Thursday, January 15
Shadow

Author: webgolpo2024

সায়েন্স ফিকশন গল্প : পঞ্চতন্ত্র

সায়েন্স ফিকশন গল্প : পঞ্চতন্ত্র

জাদু-বাস্তবতা, থ্রিলার গল্প, সায়েন্স ফিকশন
লেখক: প-লয়ে-লয়-ব পুরানো রেডিও টার ব্যাক কভার খুলে পার্টস গুলো টেবিলের উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিয়ে বসে আছে পিয়াস। এটা তার বাবার রেডিও।  একবার বিদেশ ঘুরে আসার সময় নিয়ে এসেছিলেন। এটা দিয়েই যুদ্ধের সময় সারাক্ষণ কান পেতে থাকতেন নাকি। এটা অবশ্য শোনা কথা। তখন তো পিয়াসের জন্মই হয়নি। এখন অবশ্য এটা নষ্ট। ইলেকট্রনিকস এর প্রতি পিয়াসের খুব আগ্রহ। কিছু একটা পেলেই খুলে ভেঙ্গে দেখে, এলোমেলো জোড়াতালি দিয়ে দেখে কি হয়। তাদের বাসার কাছেই মেশিন কাক্কুর টিভি সারাইয়ের দোকান। বিকেলে খেলতে না গিয়ে পিয়াস মেশিন কাক্কুর দোকানে গিয়ে বসে থাকে। মেশিন কাক্কু বাবার বন্ধু। উনি নাকি যে কোন মেশিনই ঠিক করে ফেলতে পারেন। তার নাম মহাসিন মিয়া। বাবা তাকে মেশিন মিয়া ডাকেন আর পিয়াস ডাকে মেশিন কাক্কু। উনি অবশ্য এতে রাগ করেন না বরং পিয়াস তার পাশে বসে থেকে এটা সেটা জানতে চায় বলে তিনি খুব খুশি হন। একবার তো ব...
সায়েন্স ফিকশন গল্প : পিন্টু

সায়েন্স ফিকশন গল্প : পিন্টু

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল ‘স্যারের মেজাজ আজ কড়া। আপনি আরেকদিন আসুন। অনুগ্রহ করে আপনার পরবর্তী আসার দিন আমাকে বলুন। আমার নোট সিস্টেমে সব রেকর্ড থাকবে।’ আধুনিক ফ্ল্যাটের বড় ড্রয়িং রুমে আসবাব তেমন নেই। হালকা শব্দে ঘরময় ধীরলয়ে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বাজছে। সাউন্ডবক্স দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে পুরো ড্রয়িং রুমটাই গান গাচ্ছে। মিলির বসে থাকতে বরং ভালই লাগছে। পিএইচডির খসড়া পেপারটায় এই ফাঁকে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারবে। সামনে সটান বসে থাকা বক্তার দিকে না তাকিয়েই বলল, ‘স্যার আসুক। আমি না হয় অপেক্ষা করি।’ ‘ঠিকাছে, আপনি অপেক্ষা করুন। আমি কি আপনার জন্য আরেক কাপ কফি আনবো? তাহলে চিনির পরিমাণ বলুন। আপনি কি ব্ল্যাক কফি খাবেন?’ রোবটিক কথা শুনে অবাক হলো না মিলি। কারণ তার সঙ্গে যে কথা বলছে সে একটা রোবট। প্রফেসর শশাঙ্ক ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী রোবট পিন্টু। এমন সুন্দর বাসায় বসে পিএইচডির পেপারে চোখ বুল...
বইমেলায় তিনি

বইমেলায় তিনি

অতিপ্রাকৃত গল্প, কিশোর গল্প, জাদু-বাস্তবতা
ধ্রুব নীল ‘শোন পলাশ! তাকেই দেখেছি। সন্দেহ নাই! দেখ গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেছে!’ ‘ভূত দেখলে লোম খাড়া হবে এমন কথা নাই।’ তুষার আমার কথার জবাব দিল না। তাকে দেখেও মনে হচ্ছে না সে আসলে ভূত দেখেছে। ভূত দেখতে পারার মধ্যে একটা কৃতিত্ব আছে। কিন্তু সে কৃতিত্বটা ঠিকমতো নিতে পারছে না। সত্যি সত্যি ভূত দেখলে নির্ঘাৎ চেঁচামেচি করত, না হয় ফিট হয়ে যেত। তুষারের কিছুই হয়নি। চেহারা দেখে মনে হচ্ছে সে বইমেলায় আসেনি, মিরপুরের জ্যামে আটকে আছে। ‘হুবহু তিনি। কোনো সন্দেহ নাই। পুবপাশে একটা স্টলের কোণায় কুঁজো হয়ে পায়চারি করছিলেন। একটা ঘিয়া রঙের চাদর। চেহারা দেখলাম হাসিখুশি।’ তুষার যাকে দেখেছে তার নাম শুনে প্রথমে আমি অট্টহাসি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু যাত্রাপালা ছাড়া আজকাল কেউ অট্টহাসি দেয় না। তুষারের হাঁপানো দেখে আমার হাসিটা ফিচ করে বের হয়ে গিয়েছিল। বেচারা আসলেই ভয় পেয়েছে। ‘উনি না...
মংমং

মংমং

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল পাহাড়ে বাস করে এক আজব প্রাণী। নাম তার মংমং। মংমং দেখতে কেমন? শরীরটা বিশাল। দানোর মতো। তবে মোটেও ভয়ানক নয়। গোলগাল তুলতুলে মংমং। একটু বাতাস এলেই বেলুনের মতো উড়ে যায়। মংমং থাকে পাহাড়ের ওপর একটা পুকুরে। রাত হলে পানি থেকে উঠে আসে। দিনের বেলা ঘুমিয়ে কাটায়। কারো সাথে কথা বলে না। কেউ খেলতেও আসে না। খেলবে কী করে, মংমংকে তো কেউ এখনও দেখেনি। একদিন মংমংয়ের সাধ হলো পাহাড়ের ওপারে যাবে। ওপারে বিকেল হলে ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে খেলে। বিকালে পুকুর থেকে উঠে এলো মংমং। লাফাতে লাফাতে এগিয়ে চলল পাহাড়ের চূড়ায়। তাকিয়ে দেখলো আশপাশ। ‘কী দারুণ!’ অবাক হয়ে বলল মংমং। সূর্যের আলোয় চিকচিক করছে পাহাড়ি ফুল। অনেক ফলগাছও আছে। ‘উফ, খিদে পেয়েছে। আগে ফল খাই’। বলল মংমং। ফলগাছ দেখে হাঁটতে লাগলো। ওপারে লুকোচুরি খেলছে একদল শিশু। গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিল মিনু। মংমং তাকে দ...
মানুষ পাখি অদলবদল

মানুষ পাখি অদলবদল

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল একটা আছে আষাঢ়ে পাড়া। কোথায় আছে? জানি না। আষাঢ় এলেই আজব ঘটনা ঘটে সেখানে। আষাঢ় মাসে নামে ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টি শেষেই ঘটে আজব ঘটনা। গ্রামের সব পাখি হয়ে যায় মানুষ। মানুষরা সব হয়ে যায় পাখি। একদিন আষাঢ়ে পাড়ায় শুরু হলো ঝমঝম বৃষ্টি। তারপর ঘটনাটা ঘটলো। ইশকুলের স্যার হয়ে গেলেন একটা বক পাখি। ক্লাসের মিনি হয়ে গেলো মাছরাঙা। তার বন্ধু রবি হয়ে গেলো একটা চড়ুই। বক স্যারের খিদে লেগেছে। মাছ পাই কোথায়? স্যারের মনে পড়লো বক পাখিরা মাছ ধরতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে পানিতে। মাছ দেখলেই খপ করে তুলে নেয় ঠোঁটে। তিনিও তাই করলেন। দাঁড়িয়ে রইলেন এক পায়ে। ছুটে এলো ছোট মাছরাঙা মানে আমাদের টুনি। সে বলল, আমি ছোঁ মেরে একটা পুঁটি ধরেছি স্যার। ফুরুৎ করে এলো চড়ুই। সে হলো রবি। চড়ুই রবি বলল, মিনি, দানা কুড়াবে? ওই ছাদে অনেক চাল আছে। আমি প্রতিদিন চড়ুইদের জন্য ছাদে চাল ছিটিয়ে রাখি। আজ...
“আত্মার বন্ধন”

“আত্মার বন্ধন”

রোমান্টিক ছোটগল্প, সামাজিক গল্প
রাহেলা আক্তার  অবনী থার্ড ইয়ারের ছাত্রী। সামনে ফাইনাল এক্সাম। ভীষণ চিন্তায় ভুগছেন। একমাত্র ভাই এবার এস এস সি এক্সাম দিবে। ছোট বোন ক্লাস এইটে পড়ে। তিন ভাই বোনের মাঝে অবনীই বড়। অবনীর "মা" নীলিমা চৌধুরী আজ দশ বছর ব্রেস্ট ক্যান্সারে ভুগছেন। প্রথম চার বছর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও বছর খানেক পরে আবার দেখা দেয়। এবার ফারমেন্ট চট্টগ্রাম মেরিন সিটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিন মাস পরপর কেমোথেরাপি চলে, থেরাপি দিতে দিতে নীলিমা চৌধুরীর চুল প্রায় উঠে গেছে, পশম খসে পড়তেছে। অবনী রাতদিন হাসপাতালে মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে মায়ের শারীরিক অবস্থা একটু ভালো দেখা দিলে মাকে নিয়ে হাসপাতালের পাশেই অবনীর আন্টিদের বাসায় বেড়াতে নেন। অবনীর বাবা আদনান চৌধুরী নিউইয়র্ক থাকেন। স্ত্রী অসুস্থ হবার পর থেকে তিনি তেমন দেশে ফিরেন না। চিকিৎসা বাবদ কিঞ্চিৎ খরচ দেন। অবনীর নানার বাড়ি থেকেই বেশির ভাগ খরচ ...
ডালিম ভাইয়ের বাঁশি : সায়েন্স ফিকশন গল্প

ডালিম ভাইয়ের বাঁশি : সায়েন্স ফিকশন গল্প

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল ‘জাদুটা আবার দেখবি?’ ‘কোনটা?’ ‘আরে ওইটা। তুই তখন ফাইভে। পেনসিলের মতো টিংটিঙা ছিলি। তোরে তো পেনসিলই ডাকতাম। ওই সময় যেটা দেখাইছিলাম।’ ‘আমার তো মনে নাই।’ ‘মনে থাকন লাগবো না। আমার আছে।’ দুঃসম্পর্কের আত্মীয় বলে একটা বিষয় আছে। কেউ বলে লতায়-পাতায় আত্মীয়। কাগজে কলমে ডালিম ভাই দূরের হলেও খাতিরের দিক দিয়ে খুব কাছের ছিলেন। অবলীলায় তার কাঁধে মাইলের পর মাইল ঘুরে বেড়াতাম। এখন সম্পর্কে ঢিল পড়েছে। কাঁধে ওঠার বয়স নেই। ডালিম ভাইয়ের সঙ্গে কবে জাদু দেখতে গিয়েছিলাম, মনে পড়ে না। তবে কম অ্যাডভেঞ্চার তো করিনি। কোনো এক ফাঁকে জাদুর আসরে গিয়েছিলাম হয়তো। গ্রামে এখনও এসব আসর বসে নাকি? ডালিম ভাই আমাকে দেখে কতটা খুশি হলো সেটার প্রমাণ পেলাম নাশতা শেষ হওয়ার পর। আমাকে রীতিমতো বগলদাবা করে হাঁটা দিলো নো ম্যান্স ল্যান্ডের দিকে। কামাল্লা নামের জায়গাটা আবার ভারতের সীমান্ত ...
সামসুল, সুমন ও তার স্যারের বাড়ি ফেরা : সায়েন্স ফিকশন গল্প

সামসুল, সুমন ও তার স্যারের বাড়ি ফেরা : সায়েন্স ফিকশন গল্প

সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীল বসের তুমুল ঝাড়ি খাওয়ার পর ন্যাশনাল প্রাইভেট লি. কোম্পানির জুনিয়র অফিসার আজিজুল বাশার সুমনের ইচ্ছে হলো চাকরিটা আজকেই ছেড়ে দেয়। চাকরি ছাড়তে গেলে সবাই রিজাইন লেটার দেয়। সুমনের ইচ্ছে হল চিঠি ফিঠি না দিয়েই চলে যেতে। - স্যার ছুটি লাগবে। বাড়ি যাই না অনেকদিন। - ছুটি গাছে ধরে? অবশ্যই গাছে ধরে। গাছটা আছে আফ্রিকার আমাজন জঙ্গলে। আগে তুমি আফ্রিকা যাও। তারপর ছুটির গাছ ধরে ঝাঁকি দাও। টপটপ ছুটি পড়বে। - স্যার আমাজন তো আফ্রিকায় না..। - নো ছুটি ফুটি! এক ঘণ্টার মধ্যে মতিঝিল শাখায় যাও। ওয়াজেদ সাহেবের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডারটা নিয়ে আসো। না পারলে আর অফিসে ঢোকার দরকার নেই। আউট। আজিজুল বাশারের ডাক নাম সুমন। খুব সাধারণ নাম। মানুষটাও সাধাসিধা। চাকরিতে ঢুকেছে বেশিদিন হয়নি। বয়স ত্রিশ ছুঁই ছুঁই। বিয়ে করেনি। মেসে থাকে। বেতন যা পায় তা দিয়ে কোনোমতে নিজে চলে আর গ্রামে মা-বাবাক...
দম্পতি

দম্পতি

অতিপ্রাকৃত গল্প
ধ্রুব নীল ‘আমার মনে হয় তোর ভাবী মানুষ না।’ ‘অ্যাঁ!’ ঝেড়েকেশে সরাসরি কথাটা না বললেও হতো। কিন্তু সজল ভূমিকা করতে পারে না। কথা পেটে থাকলে চিনচিনে একটা ব্যথা করে তার। ‘তা হলে ভাবী কি অমানুষ? মানে তোর ওপর নিদারুণ...।’ ‘আরে না! রেনুর মতো মানুষ হয় নাকি! ইয়ে মানে, ও অনেক ভালো। কদিন আগে আমার সামান্য জ্বর হয়েছিল, তাতেই পানিটানি ঢেলে একাকার অবস্থা। হে হে হে।’ ‘অ্যাঁ!’ বার বার অ্যাঁ অ্যাঁ করা লোকটা হলো সজল সরকারের ভার্সিটি লাইফের বন্ধু ইন্দ্রজিত। ওর কাছেই মাঝে মাঝে পেটের কথা উগড়ে আসে সজল। আজও সন্ধ্যায় দুজনের আড্ডা চলছে শ্যামলী পার্কে। ‘তা হলে?’ ‘বলছিলাম ও মানুষ না। অন্য কিছু। মানে.. ওই যে অশরীরী...।’ ধন্ধে পড়ে গেল সজল। তার স্ত্রী রেনু বাতাসে উড়ে বেড়ায় না। শরীরটা একটু রোগাপাতলা। তবে শক্তি আছে বেশ। পাড়ায় মারকুটে হিসেবে ভালো খ্যাতিও আছে। একবার তো দুই ছিনতাইকারী...
বর্ষার দিনে ভিজতে মজা

বর্ষার দিনে ভিজতে মজা

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন  মুষলধারে বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি থামার নাম গন্ধ নেই। বৃষ্টি নেমেই যাচ্ছে। চারপাশ বৃষ্টির জলে ভরে যাচ্ছে।খাল বিল, নদী, নালা সব কিছুই পানিতে  টইটম্বুর। দেখতে ও ধারুণ লাগে।বৃষ্টি এলে বৃষ্টিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারে না বাপ্পি। বাপ্পি বারান্দার খুঁটি ধরে আছে। কখন গোসল করতে নামবে একবার নেমেই গেলো। দারুণ মজা হচ্ছে বৃষ্টিতে ভিজে। বাপ্পির দেখা দেখি নেমে গেলো বাপ্পির চাচাত বোন শিশু শ্রেণির ছাত্রী মুসলিমা। বাড়িতে টিনের ঘর আছে। টিনের চালের পানি একসাথে বেশি করে পড়ে। অনেকটা ঝরনার পানির মতো। উপর থেকে কে জানি পানি ঢালতেই থাকে এমন। প্রবল বৃষ্টি। টিনের চালের পানির ধারা ও প্রবল। মুসললিমা আর বাপ্পি সেই ধারাতে গোসল করছে। সে এক অন্য রকম অনুভূতি এমন বৃষ্টির ধারায় গোসল করা। পাহাড়ি ঝরনার জলে গোসল করার স্বাদ।  কাকন ও নেমে গেলো গোসল করার জন্য। কাকন মুসললিমার একমাত্র ভাই। বাপ...