Saturday, August 30
Shadow

Author: webgolpo2024

লাল ফুল

লাল ফুল

কিশোর গল্প, জাদু-বাস্তবতা
ধ্রুব নীল : সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে এক এক করে বত্রিশ পর্যন্ত গুনে ফেলেছে অন্তু। তবু ঘুম আসার জো নেই। মাকড়সার ঝুলের ভেতর একটা নীল পোকা আটকে আছে। ওটার দিকে তাকিয়ে থাকলেও অন্তু ভাবছে অন্য কিছু। মনে মনে নিজের বয়স হিসেব করলো একবার। তিন হাজার চুয়ান্ন থেকে বাষট্টি সাল। কতো হলো? সাত নাকি আট পেরুলো? মনে মনে ধরে নিল এখন তার বয়স আট। তারমানে এখন তার একটা গোপন কুঠুরী থাকতে পারে। যেমনটা ছিল তার দাদার। দাদার কথা মনে পড়তেই আবার চিন্তা ঘিরে ধরলো অন্তুকে। দাদা মারা গেছেন পাঁচ দিন হলো। কিন্তু অন্তু দাদাকে কখনই ভুলতে পারবে না। দাদা তাকে বিশাল এক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একটা বাক্স পাহারা দেয়ার দায়িত্ব। ওটা আছে ঘরের পেছনের একটা কড়ই গাছের গোড়ায়। মাটির তলায়। ওটাই এখন অন্তুর গোপন কুঠুরী। তাই অন্য সবার মতো ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো গোপন কুঠুরীর সব ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে আসার তাগিদ অনুভব করলো অন্তু। ...
পিবিজ্ঞানী পিপি

পিবিজ্ঞানী পিপি

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : মানুষ যেমন নাছোড়বান্দা হয়, পিপি তেমনি নাছোড়পিপড়া। কিছুই ছাড়বে না সে। হাতের কাছে যা পাবে, তা’ই ধরে দেখবে। যদি নতুন একটা কিছু বানানো যায়! গতবছর এভাবে একটা মাটি খোঁড়ার বেলচা আর মোটর জুড়ে দিয়ে বানিয়ে ফেলেছিল আজব এক যন্ত্র। সবাই দারুণ প্রশংসা করেছিল পিপির। যন্ত্রটা দিয়ে এক সেকেন্ডের মধ্যে মাটি খুড়ে ভেতরে ঢুকে যাওয়া যায়। মানুষের পায়ের চাপ থেকে বাঁচার জন্য যন্ত্রটার জুড়ি নেই। যন্ত্রটার জন্য পিপি বছরের সেরা পিবিজ্ঞান পুরস্কার পেয়েছিল। মহল্লার রানী পিঁপড়া তাকে নিজ হাতে চিনির দানা খাইয়ে দিয়েছিলেন। আহা! সেই স্বাদ এখনো ভুলতে পারছে না পিপি। কিন্তু কী করবে, এ বছরে একটা নতুন আবিষ্কারও করতে পারেনি বেচারি। বসে বসে কেবল ভেবেছে আর ভেবেছে। তবে আজকে একেবারে মাথার দুটো শুঁড় বেঁধে নেমে পড়েছে পিপি। নতুন কিছু আবিষ্কার করেই ছাড়বে।সকাল থেকে পিপিকে খুঁজে পাচ্ছে না তার মা চি বেগম। মেয়েটা অল্পবয়সেই ...
অঙ্কপুরের গল্প

অঙ্কপুরের গল্প

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : মগডালে দুটো পা পেঁচিয়ে উল্টো হয়ে ঝুলে আছে ছোট্টা খোকা শূন্য। তার মারাত্মক মন খারাপ। আজকের ঝগড়াটা একটু একতরফা হয়ে গেছে। এক আর দুইয়ের সঙ্গে আজ একটুও পেরে ওঠেনি সে। দেখতে ছোট বলে এভাবে সবার সামনে অপমান করতে হবে? এক বলে কিনা, ‘তোর তো কোনো মান নেই, একেবারে অর্থহীন। তোর নামের মানে বুঝিস? এক্কেবারে ফাঁকা। ফাঁকা মানে ফক্কা, ফক্কা মানে জিরো, জিরো মানে শূন্য।’ তার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে হতচ্ছাড়ি দুই। বেণী দুলিয়ে বলে, ‘তুই যে কেন আছিস তা তুই নিজেও জানিস না। এই আমাকেই দেখ না! সবচে ছোট মৌলিক সংখ্যা আমি, সবাই আদর করে। তুই তো অংকই না।’ মন খারাপ হলেই শূন্য গাছের ডালে পা আটকে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। একদম স্থির। কেউ বুঝতেই পারে না। আজও তাই ঝুলে আছে। ঝুলতে ঝুলতে শূন্য ভাবছে তার শৈশবের কথা। তাকে অংকপুরে এনে দিয়েছিল আর্যভট্ট নামের এক ভারতীয় গণিতবিদ। তারপর গোটা বিশ্বে সেকি হই চই। তার কারণ...

লেখক মোতাব্বির বনাম অন্তু

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : ‘ছেলেটার নাম অন্তু। বয়স তের কি চৌদ্দ। কিন্তু ভাব দেখে মনে হবে তেইশ চব্বিশ। এক নামে সবাই চেনে। বখাটে বলেও ডাকে কেউ কেউ। লম্বা একটা লাল শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়। লম্বা শার্টের সঙ্গে মাঝে মাঝে হাফ প্যান্ট পরে। চুল এলোমেলো। সম্ভবত তার মা-বাবা কেউ নেই। আমি তাকে প্রতিদিন দেখি। বিকেলে মাঠের এককোণে একদল টোকাইয়ের সঙ্গে বসে বসে বাদাম খায় সে। গ্রামে এমন কেউ নেই, যাকে সে জ্বালিয়ে মারেনি। তবে তার চোখেমুখে সবসময় একটা কিং.. কিং.. কিং..।’ -       কী লিখসেন এইডা? ওই মিয়া কী লিখসেন এইহানে। -       কিংকর্তব্যবিমূড় হবে ওটা। হেহেহে। মানে কী করবে তা ভেবে না পাওয়াকে বলে কিং..। -       হেইডা কী, খায় না মাতায় পিন্দে। আপনে তো আসলেই একটা কিলিকবাজ। -       কী বাজ? ...
স্বাধীনতার তরে

স্বাধীনতার তরে

কবিতা
আসাদুজ্জামান খান মুকুল বাংলা আমার জন্মভূমি বাংলা আমার ভাষা, এই দেশেতে বসত করে মিটাই সকল আশা। আমার দেশে শাসন করে পাকশাসকে এসে, মায়ের ইজ্জত হরণ করে হত্যা করে শেষে। দীর্ঘ বছর করতে শাসন করে তারা ফন্দি, জুলুমবাজের অত্যাচারে বাংলা তখন বন্দি! মুখের ভাষা কেড়ে নিতে  পণ করে যে তারা, বাঙালি তাই প্রতিরোধে হচ্ছে পাগলপারা! বীরবাঙালি স্বাধীন হতে  অস্ত্র হাতে নিলো, বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বিজয় এনে দিলো। যাঁদের ত্যাগে পেলাম আমরা স্বাধীন স্বদেশ ভূমি, শ্রদ্ধাতে হই মাথা নতো তাঁদের চরণ চুমি! স্বাধীনতায় খুশির বীণ আজ বাজে হৃদয় মাঝে! লাল সবুজের পতাকাটা উড়ে সকাল-সাঁঝে। বাংলা এখন স্বাধীনরাষ্ট্র  সকলেই তা মানে, স্বনির্ভর এক দেশ হিসাবে বিশ্ববাসী জানে। গ্রাম- সাভার  পোস্ট - হেমগঞ্জ বাজার  উপজেলা - নান্দাইল জেলা - ময়মনসিং...

রোজা রাখবে খোকা খুকি 

ছড়া
নার্গিস আক্তার  রমজানের ঐ চাঁদ উঠল হেসে  খোকা খুকি খুশি  রোজা রাখবে খোকা খুকি  সেহরী খাবে বেশি।  ছোটবেলায় আকাশে চাঁদ  উঠতো যখন ভেসে  ঘুম পড়তাম না সারারাত  রোজা রাখব হেসে।  মায়ে- বাবা বলতেন ডেকে  ভাত খাও তিন বেলা  একদিনে রোজা হবে তিনটা  কেটে যেত  বেলা। খুশির আনন্দে দিন হত শেষ  এই ছিল রোজার খেলা প্লেট ভরে খাবার নিতাম  ভোর রাতের বেলা। গোপালগঞ্জ, ইসলাম পাড়া, বাংলাদেশ ...
মা আসিয়া!

মা আসিয়া!

সামাজিক গল্প
রকিবুল ইসলাম ও মা! মাগো!ও মা আসিয়া!তাহলে এটাই ছিল তোমার মনে?ছেড়েই যদি যাবে বেলা শেষে,মিছিমিছি পাষাণ হৃদয়কেও কেন হার মানালে!কেন তোমার জন্য কাঁদবে গোটা জাতি?এরা তো বর্বর! এরা তো নরপশু,পাষণ্ড!আইয়ামে জাহেলিয়াত তুমি তো দেখনি, আমরাও দেখিনি।তবে, তোমার সাথে হলো যেটা, এদের কাছে,,,ওই বর্বর যুগও বোধকরি হার মেনেছে।তুমি তো মারা যাওনি মাগো!মওলার উদ্দেশ্যে তোমার এই স্বর্গীয় যাত্রা নাড়া চিরকাল দিয়ে যাবে,অক্ষিপুঞ্জ নি:সৃত নোনা জলের অঝোর ধারা কিছু মনুষত্বহীন সীমারের মরুময় বুকে উপহার দিয়ে গেলে।এই বিবেক বিসর্জিত জাতিকে চিরকাল অপরাধী তুমি করে গেলে।তোমার অতৃপ্ত আত্মার দোঁহায়!ক্ষমা করো না মা এদেরকে।এরা যেন এহেন পৈশাচিক সুখ নিয়ে সারাটি জীবন গুমড়ে কেঁদে মরে।ভয়াল সেই বিচারের দিন ঘনাবার পূর্বেই বার বার যেন দাহ হয় দোজখের অসহনীয় অনলে।ওদের আত্মা, ওদের বিবেক যেন ওদেরকে ক্ষমা না করে।ভালো থেকো মা চিরনিদ...
রমেশ ও দুর্গাপূজা

রমেশ ও দুর্গাপূজা

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন : ভারতের পশ্চিম কলকাতার বাসিন্দা কার্তিক। স্ত্রী সুবাসিনী, ছোট বোন পুষ্পরেণু, যাকে সংক্ষেপে সবাই পুষ্প বলে ডাকে। বিধবা মা, নির্ঝরীণি আর চার বছরের ছেলে রমেশকে নিয়ে কার্তিকের পাঁচ সদস্যের একটা সুখের সংসার।  দুর্গাপূজা প্রায় এসে গেছে। আর তাই ছোট্ট ছেলে রমেশ তার মা-বাবার কাছে বায়না ধরেছে এবার দূর্গা-পূজা সে বাংলাদেশে গিয়ে তার ঠাকু -মা আর ঠাকু-দার সাথে করবে। একটা কথা আগেই বলে রাখা ভালো। রমেশের বাবা কার্তিক ভারতের বাসিন্দা হলেও তার মা- সুবাসিনী রায় এর জন্মস্থান হলো বাংলাদেশের যশোর জেলায়। বাংলাদেশে রমেশ এর বাবা কার্তিকের বাবা-ঠাকু-দার সূত্র ধরে বহু আত্মীয় স্বজন রয়েছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকবছর আগে কার্তিক পাঁচফুট ভিসা করে বেড়াতে গিয়ে ছিলো বাংলাদেশে আত্মীয়ের বাসায়। আর এসেই প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিল কার্তিক রমেশের মা- সুবাসিনীর রায়ের।ঠিক কাঁচা হলুদের মতো য...

বিরহী ফাগুন 

কবিতা
আসাদুজ্জামান খান মুকুল গগনে গগনে ফাগুনের বাণী  বাগানে ফুলের ডালি. সাথীহারা মনে শূন্যতা তবু রয়ে যায় এক ফালি। ফুলে ফুলে কতো সেজেছে ফাগুন  সুর ঝংকার বাজি, বিরহীর প্রাণ করে আনচান  সখা যে এলোনা আজি! পলাশ ফুলের রাঙ্গা আগুনে  পুড়ে দুখিনীর বুক, মৌ বনে অলি ফুলের বিহারে বেড়ে যায় আরো দুখ! রাখালের বাঁশি দূর মাঠে  বাজে কত সুমধুর সুরে, বিরহীর মনে বিষাদ লহরী  সখা আছে বহু দূরে! যার তরে কাঁদে সেই মথুরায় শুনেনি যে তার কথা, বসন্ত প্রেম ঝাপটিয়ে মরে বুঝাবে সে কারে ব্যথা! নান্দাইল, ময়মনসিংহ...

রঙিন স্পন্দন

কবিতা
তাসনিম মীম শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে এলো নতুন পল্লব  কুঁড়ি ও ফুলের মেলা,   চারিদিকে আজ রঙ্গিন বসন্তের শোভা।  গাছে গাছে নতুন পাতা  শিমুল পলাশের লাল আভা, শিহরিত করে  মন কৃষ্ণচূড়ার ঐ লাল দোলনা।  বসন্ত মানেই জীবনের স্পন্দন  প্রকৃতির নবজাগরণ,  গান ও কবিতার মোড়ক উন্মোচন  ভালোবাসা ও কাঙ্খিত স্বপ্নের  যেন পুনরুজ্জীবন।  বসন্ত মানেই প্রকৃতির ক্যানভাসে রঙের ছোঁয়া,  জীবনের প্রতিটি কোনায় কোনায় নতুন আলোর আশা।  পলাশের আগুন আর কোকিলের গান,  সৌরভ আর মৃদুমন্দ বাতাসে  কবিতা ফিরে পায় নতুন প্রাণ। রং, গন্ধ, সুর আর স্পর্শ, বসন্ত যেন  জীবনের সবটুকু আনন্দের এক মহামিলনক্ষেত্র। কৃষ্ণচূড়ার মতো স্বপ্নগুলো হয়ে উঠুক রঙ্গিন  কোকিলের সুরের মতো প্রতিটা জীবন হোক সুরেলা এটাই...