নিঃসঙ্গ শালিক 

ওলি  মুন্সী : ছোট্ট খুকি আয়েশা। বাবা মায়ের খুব আদরের কন্যা।পড়াশোনায় যেমন মনোযোগী তেমনি খেলাধুলায়। আয়েশার খেলার প্রিয় জায়গা হলো বারান্দা আর উঠুন। একাকী কখনো সে বাড়ির বাহিরে খেলতে যায়না। কারণ বাড়ির বাহির বাচ্ছাদের জন্য নিরাপদ নয়।আয়েশাদের বাড়ির চারপাশে বিভিন্ন রকমের গাছ।গাছে গাছে নানান জাতের পাখি সকাল বিকাল মুখরিত করে।পাখিদের রব আয়েশার খুব ভালো লাগে। তাই পাখিদের খুব ভালবাসে। আয়েশা তার বাবা মা’য়ের কাছ থেকে পাখিদের নাম শিখে নেয়।তারা কেমন করে উড়ে, কোথায় যায় কিভাবে খাবার আহরণ করে। পাখির ছানাদের কিভাবে মা পাখিরা আগলে রাখে।আয়েশা তার বাবার ছেলেবেলার একটা গল্প শুনেছে শালিক পাখি নিয়ে।আয়েশার বাবার একটা পোষা শালিক  পাখি ছিল।ডাক দিলে উড়ে এসে হাতের মধ্যে বসে পড়তো। 

এমনকি কথাও বলতে পারতো মানুষের মতো করে। 

পাখিরা কথা বলতে পারে বাবা? শুধু শালিক পাখি নয় ময়না টিয়ে ওরাও কথা বলতে পারে মা।ময়না এবং টিয়ে পাখিকে খুব বেশি না দেখলেও বইয়ের পাতায় নিয়মিত দেখে আয়েশা। আয়েশাদের বাড়ির নারকেল গাছে দুটি শালিক পাখি থাকে।প্রতিদিন তাদের সাথে আয়েশার দেখা হয়

শালিক  পাখিরা কথা বলতে পারে তাই তাদের প্রতি আয়েশার কৌতূহল একটু বেশি। দুটি শালিক  নেচে নেচে খাবার সংগ্রহ করে। তাই আয়েশা তার আম্মুর কাছ থেকে  কিছু খাবার চেয়ে নিয়ে মাঝেমধ্যে উঠুনে ছিটিয়ে দেয়।এভাবে ভালোই চলছিল আয়েশার দিন। কিছুদিন পর হঠাৎ করে আয়েশার মন খারাপ। কোন কথা বলে না। খাবারে অমনোযোগী। আয়েশার এই অবস্থা দেখে আয়েশার আম্মু চিন্তায় পড়ে গেল। কি হয়েছে আমার মেয়েটির। এমনকি গোপন করে আয়েশা মাঝেমধ্যে  এক পায়ে ভর করে হাটতে চেষ্টা করে। একদিন তার আম্মু আয়শাকে এক পায়ে হাঁটতে দেখে ফেলে, তখন আয়েশার আম্মু  প্রশ্ন করে কি হয়েছে তোমার এভাবে হাঁটছ কেন? আয়েশা তখন কাঁদোকাঁদো গলায় বলতে লাগলো এক পায়ে হাঁটার চেষ্টা করে তার কষ্ট অনুভব করছি আম্মু ।আয়েশার মা হতবাক হয়ে বললেন তোমার মাথায় এই বুদ্ধি কেন? কি হয়েছে আমাকে খুলে বলোতো মা।আয়েশা তখন বিষন্ন মনে তার আম্মুকে উঠুন কোনে কিছুক্ষণ দাড়াতে বলে। অনেকক্ষণ দাঁড়ানোর পর বিরক্ত হয়ে আবার প্রশ্ন করে কি হয়েছে তোমার?ঘরে চল! আর একটু দাড়াও না আম্মু 

হঠাৎ করে একটি শালিক পাখি উড়ে এলো।আয়েশা তার আম্মুকে ইশারাতে দেখতে বললো। আয়েশার আম্মু শালিক পাখিটিকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল! কারণ পাখিটির একটি পা একেবারে নেই।একটি পা দিয়ে খুব কষ্ট করে হাঁটছে। আয়েশা তার আম্মুকে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলো  পাখিটির একটি পা কে ভেঙেছে মা?

তুমি না বলেছিলে পাখিরা মানুষের বন্ধু। মানুষ কখনো

পাখিদের ক্ষতি করতে পারেনা।তবে এদের বেলায় এমন কেন হলো? অন্য পাখিটি কই হারালো আমাকে  খোঁজে দাওনা আম্মু ,আয়েশার এই কথা গুলো শুনে তার আম্মুর চোখেও টলমল করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো।

মদন, নেত্রকোনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *