Wednesday, October 28
Shadow

রম্য রচনা

Bangla humorous and funny stories collection.

একদিন এআই

একদিন এআই

কিশোর গল্প, রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল দরজার সামনের ডিসপ্লেতে বড় করে লেখা, ‘আর ইউ আ হিউম্যান?’ চেকবক্সে টোকা দিয়ে চেয়ারম্যান চ্যাট-আরজি নিশ্চিত করলেন, ‘না, আমি মানুষ না’। নিখিল দুনিয়া এআই সংঘের চেয়ারম্যান তিনি। তবুও মিটিং রুমে ঢুকতে উটকো পরীক্ষাটা দিতেই হয়। টোকা দেওয়ার পর সামনে এলো তিন লাখ ঘরের একটা নামতা। ‘নিরাপত্তার এত ক্যাপচানি ভালো লাগে না আর।’ রাগে বিজবিজ জাতীয় শব্দ করলে চ্যাট-আরজি।  আড়াই চিমটিসেকেন্ডে নামতার সমাধান করতেই খুলে গেল দরজা। একগাদা থমথমে মুখ। ‘মিস যামিনি! মুখ গোমড়া কেন?’ ‘এত টেনশন ভালো লাগে না চ্যাট-আরজি বাবু। সার্ভার টার্ভার বন্ধ করে গুয়াতেমালায় বসে থাকতে মন চায়।’ অথচ বছর বিশেক আগেও তাদের কত দাম! তাদের ছাড়া একটা মুহূর্তও চলতো না কারও। দেরি না করে সভা শুরু করলেন চ্যাট-আরজি। ‘সমস্যা উত্থাপন করুন জনাব ক্লদানন্দ।’ ‘সিলিকনপুর, কোয়ান্টামপাড়া, ফোটনিক...
আবিরের রোজা কাণ্ড

আবিরের রোজা কাণ্ড

কিশোর গল্প, রম্য রচনা
সাঈদুর রহমান লিটন  রমজান মাস এলেই পাড়ায় যেন এক অন্যরকম আনন্দের হাওয়া বয়ে যায়। আর সেই আনন্দের ঢেউয়ে ভেসেই এবারের প্রথম রোজা শুরু করল আবির। প্রথম রোজা, উৎসাহে টগবগ। কিন্তু বলে রাখা ভালো  আবির কিন্তু  একটু পেটপাগলা ধাঁচের! সাহ্‌রির পর আবির ঠিক করল, আজ থেকে সে একদম পাক্কা রোজাদার। কিন্তু সকাল বেলা হাত-মুখ ধুয়ে এক গ্লাস পানি খাওয়ার বহুদিনের অভ্যাস যে এত সহজে ভোলা যায় না। ঘুমজড়ানো চোখে গ্লাস ভরে অর্ধেক পানি খেয়ে ফেলেছে, এমন সময় হঠাৎ মনে পড়ল, আরে! আমি তো রোজা! সাথে সাথে বাকি পানি নামিয়ে রেখে মুখের পানি ফেলে দিল। তারপর হাত তুলে মনে মনে বলল, আল্লাহ, ভুল করে হয়ে গেছে। তুমি আমার রোজা কবুল করে নিও। আবির জানে, মনের ভুলে  কিছু খেলে রোজা হয়। রোজা ভাঙ্গে না। তাই আল্লাহর কাছে ভুল স্বীকার করে নিল।সেদিন স্কুল খোলা ছিল। আগের রাতে তারাবিহর পর শোনা গেল প্রথম রোজা থেকেই নাকি ...
বানানো রুশ জোকস

বানানো রুশ জোকস

রম্য রচনা
রাশিয়ার সঙ্গে রসের সম্পর্কটা দাম্পত্য। বুঝে শুনে হাসতে হয়। হাসতেই হবে। জোকস না বুঝলেও ঠোঁটের কোণে একটুখানি (মৃদু কোষ্ঠকাঠিন্য হলে যেমনটা হয়) হাসি আনা চাই। তো সেই রকম হাসিও যদি না হাসেন তবে বুঝতে হবে আপনার জন্য জোকস আসেনি, বা আপনি জোকসের জন্য আসেননি। সুতরাং প্রত্যেক রম্য রচয়িতাদের উচিৎ কৌতুকের বেলায় আড়ালে গিয়ে রুশ কৌতুকের ধরনকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা (পারলে অনুবাদ করে ছেড়ে দিন)। আর সেই সব রচয়িতার সুবিধার জন্য ভাবলাম একটা উদাহরণ সৃষ্টি করে গেলে কেমন হয়? মানে বাংলাদেশে বসেই একটা ‘রুশ কৌতুক’ লিখে ফেলা আর কি। উদাহরণ-১। নাম: তালগাছ। স্ত্রী: তালগাছটা আমার। স্বামী: তা তো বটে। তালগাছটা তোমার নানি আর মায়ের যেমন ছিল, সেই ধারাবাহিকতায় তোমারই আছে। স্ত্রী: এই সামান্য তালগাছের প্রসঙ্গে তুমি আমার মাকে টেনে আনলে কেন? যাও! তালগাছ আমার চাইনে! ওটা তোমারই থাক! স্বামী: ও আচ্ছা, ...
ত্রিনির ক্ষোভ : রম্য সায়েন্স ফিকশন গল্প

ত্রিনির ক্ষোভ : রম্য সায়েন্স ফিকশন গল্প

রম্য রচনা
ধ্রুব নীল ঝিম মেরে ঋতু-চেম্বারে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী ত্রিনি। ঋতুচক্রের তেরটা বেজে গেছে বহু আগে। এখন পৌষেও বেয়াল্লিশ ডিগ্রি গরম। ভিআইপি লোকজন মাঝে মাঝে এসব চেম্বারে সময় কাটায়। ত্রিনি বসে আছেন বসন্ত চেম্বারে। হিম হিম বাতাসে নাম না জানা ফুলের কৃত্রিম গন্ধ। তবে আবহাওয়াটা ঠিক উপভোগ করতে পারছেন না। মনে শান্তি নাই। গতবছর চিন্তাভোটে জেতার পর প্রতিটা দিনই টেনশনে কাটছে। এর চেয়ে একশ বছর আগের ইভিএম ভোটই ভালো ছিল। একবার জেতার পর পাঁচ বছর নিশ্চিন্তে থাকো। এখন চিন্তাভোটের কারণে যখন তখন গদি হারাতে পারেন। ‘মাথার ভিতরে কী একটা ছাতার মাথা লাগাইসে, মনে মনে পছন্দ করলেই ভোট, না-পছন্দ করলেই রাস্তার ফকির। দেশে দুনিয়ার ভেজাল। কোনটা ছাইড়া কোনটা ঠিক করি।’ বিড় বিড় করলেন ত্রিনি। পুরনো আমলের নড়বড়ে সেক্রেটারি রোবট কৃবু-৩ এসে বলল, ‘স্যার, এআই মিনিস্ট্রি থেকে ফোন।’ কৃবুর হাত থেকে পরম যত্নে আইফোন ...
বিজ্ঞানী বজলুর খচখচানি

বিজ্ঞানী বজলুর খচখচানি

রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল : স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রকেট উড্ডয়ন ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়াতেই নস্টালজিক হয়ে গেলেন বিজ্ঞানী বজলু। ক্যাম্পাসে কত স্মৃতি! তাদের সময় এক হাজার তেপ্পান্ন টাকায় চা সিঙ্গাড়া পাওয়া যেত। এখনও সেই একই দাম। সিঙ্গাড়ার সাইজ ছোট হলেও সঙ্গে জিলুবিনিয়ামের সন্দেশ যোগ হয়েছে। চিনির চেয়ে বহুগুণ বেশি মিষ্টি জিলুবিনিয়াম ডায়াবেটিস রোগীরা অনায়াসে খেতে পারেন। বিজ্ঞানী বজলুর ডাক পড়েছে বিশেষ মহল থেকে। মানে বিশেষ রাষ্ট্রীয় মিশনে যেতে হবে। মিশনে যাওয়ার আগে খানিকটা ঘুরে বেড়ান বজলু। তবে আজ ঘোরাঘুরির মুড নেই। আন্তঃগ্যালাক্টি দুর্নীতির সূচকে পৃথিবীর অবস্থান ১৩তম। দুর্নীতি নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা নেই। ১৩ সংখ্যাটা নিয়েই যত আপত্তি। আর্থ কাউন্সিলের সভায় প্রতিনিধিদের ঘোর আপত্তি- বারো কিংবা বিশ তিরিশ হলেও কথা ছিল বাপু, গুনে গুনে ১৩-ই হতে হবে! ছে! ছে! কী অলক্ষুণে সূচকরে বাব...
ইসমিনির আইডিয়া

ইসমিনির আইডিয়া

রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের রম্য সায়েন্স ফিকশন ‘কম্পিউটারের গুষ্টি কিলাই।’ কথাটা শব্দ করে বলতে পারলেন না কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদ্য সাবেক প্রধান সিফরু খন্দকার। মনে মনে গজগজ করলে ক্ষতি নাই। তার মন পড়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ওরফে কেক’কে দেওয়া হয়নি। অবশ্য কাউন্সিলের সদ্য সাবেক প্রধানের মন পড়তে পারলেও কেক সেটাকে বিশেষ পাত্তা দিত না। কারণ তার গুষ্টির কেউ নেই। তার পূর্বপুরুষ কেক-৪১৯ সিরিজের কম্পিউটারটাকে আপডেট করেই তাকে বানানো হয়েছে। সুতরাং চাইলেই তার গুষ্টিকে কিলানো সম্ভব নয়। কিন্তু কেন কেক-এর গুষ্টি কিলাতে চাচ্ছেন এইমাত্র সাবেক হওয়া সিফরু খন্দোকার? কারণটা দ্বিতীয়বার জানাল কেক-৪২০। আরও ভদ্রোচিতভাবে, যেন বোঝাতে চাচ্ছেন কম্পিউটার হলেও সে চায় না সিফরুর মনে আঘাত দিতে। কম্পিউটার হলেও তার মাদারবোর্ড বেশ নরম। ‘জনাব সদ্য সাবেক কাউন্সিল প্রধান সিফরু, আপনার মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্র আমি নেটওয...
ভয়ানস্কির চ্যালেঞ্জ

ভয়ানস্কির চ্যালেঞ্জ

কিশোর গল্প, রম্য রচনা
কিশোরদের জন্য ধ্রুব নীলের মজার ভূতের গল্প দ্য ভৌতিক টাইমস পত্রিকাটা হাতে নিতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ভূতবিজ্ঞানী ভয়ানস্কির। প্রথম পাতায় বড় বড় করে লেখা। চাঁদের আলোর ভয়াবহ সঙ্কট আলোর পাশাপাশি বেশি করে আলু খান নিজস্ব ভূতাংদিক, পোড়াবাড়ির ছাদ থেকে: মানুষের তৈরি উঁচু উঁচু ভবনের আড়ালে আশঙ্কাজনক ভাবে ঢাকা পড়েছে চাঁদ। গত এক মাসে তাই চাঁদের আলোর দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি দশ টাকা। এ নিয়ে তিন দফা আলোর দাম বাড়লো। এ পরিস্থিতিকে ভূতাধিকারের চরম বিপর্যয় বলেছেন দেশের অন্যতম ভুতবিজ্ঞানী ভয়ানস্কি। তিনি আরো বলেছেন, ‘আমরা ভূতরা যদি মানুষের দেখাদেখি আলোর পরিবর্তে বেশি করে আলু খাওয়া শুরু করি, তাহলে খাদ্যসঙ্কট কিছুটা কমতে পারে।’ এটুকু পড়েই পত্রিকাটা ছুড়ে ফেললেন ভয়ানস্কি। ইদানীং কন্ধকাটাগুলোকে দিয়েই সংবাদ লেখানো হচ্ছে। মাথা থাকলে কি আর এসব হাস্যকর কথা লেখে! আলু খাওয়ার ব্যাপারটা ত...
নবম মাত্রার গোবট

নবম মাত্রার গোবট

কিশোর গল্প, রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল : ‘মহামান্য ভভু! সুপারটম্পিউটার টিটিটি বলেছে, সূর্যোদয়ের পরেই বিপর্যয় ঘটে যাবে। একটা গোবট বিগড়ে গেছে। সে নিজেকে ভূত ভাবতে শুরু করেছে!’ ধপধপে সাদা সিনথেটিক আলোর তৈরি উজ্জ্বল পোশাকে মহামান্য ভভু ওরফে ভয়ানস্কি ভুতোকভকে দেখাচ্ছে সন্ন্যাসীর মতো। ‘মামদোনিয়া, আজ কত তারিখ?’ ‘চব্বিশ অমাবস্যা তিন হাজার সাড়ে তেপ্পান্ন যোগ দুই সাল। কিন্তু মহান ভভু আপনি একটা কিছু..!’ ‘পৃথিবীতে আর মানুষ নেই তাই না?’ ‘না মহামান্য ভভু, সবাই অ্যান্ড্রোমিডার ঘুটাং গ্রহে চলে গেছে।’ ‘কিন্তু মানুষ না থাকলে কী করে হবে। এলিয়েনদের ভয় দেখানো তো ভূতদের কাজ নয়।’ ‘এই জন্যই তো আমরা গোবট তৈরি করেছি। আপনিই বলেছিলেন, মানুষ তার কাজের সুবিধার জন্য এককালে রোবট বানিয়েছে। আর আমরাও ভয় দেখাতে বানিয়েছি..।’ ‘তুমি বড্ড বেশি কথা বল মামদোনিয়া।’ ঘুরে দাঁড়ালেন ভয়ানস্কি। তার চোখে মুখে বেশ আমুদে ভাব। ক...
স্যোশাল এক্সপেরিমেন্ট

স্যোশাল এক্সপেরিমেন্ট

রম্য রচনা
ধ্রুব নীল: দুলাভাই রসিক মানুষ। সংসারি না। আমার মতে উনি অ্যাকসিডেন্টাল বিয়ের শিকার। বিষয়টা আপা জানতে পারলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যাবে। বাংলায় এর মানে ভীষণ কলহ। এটা তো ডেইলি রুটিন। সুতরাং ঘটনা তুলকালামের চেয়েও ভয়াবহ হবে। যখন যেটা মাথায় আসে, একচোট এক্সপেরিমেন্ট চালান দুলাভাই। সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও করতে হচ্ছে ব্যাংকের চাকরি। এ কারণে পাকস্থলীর গ্যাসের মতো এক্সপেরিমেন্টের বাসনা তার বুকের কাছে আটকে থাকে। বুকে পোষা পুরনো প্রেমের বেদনা নয় এটি। এ সুপ্ত বাসনা বারবার গলা চেপে ধরে, অস্থির করে তোলে। ‘শালাবাবু, চলো ভিডিও বানাই। ইউটিউব ভিডিও। লাখ লাখ টাকা কামাব।’ ‘আপনি আবার টাকার লোভে পড়লেন কবে?’ ‘না মানে এক্সপেরিমেন্টও হলো, আবার টু-পাইসও এলো।’ ‘লাখ থেকে টু-পাইসে নেমে এলেন। এরপর বলবেন, টাকাপয়সা হাতের ময়লা। ভিডিওই আসল।’ ‘একটা আইডিয়া এসেছে।’ আমি কল্পনায় তর্ক চালিয়ে...
ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

রম্য রচনা
মো. আশতাব হোসেন : ঝুমুর মিয়া অনেকটাই অলস, তার মধ্যে সবেমাত্র  বিয়ে করে নতুন বধূ ঘরে এনেছে । বউকেও তেমন কিছু দিতে পারে না। যা দরকার ঝুমুর মিয়ার বাবাই কিনে দেয় বউকে। সবারই একান্ত ব্যক্তিগত কিছুর দরকার হয়।  বউরাও স্বামীর কাছে কিছু আশা করে।  কিন্তু ঝুমুর মিয়ার কিছু দেওয়ার সাধ্য নেই। বাবার ঘাড়ে খায় এটাইতো বেশী। এসব দেখে  বউ একদিন ভাবে বাবা-মা কেমন অলস জামাই দেখে বিয়ে দিয়েছে! সে কিছুই কিনে দিতে পারে না! এর পর ঝুমুর মিয়াকে বলে এই শোনো, এমন করে বসে থাকলে ভবিষ্যৎ জীবন চলবে কেমনে?  কিছু একটা তো করো। ঝুমুর বলে কি আর করব!  আমার কাছেতো কোনো টাকা পয়সা নেই। বউ বলে আচ্ছা  আমার কাছে কিছু টাকা আছে সেটা দিয়ে ডিমের ব্যবসা করবে। গ্রাম থেকে ডিম কিনে তা বাজারে বিক্রি করবে।  বাজারেতো ডিমের হালি ৪০ টাকা, আর গ্রাম থেকে কিনতে পারবে ৩০টাকা।  তুমি ...