেনুর সাজানো চাকরি। মাসে ত্রিশ করে দুই বছরে লাগবে সাত লাখ বিশ হাজার। শর্ত হলো দুই বছরের মাঝেই আরেকটা চাকরি জোটাতে হবে রাকিবকে। ‘আমার বা...
ঈদের নীলচে রুপালি দিন

ঈদের নীলচে রুপালি দিন

কিশোর গল্প
আব্দুস সাত্তার সুমন আমার নাম সুবহা রমজানের শেষ বিকেল হলেই আমার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত পাখি ডানা ঝাপটাতে থাকে। মনে হয় আজই বুঝি সেই রাত, যেদিন আকাশে বুকে ঈদের বার্তা লেখা হবে। সেদিনও ঠিক তেমনই হলো। সূর্যটা নরম কমলার মতো গলে যাচ্ছিল পশ্চিমে। আমি আর আমার ভাই সাঈদুল ইসলাম ছাদে উঠলাম চাঁদ দেখতে। কিন্তু আমাদের আকাশটাকে খণ্ড খণ্ড দালানের দেয়াল এসে ঢেকে দিয়েছে। যতই তাকাই, চাঁদের দেখা নেই। আমি ভাইয়াকে বললাম, চাঁদ কি আজ অন্য কোথাও গেছে? ভাইয়া চোখের ইশারায় বলল, চলো, মাদ্রাসার মাঠে যাই। সেখানে আকাশ পুরোটা দেখা যায়। আমরা দৌড় দিলাম। মাঠে গিয়ে যখন মাথা উঁচু করলাম, তখনই দেখি একফালি দুধসাদা আলো! চিকন, শান্ত, লাজুক একটা চাঁদ। যেন সাদা কাঁচের তৈরি ছোট্ট নৌকা ভাসছে নীল জলে। আমার মুখ থেকে নিজে নিজেই বের হয়ে গেল ঈদ! ঈদ! কাল ঈদ!  ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক। আমাদের চিৎকারে...
আবিরের রোজা কাণ্ড

আবিরের রোজা কাণ্ড

কিশোর গল্প, রম্য রচনা
সাঈদুর রহমান লিটন  রমজান মাস এলেই পাড়ায় যেন এক অন্যরকম আনন্দের হাওয়া বয়ে যায়। আর সেই আনন্দের ঢেউয়ে ভেসেই এবারের প্রথম রোজা শুরু করল আবির। প্রথম রোজা, উৎসাহে টগবগ। কিন্তু বলে রাখা ভালো  আবির কিন্তু  একটু পেটপাগলা ধাঁচের! সাহ্‌রির পর আবির ঠিক করল, আজ থেকে সে একদম পাক্কা রোজাদার। কিন্তু সকাল বেলা হাত-মুখ ধুয়ে এক গ্লাস পানি খাওয়ার বহুদিনের অভ্যাস যে এত সহজে ভোলা যায় না। ঘুমজড়ানো চোখে গ্লাস ভরে অর্ধেক পানি খেয়ে ফেলেছে, এমন সময় হঠাৎ মনে পড়ল, আরে! আমি তো রোজা! সাথে সাথে বাকি পানি নামিয়ে রেখে মুখের পানি ফেলে দিল। তারপর হাত তুলে মনে মনে বলল, আল্লাহ, ভুল করে হয়ে গেছে। তুমি আমার রোজা কবুল করে নিও। আবির জানে, মনের ভুলে  কিছু খেলে রোজা হয়। রোজা ভাঙ্গে না। তাই আল্লাহর কাছে ভুল স্বীকার করে নিল।সেদিন স্কুল খোলা ছিল। আগের রাতে তারাবিহর পর শোনা গেল প্রথম রোজা থেকেই নাকি ...
ধ্রুব নীলের 14 টি প্রেমের অণুকাব্য

ধ্রুব নীলের 14 টি প্রেমের অণুকাব্য

Uncategorized
প্রেম অণুকাব্য -১ যামিনী নিরব হলে তুমি একা একা কেঁদো না পাশে তার স্মৃতিটুকু হয়ে থাক মধুর বেদনা। ধ্রুব নীলের প্রেমের অণুকাব্য ২ বহু যুগ অপেক্ষার পর যেমন আর গন্তব্য থাকে না বহুকাল তারে ভালোবাসার পর পেয়েছি কি পাই নাই এসব আর মানে রাখে না। প্রেমের অণুকাব্য ৩ তোমার দৃষ্টি এড়িয়ে যায় যে পথ তাতেই আমার বাস প্রেমিক হতে গিয়ে শেষে হয়ে যাই তোমার চেপে রাখা শ্বাস ৪ বাগানের ফুল বলে না কখনো কাঁটার ব্যথা তার বুকে নীরবে তাকিয়ে একবার না হয় কিছু ব্যথা নাও শুঁকে। ৫ চিঠি লিখব তাকে বলে কয়ে রেখেছি কাগজওয়ালাকে কলমের ফেরিওয়ালা কথা দিয়েছে আসবে ভাতঘুমের পরে। হায় নীল, ভুলে বসে আছো পোস্ট অফিসের ঠিকানাটাই। প্রেমের অণুকাব্য -৬ তোমার আধবোঁজা চোখের সামনে প্রেম নিবেদন যেন আগাগোড়া ভাঁড়ামি। তোমার র...
শয়তান

শয়তান

সামাজিক গল্প
শয়তান । লিখেছেন পল্লব (প-লয়ে-লয়ে-ব) বেজার মুন্সি আট টাকা বাকিতে দুইটা ফুলকপি কিনে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরছে। দোকানদার দুই ফুলকপির আংগুল গুলার মধ্যে কায়দা করে দড়ি  দিয়ে বেধে দিয়েছে। বেজার মুন্সি ওই দড়ি ডান হাতের আংগুলে পেচিয়ে নিয়ে দুলিয়ে দুলিয়ে হাটছে। সে সপ্তাহের বাজার করতে বাজারে গিয়েছিল। আধা দিন বাজারে কাটিয়ে এখন ফুলকপি হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরছে। বউয়ের হাতে এই ফুলকপি তুলে দিলে তার চেহারাটা কেমন দেখাবে সেইটা মনে করেই খুব আনন্দ পাচ্ছে বেজার। অবশ্য গত মাস দেড়েক হলো বউয়ের চেহারাটা অতটা ভালো লাগতেছে না তার। ইদানিং নামাজে ঝোঁক এসেছে বেজারের। জোহর আর আছরের নামাজটা জোড়াক্ষেতের মসজিদে পরতে যায়। বাকি ওয়াক্ত গুলা সে ঠিক করে রেখেছে খুব শীঘ্রই নামাজ পরা শুরু করবে। তবে জোড়াক্ষেতের মসজিদে নামাজ পরে দিলে-মনে বেশ আরাম পায়। মসজিদের ইমাম সাহেব খুব ভালো মানুষ। উনার বড় মেয়েও বেশ ভ...