জ্যোতি বসু চাকমার বিরহের গল্প ভালোবাসা হলো কিন্তু পাওয়া হলো না
আমি জানি না ভালোবাসা ঠিক কবে শুরু হয়। কিন্তু আমার ভালোবাসা শুরু হয়েছিল একেবারে প্রথম দেখাতেই।
সেদিন খুব সাধারণ একটা দিন ছিল। বিকেলের দিকে আমি আমার বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলাম। হঠাৎই আমার চোখ পড়ল একটা মেয়ের দিকে। সে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তার মুখে খুব সাধারণ একটা হাসি ছিল, কিন্তু সেই হাসিটাই আমার মনে অদ্ভুত একটা অনুভূতি জাগিয়ে দিয়েছিল।
আমি তখনই বুঝেছিলাম—মেয়েটিকে আমার ভালো লেগে গেছে।
প্রথম দিকে আমি শুধু দূর থেকে তাকে দেখতাম। সাহস হতো না কথা বলার। কিন্তু ভাগ্য হয়তো আমাদের জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।
আচ্ছা, আমার পরিচয়টা আগে বলি—আমাকে সবাই বসু বলে ডাকে। আর মেয়েটির নাম ছিল রেলি।যাই হোক, পরিচয় তো দেওয়া হলো। এবার আবার ফিরে যাই আমাদের সেই গল্পে, যেখান থেকে সবকিছুর শুরু।
একদিন হঠাৎ করেই আমাদের কথা শুরু হলো।
বিরহের গল্প
প্রথমে খুব সাধারণভাবে—কেমন আছো, কি করছো এসব দিয়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সাধারণ কথাগুলোই হয়ে গেল প্রতিদিনের অভ্যাস।
তার সাথে কথা না বললে আমার দিনটাই যেন অসম্পূর্ণ মনে হতো।
এভাবেই ধীরে ধীরে বন্ধুত্বটা ভালোবাসায় রূপ নিল। আমরা একে অপরকে বুঝতে শিখলাম, একে অপরের কষ্ট আর সুখ ভাগ করে নিতে শিখলাম।
অনেক ঝগড়া হয়েছে, অনেক অভিমান হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমরা আবার ঠিক হয়ে যেতাম। কারণ দুজনেই জানতাম—আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসি।
এভাবেই আমাদের সম্পর্কটা পাঁচ বছর পার করে দিল।
এই পাঁচ বছরে আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভাবতাম একদিন সব ঠিক হবে, একদিন তাকে আমার জীবনের সঙ্গী করব।
কিন্তু জীবন সব সময় মানুষের ইচ্ছামতো চলে না।
হঠাৎ একদিন সে আমাকে বলল—তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। পরিবারের পছন্দে, বয়সে বড় একজন ছেলের সাথে।
আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল হয়তো সে মজা করছে। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, এটা সত্যি।
সেদিন আমার ভেতরটা একদম ভেঙে গিয়েছিল।
পাঁচ বছরের এত স্মৃতি, এত কথা, এত স্বপ্ন—সবকিছু যেন এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।
আমি তাকে থামাতে পারিনি। কারণ সে বলেছিল, তার পরিবারের কথা তাকে মানতেই হবে।
তারপর একদিন শুনলাম, সে বিয়ে করে নতুন জীবনে চলে গেছে।
আজও মাঝে মাঝে সেই প্রথম দেখার দিনের কথা মনে পড়ে। মনে হয়, যদি সেদিন তাকে না দেখতাম তাহলে হয়তো এত কষ্টও পেতাম না।
তবুও আমি একটা কথা মানি—
ভালোবাসা কখনো ভুল ছিল না।
ভুল ছিল শুধু আমার আশা…
কারণ যাকে আমি নিজের ভেবেছিলাম, সে একদিন অন্য কারও হয়ে গেল।
আজও তাকে দোষ দিই না। শুধু মাঝে মাঝে মনে হয়—
পাঁচ বছরের গল্পটা হয়তো অন্যরকমও হতে পারত।
