Friday, August 29
Shadow

Author: webgolpo2024

স্যোশাল এক্সপেরিমেন্ট

স্যোশাল এক্সপেরিমেন্ট

রম্য রচনা
ধ্রুব নীল: দুলাভাই রসিক মানুষ। সংসারি না। আমার মতে উনি অ্যাকসিডেন্টাল বিয়ের শিকার। বিষয়টা আপা জানতে পারলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যাবে। বাংলায় এর মানে ভীষণ কলহ। এটা তো ডেইলি রুটিন। সুতরাং ঘটনা তুলকালামের চেয়েও ভয়াবহ হবে। যখন যেটা মাথায় আসে, একচোট এক্সপেরিমেন্ট চালান দুলাভাই। সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও করতে হচ্ছে ব্যাংকের চাকরি। এ কারণে পাকস্থলীর গ্যাসের মতো এক্সপেরিমেন্টের বাসনা তার বুকের কাছে আটকে থাকে। বুকে পোষা পুরনো প্রেমের বেদনা নয় এটি। এ সুপ্ত বাসনা বারবার গলা চেপে ধরে, অস্থির করে তোলে। ‘শালাবাবু, চলো ভিডিও বানাই। ইউটিউব ভিডিও। লাখ লাখ টাকা কামাব।’ ‘আপনি আবার টাকার লোভে পড়লেন কবে?’ ‘না মানে এক্সপেরিমেন্টও হলো, আবার টু-পাইসও এলো।’ ‘লাখ থেকে টু-পাইসে নেমে এলেন। এরপর বলবেন, টাকাপয়সা হাতের ময়লা। ভিডিওই আসল।’ ‘একটা আইডিয়া এসেছে।’ আমি কল্পনায় তর্ক চালিয়ে...
আলীকদম জিপ সার্ভিস

আলীকদম জিপ সার্ভিস

রোমান্টিক ছোটগল্প
মুহাম্মদ এলমুল বাহার : লম্বা পাহাড়ের পাশঘেঁষা বিলের মাঝে ৪টা সেমিপাকা ঘর। এই ৪টা ঘর নিয়েই এই বাড়িটা। বাড়ির পাশঘেঁষে সরু আইলের মতো একটা রাস্তা চলে গেছে। আইলের একপাশে জমিতে কলমি শাকের চাষ হয়েছে, অন্যপাশে ধান। সেই রাস্তা দিয়ে একটু হাঁটলেই আলীকদম পানবাজার। রাস্তার সাথে লাগানো ঘরটাতে চোখে চশমা দেওয়া, মুখভর্তি দাঁড়িওয়ালা হ্যাংলা করে যে ছেলেটা আছে তার নাম জাবির আর লম্বা করে গোলগাল চেহেরার মেয়েটা জোহরা। ওরা স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে করেছে কয়েকমাস হলো। বছর দেড়েক প্রেম করে বিয়ে করে পালিয়ে এসেছে। শহরের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে প্রেমনদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই পাহাড়ের কিনারায় এসে তরী ভিড়িয়েছে দু'জনে। তাদের ভালোবাসা দুই পরিবারের কোনো পরিবারই মেনে নেয়নি। মেনে নেবেই বা কেন? যে সমাজে কিনা প্রেম করা অন্যায় সেখানে তারা শুধু প্রেম করেই ক্ষান্ত হয়নি, নিজেদের ধর্ম ছেড়ে দুইজনেই চলে এসেছে ইস...
জীবনের টানে লবণ জলে

জীবনের টানে লবণ জলে

সামাজিক গল্প
মোখলেছুর রহমান : আকাশের রং হলদেটে হয়ে উঠছে। এখনই সূর্য উঠবে। দূর দিগন্তময় বিস্তৃত ফসলের মাঠ। মৃদু বাতাস বয়ে চলেছে, যা মনের মধ্যে  প্রশান্তির এক উন্মাদনা সৃষ্টি করে তুলছে। কৃষকেরা মাঠে আসছে কাজের জন্য। কিন্তু তাদের মুখগুলো আর হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত নেই। তারা যেনো তাদের সোনালী ফসলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে আর ভালোবাসেন না। তাদের সমস্ত চিন্তা ধারা যেনো হঠাৎ বিচিত্র গোলক ধাঁধায় ঢুকেছে। তারা এই গোলক ধাঁধা থেকে মুক্তি চাই। নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষকের ইচ্ছা গুলি আজ উদ্দেশ্যবিহীন, লক্ষ্য অকেজো এবং অর্থহীন হয়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব আমাদের মতো দেশের সাধারন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে অসহায়ত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কৃষি নির্ভর পরিবারের ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। তাদের উপার্জন দরকার, তাদেরক...
আকাশের পাখিরা

আকাশের পাখিরা

কিশোর গল্প
আলমগীর কবির : আকাশ পাখি ভালোবাসে।পাখিদের জন্য ওর মনে অনেক মায়া।ওদের বাসায় অনেক পোষা কবুতর আছে। আকাশ একটু অবসর পেলেই ছুটে যায় কবুতরগুলোর কাছে। খাবার দেয়। জল দেয়। গল্প করে সময় কাটায় তাদের সাথে।  কবুতরগুলোও কত সুন্দর। মায়াবী! কিন্তুু কেন এতো ভালোবাসে  সে পাখিদের?  তার গল্প আছে একটা। তখন সে ক্লাস ফোরে পড়ত।বাবাকে বলে দুইটি ঘুঘু পাখি কিনে নিয়েছিল পোষার জন্য। অনেক যত্ন করত সে পাখি দুটির।তবু একটি পাখি এক ঝড়ের রাতে মারা যায়। আকাশের মনে অপরাধ বোধ কাজ করে তারপর থেকে।  অন্য পাখিটিকে সে সেদিনেই মুক্ত করে দিয়েছিল। সেই থেকে পাখিদের প্রতি তার বড় বেশি মায়া।  আকাশ তাদের উঠোনে বসে আছে। উঠোনের পাশে সারি সারি খেজুরের গাছ।খেজুরের রস খেতে বুলবুলি, শালিক পাখিরা ছুটোছুটি করছে। একটু দূরে নারকেল গাছে কাকদের আনাগোনা।  আকাশ মায়ের কাছ থেকে চাল ...
খোকার ঈদ

খোকার ঈদ

কিশোর গল্প
মো. আশতাব হোসেন : কোরবানি ঈদের চাঁদ দেখে চঞ্চলের খুশির সীমা নেই।  ঈদের আর ক'দিন বাকি আছে চঞ্চল প্রতিনিয়ত গুণতেই আছে । তার অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না।  ইতোমধ্যেই তার বাবা মজিদ সরকার চঞ্চলের ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিয়েছে। চঞ্চল তার বন্ধু বান্ধবদের ডেকে এনে নতুন পোশাকগুলি দেখায় রোজ রোজ। কেউ যদি বলে, বাহ্! তোমার পোশাকগুলি অসাধারণ হয়েছে। তাহলে তার  খুশির সীমা থাকে না।পাশের বাড়ির এক বয়স্ক মহিলা যাকে চঞ্চলসহ তার বয়সী সকল ছেলেমেয়েরা দিদা বলে ডাকে, তাকে হাত ধরে নিয়ে আসে চঞ্চল তার নতুন পোশাক দেখানোর জন্য। বুড়ি তো ঠিকমতো চোখেই  দেখে না বয়সের ভারে। কিন্তু ছোট চঞ্চল এতোকিছু বুঝে না। সে পোশাক বের করে বলে, ' দিদা, আমার ঈদের পোশাকগুলি কেমন হয়েছে দেখো তো? দিদা হাতে নেড়ে নেড়ে চঞ্চলের জিন্সের প্যান্ট দেখে বলে,  'বেশতো চঞ্চল,  খুব মোটা আছে। শীতের মধ্যে আরাম হবে, শীত লাগবে না  তোর।' এর...
মায়ের মুখ 

মায়ের মুখ 

ছড়া
অপু বড়ুয়া  আমার যত স্বপ্ন আশা  আমার যত বুকের ভাষা  জীবন জুড়ে আমার যত  সুখের কলরব  সবই আমার মাকে নিয়ে  মাকে নিয়েই সব।  আমি যখন পদ্য লিখি  যখন করি গান  তালপুকুরে হল্লা পরে  যখন করি স্নান।  তখন আমার হৃদয়জুড়ে  থাকে মায়ের মুখ  মা-ই আমার নিত্যদিনের  স্বপ্ন সোহাগ সুখ। ...
মায়ের পরশ

মায়ের পরশ

কবিতা
আব্দুস সাত্তার সুমন  মায়ের পরশ মিষ্টি মিষ্টি ভীষণ ভালো লাগে, মায়ের আঁচল বুকের ভেতর অনুভূতি জাগে। মায়ের ঘ্রাণ শীতল করে মনের ভিতর ব্যথা, আদর মাখা হাতটি দিয়ে বুলায় যখন মাথা। আব্বু আম্মু বলে ডাকে আঁকড়ে ধরে যখন, মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে রাখে শান্তি পাই তখন। পরশ দিয়ে আগলে রাখে পূর্ণ করে চাওয়া, মা হলে স্বর্গ মনি বেহেস্ত থেকে পাওয়া। মায়ের পরশ সবার সেরা তুলনা যে নাই, মায়ের মত এই জগতে পরশ কোথায় পাই?...
খুকির ঋণ

খুকির ঋণ

ছড়া
জাকির সেতু happy smiling father and daughter dancing পড়ছে খসে মুক্তা মণি  পড়ছে খসে হার পড়ছে খসে পাখির ডানা রুখবে সাধ্য কার! অন্ধকারে শুয়ে আছে আমার ছোট্ট আলো সুখের ঘুমে এই ধরাতে আছে সে যে ভালো! কেমন করে কাটাই আমি সুখের রাত্রি দিন বিষণ্নতা ভরে গেছে, তোমার দেওয়া ঋণ।  যোগাযোগ- জাকির সেতু  গ্রাম : নাগডেমরা  উপজেলা : সাথিয়া  জেলা : পাবনা ...
সায়েন্স ফিকশন গল্প : বিরিন্তা

সায়েন্স ফিকশন গল্প : বিরিন্তা

সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প -- বাংলা সন ১৪০১। পাঁচই ফাল্গুন। তৈয়ব আখন্দ বিব্রতকর অবস্থায় উঠোনে বসে আছে। হুরাসাগর নদীতে কী করে মরতে মরতে দশ কেজি সাইজের বোয়াল মাছ ধরেছে সেই গল্প শুনছিল হারু মাঝির কাছ থেকে। মাঝি চলে গেল। রেখে গেল নিরবতা। তৈয়ব গেল মেয়ের পড়ার টেবিলের দিকে। পুরো বাড়িতে বাপ-মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই। মেয়েটাও শব্দ করে পড়ে না। সন্ধ্যা হতেই ঝপ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নীরবতা নেমে আসে শোলাকুড়ি গ্রামের পুরনো বনেদি ধাঁচের টিনশেডের বাড়িটায়। বাড়িটা তৈয়বের নয়। বাড়ির মালিক তার স্ত্রী আফরিন নাহার। ঝগড়া যতবার হতো, সে-ই চলে যেত রাগ করে। পাশের নরিল্লা গ্রামে বড় ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠত। ‘বিচিত্র ব্যাপার। তোর মা আমাকে বের করে দিলেই পারে। দুনিয়ার সব অঙ্ক ডাইলভাত, সংসারের অঙ্ক মিলাইতে গেলে চক্কর লাগে। এখন তারে আবার তার বাড়িতে ডাইকা আনা লাগবে।’ ‘বাবা, মিষ্টি কুমড়া...
হেলদি ক্লাবের হুলস্থূল

হেলদি ক্লাবের হুলস্থূল

কিশোর গল্প
জুয়েল আশরাফ : পদ্মপুর গ্রামের স্কুলে একটা আজব ক্লাব ছিল—'হেলদি ক্লাব'। এই ক্লাবের সদস্যরা ছিল বিশাল একদল দুষ্টু ছেলেমেয়ে, আর তাদের নেতা ছিল বোকা রাজু! রাজু মোটেও স্বাস্থ্য সচেতন ছিল না। ওর খাবারের লিস্টে থাকত—চিপস, চকোলেট, আইসক্রিম, আর কোল্ড ড্রিংকস। একদিন, হেডস্যার স্কুলের সব ছাত্রকে ডেকে বললেন, এবার থেকে স্কুলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য 'হেলদি ক্লাব' তৈরি করা হবে! ক্লাবের নেতা হবে রাজু! রাজুর চোয়াল ঝুলে গেল। ওর মাথায় শুধু চকোলেট ঘুরছিল, আর এখানে তাকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে? কিন্তু হেডস্যার আরও ঘোষণা দিলেন, যে দল সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করবে, তাদের জন্য থাকবে স্পেশাল পুরস্কার! এটা শুনেই রাজুর চোখ চকচক করে উঠল! রাজু ভাবল, পুরস্কার তো চাই, কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন? নাহ, এটা কঠিন! তাই ও এক ধূর্ত বুদ্ধি আঁটল! ওর বন্ধুরা—সুমন, টুকুন, আর পল্টু সব...