Sunday, November 30
Shadow

Author: webgolpo2024

শেয়ালমারা পালোয়ান 

শেয়ালমারা পালোয়ান 

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন  স্কুল ছুটি হয় চারটা পনেরতে। বাইকে চেপে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে চারটে বাজে। সেদিনও তাই হলো। বাড়ি ঢুকতেই বউ গরম গরম খবর দিলো, শুনছো, পাশের বাড়ির সঞ্জয় দাশের ছেলেকে শেয়াল কামড়েছে। আমি তো হতভম্ব। বউ জানাল, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে টীকা দেওয়া হয়েছে। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। সঞ্জয়ের ভাইস্তে যখন প্রথম দেখেছিল, তখন বাচ্চাটাকে বাঁচাতে গিয়ে সেও শেয়ালের আক্রমণের শিকার হয়। ভাগ্যিস লোকজন দৌড়ে এসে বাঁচালো, নাহলে হালুয়া হয়ে যেত! শেষমেশ হৈচৈয়ের মাঝে শেয়ালটা প্রাণ বাঁচাতে একটা ঘরে ঢুকেছিল, কিন্তু গ্রামের লোকজন ধাওয়া করে মেরে ফেললো। শেয়ালটির অকাল ইন্তেকাল হলো বটে, কিন্তু গ্রামজুড়ে যেন এক উৎসব শুরু হয়ে গেল। কেউ বলছে, আমাদের গ্রাম তো বেশ সাহসী! শেয়াল ধরে মেরেছে। কিন্তু যে দুঃখী সঞ্জয় দাশের দুই বছরের ছেলেটাকে কামড়ে দিয়েছে, সেটা যেন সকলে ইচ্ছ...
বুড়ো দাদুর যাদুকরী ছাতা 

বুড়ো দাদুর যাদুকরী ছাতা 

কিশোর গল্প
মামুন সরকার একটা ছোট্ট গ্রামে থাকতেন বুড়ো এক দাদু । দাদু ছিলেন খুব দয়ালু আর বুদ্ধিমান। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল একটা ছাতা। ছাতাটা তাঁর সঙ্গী হিসেবে সব সময় সাথে থাকে। ছাতাটা ছিল একটু পুরানো, লাল রঙের। শিশুদের হাসি আনন্দ তাঁর খুব প্রিয়। রাস্তা ঘাটে শিশুদের খেলতে দেখলে বুড়ো দাদু বলতেন, “এই ছাতাটা আমার যাদুকরী ছাতা।” দাদুর কথায় শিশুদের মনে বেশ কৌতূহল জাগে। ছাতার মধ্যে আবার জাদু আছে? এক শিশু ফোকলা দাঁত বের করে বলে, তা দাদু, তোমার ছাতার মধ্যে কী জাদু আছে আমাদের একটু দেখাও না।  দাদু একগাল হেসে বলেন, দেখাব, নিশ্চয়ই দেখাব। এক শরতের বিকাল। হঠাৎ করে আকাশে মেঘ জমল। সূর্যকে ঢেকে মেঘের ছায়া পড়েছে খেলার মাঠে। বাতাসে সাদাকালো মেঘরাশি তুলোর মত উড়ছে। সবাই ভাবল, বৃষ্টি হবে। বুড়ো দাদু ছাতা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মাঠে এলেন। উড়ন্ত মেঘ থেকে হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। দাদু একটা...

নদী ও শূন্যতা

কবিতা
হাসান মাহমুদ নদী শুকিয়ে যায়, জেগে উঠে চর, শূন্যতার হাহাকার আমার ভিতর। নিঃশব্দ এখানে জোছনা ও জলের গান, হু হু করে কেঁদে উঠে বিরহির প্রাণ। জল হারালে যেমন মরে পাথারের আশ্রয়, বিরহী প্রাণের তেমনি হচ্ছে ক্ষয়। নদীর শূন্যতা করে হাহাকার— শুনতে কি পাও গভীরের সে চিৎকার? ঢেউয়ের মতো স্মৃতি আসে, আবার মিলায় দূরে, মনের ভেতর জাগে ব্যথা, করুন সেই সুরে। জোছনা ও জলের মিলন, জোয়ারে ভরে নদী, শান্ত হতো বিরহীর প্রাণ, ভালোবাসতে যদি। শুকনো নদী আমার মতো, বুকের ভেতর তারও ক্ষত, জোছনা-জলের মিলন হবে—বিরহ আমার অবিরত।।...
মন চায়

মন চায়

কবিতা
আব্দুস সাত্তার সুমন মন চায় দুরন্ত ঘোড়া হতেছুটে চলা বাতাসের মতো ছুটতে,মন চায় পাখির মত উড়তেউড়ন্ত পাখির মত ডানা মেলে ঘুরতে। মন চায় শীতল স্রোতে ভাসতেমন চায় প্রাণ খুলে হাসতে,মন চায় মেঠো পথে চলতেমন চায় প্রাণ খুলে বলতে। মন চায় আকাশের মেঘে ভাসিমন চায় অচিনপুরের থাকি দিবানিশি,মন চায় ফুলকে ভালোবাসিমনে চায় নাতিশীতোষ্ণ হতো বারোমাসি। মন চায় যুগ যুগান্তরে একই সাথে থাকিমন চায় শিশির ভেজা পরশ সকালে মাখি,মন চায় সুন্দরকে ধরে রাখিমন চায় প্রভু প্রেমে আমি শুধু ডাকি। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাংলাদেশ...
ভালোবাসার আবির

ভালোবাসার আবির

রোমান্টিক ছোটগল্প
সাবরিনা তাহ্সিন মৃদুলা বেশ ভালো কবিতা আবৃত্তি করে।সে যখন কবিতা আবৃত্তি করে ,তখন যেন এক সুরের মূর্ছনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।"উদীচী নাট্যদল" এর সহ-সংগঠন " সুরের আলপনা " যেখানে আবৃত্তি চর্চা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।মৃদুলা " সুরের আলপনা " থেকে আবৃত্তি প্রশিক্ষণ নেয়।তারপর কোনো না কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও মৃদুলা বেশ পরিচিত মুখ। সেই সুবাদে আবির নামে এক ব্যাক্তি মৃদুলাকে মেসেঞ্জারে নক দেয়।মৃদুলা প্রথমে পাত্তা দেয় না।তারপর ঐ ব্যক্তি যখন আবেগীয় কিছু কবিতার লাইন লেখে ,তখন মৃদুলা একটু ঐ ব্যাক্তির সাথে কথা বলতে আগ্রহী হয়। ( রোমান্টিক গল্প ভালোবাসার আবির ) মৃদুলা লেখে ," বাহ্ ,অনেক সুন্দর কবিতা লিখেন তো আপনি ।"আবির বলে ," এইতো ,একটু চেষ্টা করি আর কী ।আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগছে।আপনার ব্যাপারে অনেক জানি। আপনিও অনেক ভালো কবিতা আবৃত্তি করেন।"মৃদুলা বল...
অসহায়

অসহায়

সামাজিক গল্প
প্রায় দশ লাখ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে আমার বিয়ে হলো একটা এনজিওতে কর্মরত শহীদ নামক একজনের সাথে, বাবা-মায়ের টাকা গেলেও তারা এখন ভারমুক্ত কারন আমার মতো কালো বর্নের কুশ্রী চেহারার একটা মেয়ের সারা জীবনের জন্য একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছেলেটার চাকরী অত্যন্ত সাধারণ, খুব কম আয় তাতে অবশ্য আমার বাবা-মায়ের কিছুই যায় আসে না, তারা বোঝা নামিয়েছেন। ( সামাজিক গল্প ) আমার স্বামী শহীদ দেখতে আহামরি তেমন কিছু না, বোনের বিয়ে হয়ে গেছে , বাবা মা রা গেছে বছর সাতেক আগে , মা তার সঙ্গেই থাকেন। বিয়ের এক মাসের মাথাতেই আমি বুঝে গেলাম আমার প্রতি তার কোন আগ্রহ নেই ,আগ্রহ যতটুকু ছিল ওই দশ লাখ টাকার উপরে তাই এতদিন হয়তো আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে আর এখন পান থেকে চুন খসলেই যাচ্ছে তাই ব্যবহার করে এমনকি তুই-তোকারি করে, গা'লিগালা*জ তো বাদই দিলাম। সামাজিক গল্প অসহায় কিছুদিন পর দেখলাম ও অন্য রুমে শুচ...
এই যে দুনিয়া

এই যে দুনিয়া

কবিতা
      নার্গিস আক্তার  এই যে দুনিয়া কেউ কারো নয়। মিথ্যা এই দুনিয়া চলছে বাতাসে। মানুষ ঘুরতে বাতাসের তালে থাকিবে না বাতাস যেতে হবে দুনিয়া ছেড়ে। পড়ে রইবে মাটির ঐ অন্ধকার ঘরে। যাবেনা কিছু তোমারি সঙ্গে। পড়ে থাকবে তোমার দুনিয়াদারি। মাটির দেহ ধরবে ঘুনে পচে যাবে সারা শরীর। দেখিবে না কেউ থাকিবে না কেউ পাশে। এই যে দুনিয়া মিছা দুনিয়া সময় যাচ্ছে যে চলে ঘড়ির কাটার মতো। সময় থাকতে করো তোমরা দুনিয়াদারি। নার্গিস আক্তার  গোপালগঞ্জ, ইসলাম পাড়া বাংলাদেশ...
বিজ্ঞানী বজলুর খচখচানি

বিজ্ঞানী বজলুর খচখচানি

রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল : স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রকেট উড্ডয়ন ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়াতেই নস্টালজিক হয়ে গেলেন বিজ্ঞানী বজলু। ক্যাম্পাসে কত স্মৃতি! তাদের সময় এক হাজার তেপ্পান্ন টাকায় চা সিঙ্গাড়া পাওয়া যেত। এখনও সেই একই দাম। সিঙ্গাড়ার সাইজ ছোট হলেও সঙ্গে জিলুবিনিয়ামের সন্দেশ যোগ হয়েছে। চিনির চেয়ে বহুগুণ বেশি মিষ্টি জিলুবিনিয়াম ডায়াবেটিস রোগীরা অনায়াসে খেতে পারেন। বিজ্ঞানী বজলুর ডাক পড়েছে বিশেষ মহল থেকে। মানে বিশেষ রাষ্ট্রীয় মিশনে যেতে হবে। মিশনে যাওয়ার আগে খানিকটা ঘুরে বেড়ান বজলু। তবে আজ ঘোরাঘুরির মুড নেই। আন্তঃগ্যালাক্টি দুর্নীতির সূচকে পৃথিবীর অবস্থান ১৩তম। দুর্নীতি নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা নেই। ১৩ সংখ্যাটা নিয়েই যত আপত্তি। আর্থ কাউন্সিলের সভায় প্রতিনিধিদের ঘোর আপত্তি- বারো কিংবা বিশ তিরিশ হলেও কথা ছিল বাপু, গুনে গুনে ১৩-ই হতে হবে! ছে! ছে! কী অলক্ষুণে সূচকরে বাব...
ইসমিনির আইডিয়া

ইসমিনির আইডিয়া

রম্য রচনা, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের রম্য সায়েন্স ফিকশন ‘কম্পিউটারের গুষ্টি কিলাই।’ কথাটা শব্দ করে বলতে পারলেন না কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদ্য সাবেক প্রধান সিফরু খন্দকার। মনে মনে গজগজ করলে ক্ষতি নাই। তার মন পড়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ওরফে কেক’কে দেওয়া হয়নি। অবশ্য কাউন্সিলের সদ্য সাবেক প্রধানের মন পড়তে পারলেও কেক সেটাকে বিশেষ পাত্তা দিত না। কারণ তার গুষ্টির কেউ নেই। তার পূর্বপুরুষ কেক-৪১৯ সিরিজের কম্পিউটারটাকে আপডেট করেই তাকে বানানো হয়েছে। সুতরাং চাইলেই তার গুষ্টিকে কিলানো সম্ভব নয়। কিন্তু কেন কেক-এর গুষ্টি কিলাতে চাচ্ছেন এইমাত্র সাবেক হওয়া সিফরু খন্দোকার? কারণটা দ্বিতীয়বার জানাল কেক-৪২০। আরও ভদ্রোচিতভাবে, যেন বোঝাতে চাচ্ছেন কম্পিউটার হলেও সে চায় না সিফরুর মনে আঘাত দিতে। কম্পিউটার হলেও তার মাদারবোর্ড বেশ নরম। ‘জনাব সদ্য সাবেক কাউন্সিল প্রধান সিফরু, আপনার মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্র আমি নেটওয...
কৃ : রোমান্টিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস

কৃ : রোমান্টিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস

রোমান্টিক ছোটগল্প
ধ্রুব নীলের ফ্যান্টাসি রোমান্টিক উপন্যাস ১ পাশের বাড়ির ছাদে এক রূপবতী হেঁটে বেড়াচ্ছে এবং আমি তার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে আছি। মেয়েটাকে দেখে একবারও মনে হলো না যে আমার স্ত্রী রেশমা এ অবস্থায় আমাকে দেখলে দুচার কথা শুনিয়ে দেবে। মনে হলো মেয়েটার দিকে এভাবেই তাকিয়ে থাকতে পারবো। অনন্তকাল না হোক, আপাতত অফিস কামাই করা যায়। কারণ ছাদের মেয়েটা অবিকল লুনার মতো। অবিকল কথাটা বাড়িয়ে বলিনি। চোখ, কান বা নাকে নয় শুধু। যমজদের মতো হুবহু মিল! তবে একটা বড় কিন্তু আছে। যে কিন্তুটার জন্য আমার তাকিয়ে থাকার ধরনটা ছিল হ্যাংলা। মেয়েটা দেখতে অবিকল পনের বছর আগের লুনার মতো। এখনকার লুনার মতো নয়। মানে মেয়েটা যে লুনাই হতে পারে সেটাও সম্ভব নয়। কারণ লুনা মারা গেছে তের বছর আগে। সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা। মহাবিশ্ব মানেই রহস্যের ছড়াছড়ি। ইলেকট্রনের দুই রকম আচরণ, কোয়ান্টাম এনটেঙ্গলমেন্ট, স্পেস-ট...