Sunday, November 30
Shadow

কিশোর গল্প

This section will contain stories for juvenile readers. এই বিভাগে থাকবে কিশোর বয়সীদের গল্প

বর্ষার দিনে ভিজতে মজা

বর্ষার দিনে ভিজতে মজা

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন  মুষলধারে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি থামার নাম গন্ধ নেই। বৃষ্টি নেমেই যাচ্ছে। চারপাশ বৃষ্টির জলে ভরে যাচ্ছে।খাল বিল, নদী, নালা সব কিছুই পানিতে  টইটম্বুর। দেখতে ও ধারুণ লাগে।বৃষ্টি এলে বৃষ্টিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারে না বাপ্পি। বাপ্পি বারান্দার খুঁটি ধরে আছে। কখন গোসল করতে নামবে একবার নেমেই গেলো। দারুণ মজা হচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজে। বাপ্পির দেখা দেখি নেমে গেলো বাপ্পির চাচাত বোন শিশু শ্রেণির ছাত্রী মুসলিমা। বাড়িতে টিনের ঘর আছে। টিনের চালের পানি একসাথে বেশি করে পড়ে। অনেকটা ঝরনার পানির মতো। উপর থেকে কে জানি পানি ঢালতেই থাকে এমন। প্রবল বৃষ্টি। টিনের চালের পানির ধারা ও প্রবল। মুসললিমা আর বাপ্পি সেই ধারাতে গোসল করছে। সে এক অন্য রকম অনুভূতি এমন বৃষ্টির ধারায় গোসল করা। পাহাড়ি ঝরনার জলে গোসল করার স্বাদ।  কাকন ও নেমে গেলো গোসল করার জন্য। কাকন মুসললিমার একমাত্র ভাই। বাপ...
বাংলা সায়েন্স ফিকশন গল্প: এখন কিংবা

বাংলা সায়েন্স ফিকশন গল্প: এখন কিংবা

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
এখন কিংবা...। সায়েন্স ফিকশন গল্পটি লিখেছেন ধ্রুব নীল । তৈয়ব আখন্দ ভুলোমনা। নিজেও জানেন বিষয়টা। অফিসের অর্ধেকটা পথ এসে তার মনে পড়লো তিনি মহাগুরুত্বপূর্ণ একটা ফাইল মেসে ফেলে এসেছেন। রোজ হেঁটে অফিসে যান। কারণ তার ডায়াবেটিস। রোগটার সঙ্গে ভুলে যাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। প্রায়ই ডায়াবেটিসের কথা বলে পার পেয়ে যান। আজ সেই উপায় নেই। ফাইল না নিয়ে গেলে চাকরি থাকবে না। চাকরি গেলেও ফাইলটা অফিসে পৌঁছে দিতে হবে। তৈয়ব ভাবছেন অফিসে গিয়ে আবার বাসায় চলে আসবেন, নাকি চট করে রিকশা নিয়ে ফিরে যাবেন। ভাবতে ভাবতে রমনা পার্কের পাশের ফুটপাতে দাঁড়ালেন। পানওয়ালার কাছ থেকে পান নিয়ে চিবুতে শুরু করলেন। ‘কী মশাই গাছের পাতায় এনার্জি আছে? বেশ বেশ।’ আগন্তুককে দেখে পাগল কিসিমের মনে হলো না। চেহারাটা অদ্ভুত। একবার এক রকম লাগছে। কখনও চওড়া চিবুক, কখনও গোলগাল তেলতেলে, আবার কখনও পুরনো আমলের মাস্তানদ...
তেঁতুল গাছের ভূত

তেঁতুল গাছের ভূত

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন গ্রামের এক কোণে ছিল একটা পুরোনো তেঁতুল গাছ। লোকমুখে প্রচলিত ছিল, এই গাছে ভূতেরা বাস করে। সন্ধ্যা নামলেই কেউ আর ঐ পথ মাড়াত না। বড়রা বলত, ওই গাছের নিচে গেলে শাঁকচুন্নি ধরে নিয়ে যাবে। শিশুদের ভেতর এই গল্প বলে ভয়  জাগাত।শিশুরাও ভয় পেত। ছোট্ট রাফি ছিল অন্য রকম। সে খুব কৌতূহলী আর সাহসী ছেলে। ভূতের গল্প শুনে ভয় পেত ঠিকই, কিন্তু ভাবত, ভূতেরা কি সত্যিই খারাপ? তারা কি আমাদের মতো কেউ, না অন্য কিছু? মানুষ সবচেয়ে বুদ্ধিমান। মানুষ ওদের ভয় পাবে কেন? একদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে রাফি ঠিক করল, সে গাছটা দেখতে যাবে। মায়ের চোখ এড়িয়ে সে সোজা হেঁটে গেল তেঁতুল গাছের দিকে। সূর্য তখন ডুবে যাচ্ছে, চারদিকে হালকা আঁধার। তবুও রাফির বুক কাঁপল না। গাছটার নিচে গিয়ে সে বলল, হ্যালো, তেঁতুল গাছের ভূত? তুমি কেমন আছো? একটা নরম, বাতাসের মতো শব্দ শোনা গেল, তুমি ভয় পাচ্ছো না? রাফি...
শেয়ালমারা পালোয়ান 

শেয়ালমারা পালোয়ান 

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন  স্কুল ছুটি হয় চারটা পনেরতে। বাইকে চেপে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে চারটে বাজে। সেদিনও তাই হলো। বাড়ি ঢুকতেই বউ গরম গরম খবর দিলো, শুনছো, পাশের বাড়ির সঞ্জয় দাশের ছেলেকে শেয়াল কামড়েছে। আমি তো হতভম্ব। বউ জানাল, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে টীকা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। সঞ্জয়ের ভাইস্তে যখন প্রথম দেখেছিল, তখন বাচ্চাটাকে বাঁচাতে গিয়ে সেও শেয়ালের আক্রমণের শিকার হয়। ভাগ্যিস লোকজন দৌড়ে এসে বাঁচালো, নাহলে হালুয়া হয়ে যেত! শেষমেশ হৈচৈয়ের মাঝে শেয়ালটা প্রাণ বাঁচাতে একটা ঘরে ঢুকেছিল, কিন্তু গ্রামের লোকজন ধাওয়া করে মেরে ফেললো। শেয়ালটির অকাল ইন্তেকাল হলো বটে, কিন্তু গ্রামজুড়ে যেন এক উৎসব শুরু হয়ে গেল। কেউ বলছে, আমাদের গ্রাম তো বেশ সাহসী! শেয়াল ধরে মেরেছে। কিন্তু যে দুঃখী সঞ্জয় দাশের দুই বছরের ছেলেটাকে কামড়ে দিয়েছে, সেটা যেন সকলে ইচ্ছ...
বুড়ো দাদুর যাদুকরী ছাতা 

বুড়ো দাদুর যাদুকরী ছাতা 

কিশোর গল্প
মামুন সরকার একটা ছোট্ট গ্রামে থাকতেন বুড়ো এক দাদু । দাদু ছিলেন খুব দয়ালু আর বুদ্ধিমান। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল একটা ছাতা। ছাতাটা তাঁর সঙ্গী হিসেবে সব সময় সাথে থাকে। ছাতাটা ছিল একটু পুরানো, লাল রঙের। শিশুদের হাসি আনন্দ তাঁর খুব প্রিয়। রাস্তা ঘাটে শিশুদের খেলতে দেখলে বুড়ো দাদু বলতেন, “এই ছাতাটা আমার যাদুকরী ছাতা।” দাদুর কথায় শিশুদের মনে বেশ কৌতূহল জাগে। ছাতার মধ্যে আবার জাদু আছে? এক শিশু ফোকলা দাঁত বের করে বলে, তা দাদু, তোমার ছাতার মধ্যে কী জাদু আছে আমাদের একটু দেখাও না।  দাদু একগাল হেসে বলেন, দেখাব, নিশ্চয়ই দেখাব। এক শরতের বিকাল। হঠাৎ করে আকাশে মেঘ জমল। সূর্যকে ঢেকে মেঘের ছায়া পড়েছে খেলার মাঠে। বাতাসে সাদাকালো মেঘরাশি তুলোর মত উড়ছে। সবাই ভাবল, বৃষ্টি হবে। বুড়ো দাদু ছাতা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মাঠে এলেন। উড়ন্ত মেঘ থেকে হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। দাদু একটা...
ভয়ানস্কির চ্যালেঞ্জ

ভয়ানস্কির চ্যালেঞ্জ

কিশোর গল্প, রম্য রচনা
কিশোরদের জন্য ধ্রুব নীলের মজার ভূতের গল্প দ্য ভৌতিক টাইমস পত্রিকাটা হাতে নিতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ভূতবিজ্ঞানী ভয়ানস্কির। প্রথম পাতায় বড় বড় করে লেখা। চাঁদের আলোর ভয়াবহ সঙ্কট আলোর পাশাপাশি বেশি করে আলু খান নিজস্ব ভূতাংদিক, পোড়াবাড়ির ছাদ থেকে: মানুষের তৈরি উঁচু উঁচু ভবনের আড়ালে আশঙ্কাজনক ভাবে ঢাকা পড়েছে চাঁদ। গত এক মাসে তাই চাঁদের আলোর দাম বেড়েছে লিটারপ্রতি দশ টাকা। এ নিয়ে তিন দফা আলোর দাম বাড়লো। এ পরিস্থিতিকে ভূতাধিকারের চরম বিপর্যয় বলেছেন দেশের অন্যতম ভুতবিজ্ঞানী ভয়ানস্কি। তিনি আরো বলেছেন, ‘আমরা ভূতরা যদি মানুষের দেখাদেখি আলোর পরিবর্তে বেশি করে আলু খাওয়া শুরু করি, তাহলে খাদ্যসঙ্কট কিছুটা কমতে পারে।’ এটুকু পড়েই পত্রিকাটা ছুড়ে ফেললেন ভয়ানস্কি। ইদানীং কন্ধকাটাগুলোকে দিয়েই সংবাদ লেখানো হচ্ছে। মাথা থাকলে কি আর এসব হাস্যকর কথা লেখে! আলু খাওয়ার ব্যাপারটা ত...
নবম মাত্রার গোবট

নবম মাত্রার গোবট

কিশোর গল্প, রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল : ‘মহামান্য ভভু! সুপারটম্পিউটার টিটিটি বলেছে, সূর্যোদয়ের পরেই বিপর্যয় ঘটে যাবে। একটা গোবট বিগড়ে গেছে। সে নিজেকে ভূত ভাবতে শুরু করেছে!’ ধপধপে সাদা সিনথেটিক আলোর তৈরি উজ্জ্বল পোশাকে মহামান্য ভভু ওরফে ভয়ানস্কি ভুতোকভকে দেখাচ্ছে সন্ন্যাসীর মতো। ‘মামদোনিয়া, আজ কত তারিখ?’ ‘চব্বিশ অমাবস্যা তিন হাজার সাড়ে তেপ্পান্ন যোগ দুই সাল। কিন্তু মহান ভভু আপনি একটা কিছু..!’ ‘পৃথিবীতে আর মানুষ নেই তাই না?’ ‘না মহামান্য ভভু, সবাই অ্যান্ড্রোমিডার ঘুটাং গ্রহে চলে গেছে।’ ‘কিন্তু মানুষ না থাকলে কী করে হবে। এলিয়েনদের ভয় দেখানো তো ভূতদের কাজ নয়।’ ‘এই জন্যই তো আমরা গোবট তৈরি করেছি। আপনিই বলেছিলেন, মানুষ তার কাজের সুবিধার জন্য এককালে রোবট বানিয়েছে। আর আমরাও ভয় দেখাতে বানিয়েছি..।’ ‘তুমি বড্ড বেশি কথা বল মামদোনিয়া।’ ঘুরে দাঁড়ালেন ভয়ানস্কি। তার চোখে মুখে বেশ আমুদে ভাব। ক...
ভয়ানস্কির সিনেমা

ভয়ানস্কির সিনেমা

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : লাইট! ক্যামেরা! অ্যাকশন! ‘অ্যাঁ, ইয়ে মানে, আঁমাদের এঁকন কী কঁরতে হবে? ইয়ে অ্যাঁ, হ্যাঁ মনে পড়েচে, আমাদের শাকচুন্নিকে উদ্দার করতে যেঁতে অঁবে..’ ‘কাট!’ চেঁচালে ভয়ানস্কির তিনটি চোখই ইঞ্চি দুয়েক ফুলে যায়। তাকে দেখতে তখন প্রাগৈতিহাসিক রাক্ষসদের মতো মনে হয়। ‘মামদো! কত্তোবার বলেছি! নো নাকি নাকি ভয়েস! নিজেকে হিমেশ ভাবা শুরু করেছ? নো! এসব চলবে না! আই নিড অ্যাক্টিং! সিরিয়াস অভিনয় করতে হবে! বুঝলে!’ মামদো বেচারার আর কী দোষ। পড়াশোনা বেশি করেনি। তাই উচ্চারণে একটু আধটু ত্র“টি রয়ে গেছে। তারপরও দেখতে কিছুটা ভয়ংকর বলে ভয়ানস্কি তাকে নায়কের রোল না দিয়ে পারলেন না। ‘দেখ মামদো! শেষবারের মতো বলছি, তোমাকে ডায়ালগ দিতে হবে। ভাবতে হবে, যা ঘটছে তা সত্যি ঘটছে। নিজেকে সত্যি সত্যি ভলিউডের মহানায়ক সর্বভুক খান ভাবতে হবে। আন্ডারস্ট্যান্ড? চুপ কেন! বুঝেছ!’ মামদো চিন্তায় পড়...
ভূতের ভয়

ভূতের ভয়

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল: অতীতের সোনালী দিনের স্মৃতিগুলো নাকের তিন নম্বর ফুটো দিয়ে অনায়াসে ফুরুৎ করে উড়িয়ে দিতে পারেন ভয়ানস্কি। তাই নতুন করে প্ল্যান করতে তার কষ্ট হয় না। আগে ছিলেন ভুতুড়ে প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এখন হাউমাউ কোচিং সেন্টারের প্রধান ও একমাত্র শিক্ষক। তিন জন ছাত্র। তিনটে বাচ্চা ভূত। চিকু বিকু নিকু। তারা এসেছে ভয় দেখানো শিখতে। মানুষকে ভয় দেখাতে না পারলে মা শাকচুন্নি তাদের খাওয়া বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভয়ানস্কির ওপর তাই গুরুদায়িত্ব। কুসুমপুর গ্রামের সুপ্রাচীন বটগাছের ঠিক মাঝ বরাবর একটা মোটা ডালের ওপরই গোটা ক্লাসরুম। একপাশে ভয়ানস্কির বসার মতো আরেকটা ডাল। তার পেছনে মিনি ডিজিটাল ডিসপ্লে। ভয়ানস্কির নিজস্ব আবিস্কার ওটা। ঐ ডিজিটাল যন্ত্রটার কারণেই ভয়ানস্কি তার বিজ্ঞাপনে লিখেছিলেন, ‘এখানে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ভয় দেখানো শেখানো হয়।’ রাত দশটা পার হত...
আকাশের পাখিরা

আকাশের পাখিরা

কিশোর গল্প
আলমগীর কবির : আকাশ পাখি ভালোবাসে।পাখিদের জন্য ওর মনে অনেক মায়া।ওদের বাসায় অনেক পোষা কবুতর আছে। আকাশ একটু অবসর পেলেই ছুটে যায় কবুতরগুলোর কাছে। খাবার দেয়। জল দেয়। গল্প করে সময় কাটায় তাদের সাথে।  কবুতরগুলোও কত সুন্দর। মায়াবী! কিন্তুু কেন এতো ভালোবাসে  সে পাখিদের?  তার গল্প আছে একটা। তখন সে ক্লাস ফোরে পড়ত।বাবাকে বলে দুইটি ঘুঘু পাখি কিনে নিয়েছিল পোষার জন্য। অনেক যত্ন করত সে পাখি দুটির।তবু একটি পাখি এক ঝড়ের রাতে মারা যায়। আকাশের মনে অপরাধ বোধ কাজ করে তারপর থেকে।  অন্য পাখিটিকে সে সেদিনেই মুক্ত করে দিয়েছিল। সেই থেকে পাখিদের প্রতি তার বড় বেশি মায়া।  আকাশ তাদের উঠোনে বসে আছে। উঠোনের পাশে সারি সারি খেজুরের গাছ।খেজুরের রস খেতে বুলবুলি, শালিক পাখিরা ছুটোছুটি করছে। একটু দূরে নারকেল গাছে কাকদের আনাগোনা।  আকাশ মায়ের কাছ থেকে চাল ...