Thursday, January 15
Shadow

Author: webgolpo2024

শীতে কাবু  বিড়াল ছানা

শীতে কাবু  বিড়াল ছানা

ছড়া
সাঈদুর রহমান লিটন শীতের দিনে বিড়াল ছানা  খাটের পরে আসে, আমরা যখন শুয়ে পড়ি শু'বে কারো পাশে।  লেপের ভিতর ভাগ বসাবে থাকে পায়ের কোণে, আচ্ছা করে ধমক দিলেও কারো কথা না শোনে।  চুপটি মেরে শুয়ে থাকে থাকে নয়ন বুজে, এমন করে শুয়ে থাকে কেউ আর না পায় খুঁজে।  গায়ে থেকে লেপ সরিলে কাতর স্বরে ডাকে, গায়ে তাহার লেপ পড়িলে ঠাণ্ডা হয়ে থাকে।  গ্রামঃ জগন্নাথদী পোঃ ব্যাসদী গাজনা  উপজেলাঃ মধুখালী জেলাঃ ফরিদপুর ...
ত্রিনির ক্ষোভ : রম্য সায়েন্স ফিকশন গল্প

ত্রিনির ক্ষোভ : রম্য সায়েন্স ফিকশন গল্প

রম্য রচনা
ধ্রুব নীল ঝিম মেরে ঋতু-চেম্বারে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী ত্রিনি। ঋতুচক্রের তেরটা বেজে গেছে বহু আগে। এখন পৌষেও বেয়াল্লিশ ডিগ্রি গরম। ভিআইপি লোকজন মাঝে মাঝে এসব চেম্বারে সময় কাটায়। ত্রিনি বসে আছেন বসন্ত চেম্বারে। হিম হিম বাতাসে নাম না জানা ফুলের কৃত্রিম গন্ধ। তবে আবহাওয়াটা ঠিক উপভোগ করতে পারছেন না। মনে শান্তি নাই। গতবছর চিন্তাভোটে জেতার পর প্রতিটা দিনই টেনশনে কাটছে। এর চেয়ে একশ বছর আগের ইভিএম ভোটই ভালো ছিল। একবার জেতার পর পাঁচ বছর নিশ্চিন্তে থাকো। এখন চিন্তাভোটের কারণে যখন তখন গদি হারাতে পারেন। ‘মাথার ভিতরে কী একটা ছাতার মাথা লাগাইসে, মনে মনে পছন্দ করলেই ভোট, না-পছন্দ করলেই রাস্তার ফকির। দেশে দুনিয়ার ভেজাল। কোনটা ছাইড়া কোনটা ঠিক করি।’ বিড় বিড় করলেন ত্রিনি। পুরনো আমলের নড়বড়ে সেক্রেটারি রোবট কৃবু-৩ এসে বলল, ‘স্যার, এআই মিনিস্ট্রি থেকে ফোন।’ কৃবুর হাত থেকে পরম যত্নে আইফোন ...
তোমাদের জন্য কারিকুলাম : রম্য সায়েন্স ফিকশন গল্প

তোমাদের জন্য কারিকুলাম : রম্য সায়েন্স ফিকশন গল্প

সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল ‘মিল্কিওয়ে, অ্যান্ড্রোমিডা, ক্যানিস গ্যালাক্সির হে মহান অধিপতি, আপনার শেষ উপদেশ আমি ভুলিনি জনাব। আপনি বলেছিলেন মামাউসি গ্রহের কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় না দিতে। আমরা দিয়ে ফেলেছি। তাদের দেখাদেখি আমরা আমাদের কারিকুলাম বদলে ফেলেছিলাম। বই থেকে বারোতম মাত্রার সুপার কোয়ান্টাম স্পেস-বাবল টানেলিং বলবিদ্যা বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে এই গ্যালাক্সির একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহ পৃথিবীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম...।’ ‘আরে রাখো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম! বর্তমান প্রজন্ম কী ঘোড়ার ডিম বানাইয়া ফেলতাসে! তোমরা একটা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটন কণা পর্যন্ত বানাইতে পারো না। তোমাদের বিশেষ শিক্ষার দরকার কী? সবাই ঢালাওভাবে মহাকাশের ইতিহাস পড়ো। বিসিএস (বায়োসিনাপটিক কসমোলজিক্যাল সায়েন্স) পরীক্ষায় আসবে নয়নতারা গ্যালাক্সি কবে তৈরি হয়েছিল, আন্ত-গ্যালাক্টিক নিরাপত্তা কমিটির সদরদপ্তর কোথায়—এসব হাবিজাবি শেখো। কোয়ার্কট্রনিকস বিদ্যা...
বাংলা সায়েন্স ফিকশন গল্প: এখন কিংবা

বাংলা সায়েন্স ফিকশন গল্প: এখন কিংবা

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
এখন কিংবা...। সায়েন্স ফিকশন গল্পটি লিখেছেন ধ্রুব নীল । তৈয়ব আখন্দ ভুলোমনা। নিজেও জানেন বিষয়টা। অফিসের অর্ধেকটা পথ এসে তার মনে পড়লো তিনি মহাগুরুত্বপূর্ণ একটা ফাইল মেসে ফেলে এসেছেন। রোজ হেঁটে অফিসে যান। কারণ তার ডায়াবেটিস। রোগটার সঙ্গে ভুলে যাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। প্রায়ই ডায়াবেটিসের কথা বলে পার পেয়ে যান। আজ সেই উপায় নেই। ফাইল না নিয়ে গেলে চাকরি থাকবে না। চাকরি গেলেও ফাইলটা অফিসে পৌঁছে দিতে হবে। তৈয়ব ভাবছেন অফিসে গিয়ে আবার বাসায় চলে আসবেন, নাকি চট করে রিকশা নিয়ে ফিরে যাবেন। ভাবতে ভাবতে রমনা পার্কের পাশের ফুটপাতে দাঁড়ালেন। পানওয়ালার কাছ থেকে পান নিয়ে চিবুতে শুরু করলেন। ‘কী মশাই গাছের পাতায় এনার্জি আছে? বেশ বেশ।’ আগন্তুককে দেখে পাগল কিসিমের মনে হলো না। চেহারাটা অদ্ভুত। একবার এক রকম লাগছে। কখনও চওড়া চিবুক, কখনও গোলগাল তেলতেলে, আবার কখনও পুরনো আমলের মাস্তানদ...
দু:খ-সুখের ফেরীওয়ালা

দু:খ-সুখের ফেরীওয়ালা

কবিতা
রকিবুল ইসলাম দু:খ-সুখের ফেরী করি, কষ্ট,দুঃখ বিকি কিনি। ভুবন মাঝের  হাট-বাজারে, সুখকে বেচে দুঃখ কিনি। নানান রঙের সুখ আছে, বেছে নিতে এসো সবে‌। দিতে হবেনা কোন কড়ি, নিবে মোর সুখকে হরি। ভবের হাটে শান্তি বিকিয়ে, অশান্তি সব উপার্জন করি। দু:খ-সুখের ফেরীওয়ালা হয়ে, আশা বেচি নিরাশার বিনিময়ে।
অন্তিম যাত্রার আয়োজন

অন্তিম যাত্রার আয়োজন

কবিতা
রকিবুল ইসলাম ৩০.১০.২৫ অমাবস্যার ঘোর অমানিশায় বিনিদ্র নিম রজনীর নিঃসীম ঘন,গাঢ় আঁধারে  খুঁজেছি হারিয়ে যাওয়া, দু-স্মৃতির আড়ালে তলিয়ে যাওয়া  তোমায় দৃষ্টির নিভু নিভু প্রদীপ জ্বেলে। পাইনি কোথাও তোমায়,পাইনি তোমার ছায়াকে। পাইনি আমার আলেয়ার আলোকেও। নিঃসঙ্গ,অসহায়,একলা আমি হাঁতড়ে বেড়িয়েছি জীবনের ডায়েরী থেকে  হারিয়ে যাওয়া ধূসর,মুছে যাওয়া কত স্নৃতির! পারিনি ব্যর্থ আমি!  পারিনি,আমাতে জড়িয়ে থাকা  তোমাকে আমা হতে ভিন্ন,আলাদা করতে! পারিনি,দু'হাতে সরিয়ে দিতে  আমার চারপাশে অক্টোপাশের মত আষ্টে-পিষ্টে আঁকড়ে থাকা শত-সহস্র কষ্টের জাল ছিন্ন করতে! নিরাশার ধূ ধূ বালুচরে ডুবে যেতে থাকা আশা-আকাঙ্ক্ষারাও ভয় পায় এখন  আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে। সারথিহীন স্বপ্নরা এখন আর ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়ায় না ঐ অসীম গগনত...
শরৎ রাতে 

শরৎ রাতে 

ছড়া
শাহীন খান  শরৎ  রাতে ঘুম আসে না চোখে ইচ্ছে করে যাই হারিয়ে দূরে মনটা মাতাই রাখাল বাঁশির সুরে যে যা বলে বলুক পাড়ার লোকে।  শরৎ রাতে তারার সাথে খেলি জোনাক পোকা থাকে না নিশ্চুপ রূপকাহিনি গল্প শুনি খুব  পরির সাথে ভাবের পাখা মেলি।  শরৎ রাতে জোছনা ঢালে চাঁদ গুনগুনিয়ে ওঠে আমার মন মনকে বলি পাগলা আমার শোন প্রকৃতির কাছে নেনা আর্শীবাদ। শরৎ রাতে শিউলি বেলীর ঘ্রাণ ঘ্রাণে ঘ্রাণে উদাস আমার মন বুকের ভেতর কি যে আলোড়ন গাছের তলে চায় যে যেতে প্রাণ।  শরৎ রাতে হঠাৎ মেঘের ডাক পুলকিত হৃদয় আমার ফের বৃষ্টি এলে সুখটা আমাদের সজীব হবে ফুল ফসল আর শাক।  ।।।।।।।। বানারীপাড়া  বরিশাল ...
তেঁতুল গাছের ভূত

তেঁতুল গাছের ভূত

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন গ্রামের এক কোণে ছিল একটা পুরোনো তেঁতুল গাছ। লোকমুখে প্রচলিত ছিল, এই গাছে ভূতেরা বাস করে। সন্ধ্যা নামলেই কেউ আর ঐ পথ মাড়াত না। বড়রা বলত, ওই গাছের নিচে গেলে শাঁকচুন্নি ধরে নিয়ে যাবে। শিশুদের ভেতর এই গল্প বলে ভয়  জাগাত।শিশুরাও ভয় পেত। ছোট্ট রাফি ছিল অন্য রকম। সে খুব কৌতূহলী আর সাহসী ছেলে। ভূতের গল্প শুনে ভয় পেত ঠিকই, কিন্তু ভাবত, ভূতেরা কি সত্যিই খারাপ? তারা কি আমাদের মতো কেউ, না অন্য কিছু? মানুষ সবচেয়ে বুদ্ধিমান। মানুষ ওদের ভয় পাবে কেন? একদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে রাফি ঠিক করল, সে গাছটা দেখতে যাবে। মায়ের চোখ এড়িয়ে সে সোজা হেঁটে গেল তেঁতুল গাছের দিকে। সূর্য তখন ডুবে যাচ্ছে, চারদিকে হালকা আঁধার। তবুও রাফির বুক কাঁপল না। গাছটার নিচে গিয়ে সে বলল, হ্যালো, তেঁতুল গাছের ভূত? তুমি কেমন আছো? একটা নরম, বাতাসের মতো শব্দ শোনা গেল, তুমি ভয় পাচ্ছো না? রাফি...
শেষ ট্রেনের অপেক্ষা

শেষ ট্রেনের অপেক্ষা

রোমান্টিক ছোটগল্প
মামুন সরকার কমলাপুর স্টেশন রাত প্রায় ১১টা। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের বাতিগুলো হলদে পাতার মত ঝাপসা। ক্ষণে ক্ষণে বৈরী বাতাসে বৃষ্টির ছাঁট এসে যাত্রীদের গায়ে লাগছে। প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য মানুষের আনাগোনা।  এদিক সেদিক দৌড় ছুট করছে। কিছু তরুণ যুবা দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে উঠানামা করছে।আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে ভ্রাম্যমান টোকাইয়ের কাছ থেকে চা সিগারেট পান করছে। গরম চায়ের ধোঁয়া আর সিগারেটের গন্ধ মিলেমিশে অদ্ভুত একটা পরিবেশ। ভেজা রেললাইন ঝিকমিক করছে ট্রেনের হেডলাইটের আলোয়। একটা ট্রেন ধীর লয়ে  ঢুকে চার নম্বর প্লাটফর্মে, আরেকটা ছেড়ে যায় ছয় নম্বর থেকে।রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে প্লাটফর্মের পিলার ঘেষে এক কোণে। তার ট্রেন রাত বারোটায়। রুদ্র যাবে রাজশাহী। হাতের  ব্যাগটা পায়ের কাছে রেখে চারদিকে চোখ ঘোরায়, একহাতে ধরা পুরনো মুঠোফোন। শরীরে পালস ধীরে চললেও বুকের ভিতর ক...
শেয়ালমারা পালোয়ান 

শেয়ালমারা পালোয়ান 

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন  স্কুল ছুটি হয় চারটা পনেরতে। বাইকে চেপে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে চারটে বাজে। সেদিনও তাই হলো। বাড়ি ঢুকতেই বউ গরম গরম খবর দিলো, শুনছো, পাশের বাড়ির সঞ্জয় দাশের ছেলেকে শেয়াল কামড়েছে। আমি তো হতভম্ব। বউ জানাল, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে টীকা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। সঞ্জয়ের ভাইস্তে যখন প্রথম দেখেছিল, তখন বাচ্চাটাকে বাঁচাতে গিয়ে সেও শেয়ালের আক্রমণের শিকার হয়। ভাগ্যিস লোকজন দৌড়ে এসে বাঁচালো, নাহলে হালুয়া হয়ে যেত! শেষমেশ হৈচৈয়ের মাঝে শেয়ালটা প্রাণ বাঁচাতে একটা ঘরে ঢুকেছিল, কিন্তু গ্রামের লোকজন ধাওয়া করে মেরে ফেললো। শেয়ালটির অকাল ইন্তেকাল হলো বটে, কিন্তু গ্রামজুড়ে যেন এক উৎসব শুরু হয়ে গেল। কেউ বলছে, আমাদের গ্রাম তো বেশ সাহসী! শেয়াল ধরে মেরেছে। কিন্তু যে দুঃখী সঞ্জয় দাশের দুই বছরের ছেলেটাকে কামড়ে দিয়েছে, সেটা যেন সকলে ইচ্ছ...