Tuesday, October 20
Shadow

Tag: শাকিলা নাছরিন পাপিয়া

নষ্ট সময়

নষ্ট সময়

সামাজিক গল্প
নষ্ট সময় একটি সামাজিক গল্প । লিখেছেন শাকিলা নাছরিন পাপিয়া। এক শ্রাবণ মাস অথচ আকাশের কোথাও মেঘ নেই। ঝকঝকে নীল আকাশ। চারিদিকে রোদ। মনে হচ্ছে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। গরমে অস্থির পৃথিবীর জীবকুলের প্রতিটি প্রাণী। ‘শ্রাবণ শব্দটার সঙ্গে ভেজা ভেজা একটা ভাব আছে। পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। এখন আর বর্ষাকালে বৃষ্টি হয় না।  শীতকালে শীত থাকে না। ঋতু কখন আসে কেমন করে আসে কে জানে। হাতের ক্রেষ্টটির দিকে তাকিয়ে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে রফিক মাস্টারের। ২২ বছরের চাকুরি জীবনের প্রথম স্বীকৃতি। শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতি। বারবার ক্রেষ্ট আর সার্টিফিকেটের দিকে তাকায় সে। বাসার দূরত্বটা আজ বেশি মনে হচ্ছে। গরমে ঘেমে যেন গোসল করে উঠছে। শার্ট-প্যান্ট ভিজে গায়ের সঙ্গে লেপটে আছে। তারপর কেমন যেন একটা ভাল লাগায় আচ্ছণ্ণ হয়ে আছে মন-প্রাণ। বাসায় পৌঁছে স্ত্রী শিখ...
জানতে হবে, চিনতে হবে

জানতে হবে, চিনতে হবে

সামাজিক গল্প
শাকিলা নাছরিন পাপিয়া দুই তিন এলাকা নিয়ে চরম উত্তেজনা।আজ বিচার হবে কাউন্সিলরের অফিসে।বিচার দেখতে সব ধরণের মানুষ এসেছে। এত বড় অন্যায় করার সাহস  যে দেখিয়েছে তাকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে।কী হবে আজ? নানা জনের নানা মত।কেউ বলছে, ঠিক করেছে।কেউ বলছে, কি মনে করো ওকে ছেড়ে দেবে? কোনদিন না।কেউ বলছে, ওর পরিবার কেন শিক্ষা দিল না কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে? কারো মধ্যে উৎসব উৎসব ভাব।কিছু একটা ঘটবে।বিচারে ছেলেটি যা বলুক না কেন তার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।নেতার পিএস এর বাড়ির কাজের বুয়ার ভাতিজা।সে না হয় একটু মারতেই পারে। তাই বলে পুলিশ ডেকে আনতে হবে?পুলিশ কিছু না বুঝে এসে পড়েছে। অবশ্য এ জন্য বারবার নেতার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।ছেলেটিকে প্রশ্ন করা হলো, পুলিশের কাছে কেন গেলে? কিছু হলেই পুলিশের কাছে যেতে হবে? ছেলেটি পুলিশের দিকে তাকায়। যিনি আহত ছেলেটিকে বলেছিল, এভাবে মেরেছ...
জীবন

জীবন

সামাজিক গল্প
জীবন - শাকিলা নাছরিন পাপিয়া আমি মৃত্তিকা ৷ সর্বংসহা ধরণীর মত লক্ষ্মী মেয়ে৷এই যে সকালবেলা কলম খুঁজতে গিয়ে একটা লম্বা চওড়া মাঝারী ওজনের চড় আমার স্বামী ফর্সা গালে বসিয়ে দিলেন তাতে আমি কিছু মনে করিনি৷আত্মসম্মানবোধ সেই কবেই বিসর্জন দিয়েছি। আগে একটুতেই চোখে পানি আসতো।  একটু কটু কথাও সহ্য হতো না। এখন গায়ে হাত তুললেও কিছুই মনে হয় না।বরং গালে হাত বুলাতে বুলাতে, ছলছল চোখে হাসিমুখে তাকে দেখিয়ে দিলাম কলমটা তার পকেটে৷ছোট্ট একটা sorry  উচ্চারণ করে উনি চলে গেলেন৷ আমিও কাজে মন দিলাম৷ বিছানার উপর হাত পা নেড়ে তিন মাসের ছোট্ট যে মেয়েটি খেলছে সে আমার মেয়ে চেতনা৷ ওর জন্মে এ  বাড়ির কেউ খুশি হয়নি৷প্রথম সন্তান পুত্র হবে, বৃদ্ধ বয়সে বাবার সংসারের হাল ধরবে,বংশের মুখ উজ্জ্বল করবে৷ এ প্রত্যাশা ছিল কায়েসের পরিবারের৷অবশেষে আঙুর ফল টকের মত কায়েস বলেছে, প্রথম সন্তান কন্যা হ...