Wednesday, March 11
Shadow

Tag: ধ্রুব নীল

রহস্যজট : ইলশেগুড়ি

রহস্যজট : ইলশেগুড়ি

থ্রিলার গল্প
ধ্রুব নীল: শুভ চলে যেতেই কফির মগ হাতে উঠোনের মতো জায়গাটায় রাখা দোলনায় গিয়ে বসলো ইরিনা। ঢাকায় এমন আঙিনাওয়ালা বাড়ি হাতে গোনা। চারপাশে অ্যাপার্টমেন্টের ছড়াছড়ি। পুরনো আমলের বাড়িটাও যে কবে বাড়িওয়ালা বিল্ডার্সদের দিয়ে দেয়। আকাশে এখনও মেঘ। রাতে বান্ধবীরা আসবে সবাই। তার স্বামী গেছে চট্টগ্রামে, ব্যবসার কাজে। আগামীকাল ফেরার কথা। বান্ধবীরাও সবাই কোনও না কোনও চাকরিতে। বৃষ্টি দেখে আজ সবাই ইরিনার হাতের খিচুড়ি খেতে চেয়েছে। পাশাপাশি তিন চার পদ রান্না করবে বলেও ঠিক করলো। তুলির পছন্দ পটলের দোলমা আর ফৌজিয়ার চাই বিফ চিলি। নাজলা আবার ইদানীং মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তার জন্য সবজি।রান্না চড়িয়ে আবার উঠোনে এলো ইরিনা। বাড়িটা একেবারে নীরব। দোতলায় ভাড়াটিয়া থাকে। আজ সম্ভবত নেই। উঠোনে রাখা দোলনায় দুলতে দুলতে ইরিনা ফোন দিল নাজলাকে। খানিক খোঁজখবর নিয়েই বুঝতে পারলো মেয়েটা কোনও একটা ঝামেলায় আছে। ঠিকঠাক কথা বলতে পারছ...
রহস্যজট : বর্ষামঙ্গল

রহস্যজট : বর্ষামঙ্গল

থ্রিলার গল্প
ধ্রুব নীল : ‘নিন, মাথাটা মুছুন।’ইরিনা টাওয়াল বাড়িয়ে দিলেও ছেলেটা যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না সে এটা দিয়ে কী করবে। পরে যখন বুঝতে পারলো তখন এমনভাবে মাথা মুছতে লাগলো যেন মাথায় বৃষ্টির পানি নয়, বিষাক্ত কিছু লেগে আছে। তারপর মাথা মোছা যখন থামলো, তখন সে অনেকটা স্বাভাবিক হলো। বিড় বিড় করে বললো, ‘আমার বাবার ফাাঁসি হয়ে যাবে।’ ‘কফি নাকি চা?’‘জ্বি কফি।’ইরিনা কফি বানাতে চলে গেল। ভাল পর্যবেক্ষক হলে বুঝে ফেলবে এটা তার ইচ্ছাকৃত। বেশিরভাগ ক্লায়েন্টই এমন। হন্তদন্ত হয়ে আসে। কথা গুছিয়ে বলতে পারে না। প্রাইভেট কাউন্সেলর হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে যাওয়ায় ইরিনাকে এমন ক্লায়েন্ট কম সামলাতে হয়নি। এসব টুকটাক কৌশল তাই রপ্ত করতেই হলো তাকে।‘এবার গোড়া থেকে বলুন।’‘সেদিন সকাল থেকে বৃষ্টি। বাবা মা প্রতিদিনই ঝগড়া করে। মানে আমার সৎমা। কলেজ থেকে ফিরে দেখি ওইদিনও ঝগড়া করছে দুজন।’কফিতে চুমুক।‘কী নাম আপনার?’‘শুভ।’‘কী নিয়ে ঝগড়া হতো ...
হরর থ্রিলার গল্প : সি আই পি এ

হরর থ্রিলার গল্প : সি আই পি এ

অতিপ্রাকৃত গল্প, থ্রিলার গল্প, হরর গল্প
ধ্রুব নীলের হরর থ্রিলার গল্প : সি আই পি এ রেনু খুন হওয়ার দেড় মাসের মাথায় খুনিকে ধরেছে রশিদ। খুনি এখন তার সামনে ভারী কাঠের চেয়ারে হাত-পা বাঁধা বন্দি। ‘তুমি আমার একচল্লিশ নম্বর সাবজেক্টের... স্বামী। চিনতে পেরেছি আগেই।’ খুনি বলল। রশিদের স্ত্রী রেনুকে ভয়াবহ যন্ত্রণা দিয়ে সে-ই মেরেছে। ফ্ল্যাট বাসার ভেতরের একটা রুম। ভেতরে ঝলমলে আলো। দুই লেয়ারের ভারী পর্দায় ঢাকা চারপাশ। রুমটা সাউন্ডপ্রুফ করতেই লাখ তিনেক খরচ করেছে রশিদ। অ্যাকুস্টিক প্লাস্টারবোর্ডের সঙ্গে ফোমও বসিয়েছে। তবে খুনি লোকটা একবারও চেঁচামেচি করেনি। খুনির নাম জানা নেই। নাম নিয়ে রশিদের আগ্রহ নেই। পত্রিকার দেওয়া নামটা হলো ‘সলটেড কিলার’। ভিকটিমকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করতো। তারপর লবণ বা এ জাতীয় কিছু মেখে দিত। মরার আগ পর্যন্ত চলতো অমানুষিক নির্যাতন। দুয়েকটা ডেডবডিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ভিনেগারের ট্রেস পা...
ছোটদের গল্প : পিপির প্ল্যান

ছোটদের গল্প : পিপির প্ল্যান

কিশোর গল্প
পিপির মন খারাপ। মা আজও বকেছে। সে নাকি বসে বসে শুধু চিনি খায় আর ঘুমায়। কিন্তু সে যে মস্ত বড় বিজ্ঞানী এটা কারো মাথাতেই ঢোকে না। সে-ই প্রথম প্রমাণ করলো, শুধু মরার সময়ই পিঁপড়ার পাখা গজায় না, এর আগেই চাইলে পিপড়ারা পাখা লাগিয়ে উড়তে পারে। ইলেকট্রনিক পাখা বানানোর জন্য গত বছর সেরা পিবিজ্ঞানীর পুরস্কার পেয়েছিল সে। আর বিজ্ঞানীরা তো একটু বেশি ঘুমাবেই। টিটিনপুর পাশেই আছে ইয়া বড় এক দালান। সেখানে আবার রেড ইন্ডিয়ান পিপড়াদের কলোনি। অবশ্য এখন পর্যন্ত মিলেমিশে আছে সবাই। লাল পিঁপড়ের দল খাবার খোঁজার সময় ঘাড় উঁচিয়ে টিটিনপুরের দিকে তাকালেও কখনও কিছু বলেনি। ওদের নিয়েই চিন্তায় আছে পিপি। যদি আক্রমণ করে বসে! চিন্তা করা ছাড়া আপাতত কাজও পাচ্ছে না। কারণ অন্যদের মতো লাইন ধরে খাবার খুঁজতে তার ভাল লাগে না। সবাই খাবার জমা করার কাজে ব্যস্ত। সামনে নাকি বর্ষার মৌসুম। কিন্তু পিপি জানে, বর্ষা হলেও তার খাবার খুঁজতে সমস্যা...

কিশোর গল্প: কাকের ডিম

কিশোর গল্প, জাদু-বাস্তবতা
প্রশ্নটা গলা পর্যন্ত এসেও বের হচ্ছে না। কিছুতেই না। রাকিব জানে প্রশ্নটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবু করতে ইচ্ছে করছে। অনেক্ষণ ভাবার পর যেই প্রশ্নটা করতে যাবে, তার আগেই ছেলেটা বলল- ‘নাও ধরো, সাবধানে ধরবে। ফেটে গেলে তুমি.. না না তুমি ফেরত দেবে কী করে, তুমি তো কাক না, মানুষ। তুমি কাকের ডিম পাড়বে কী করে।’ উত্তেজনায় রাকিবের হাত কাঁপছে। এ প্রথম সে একটা কাকের ডিম দেখছে। হুট করে মনে হলো, অনেক কিছুই এখনো সে প্রথমবারের মতো দেখেনি। ডিমটা ক্রিকেট বলের মতো পুরোপুরি গোল নয়। হাতের তালুতে সাবধানে আঁকড়ে ধরে আছে। ‘চেপে ধোরো না। ফেটে যাবে।’ কথাটা বলতে বলতে ছেলেটা এক দৌড়ে সামনের একটা ঝোপ থেকে একটা লম্বাটে চিকন কী যেন ছিঁড়ে নিল। ফুলের মতোই দেখতে। হাত দিয়ে ঘসে ওটার ফুলগুলো ফেলে কেবল কাণ্ডটা রাখলো। ঝটপট একটা গিট্টুও দিল। রাকিব ভাবছে, ছেলেটা এতো কিছু জানে কী করে। একই গাছ থেকে আরেকটা ডগা ছিঁড়লো। সেই ...

বনরুটির মা

কিশোর গল্প, জাদু-বাস্তবতা
ধ্রুব নীলের গল্প একটা ছিল ছোট বনরুটি। সবে মাত্র দোকানে এসেছে। এক রাতে আকাশে তাকিয়ে দেখে কত্ত বড় একটা বনরুটি। কিন্তু সেই বনরুটির মুখ গোমড়া। ওটা কি আমার মা? আমি নেই বলে মায়ের মন খারাপ? বনরুটি ঠিক করল, মায়ের কাছে যাবে। সুযোগ পেয়ে একদিন বনরুটি দিল লাফ। দোকান থেকে বের হয়ে গড়িয়ে চলল। গড়াতে গড়াতে শহরের রাস্তায় এসে পড়ল। আরে রাস্তায় এত বনরুটি! ঘর ঘর শব্দ করে সাঁই সাঁই করে ছুটছে ওরা। সেগুলোর ওপর আবার মানুষ বসেও থাকে। ছোট্ট বনরুটি গড়াতে গড়াতে গেল এক গ্রামে। সেখানে একটা গোলগাল জিনিস। পানিতে চুপচাপ বসে আছে। ‘ও ভাই, তুমি কি পানিরুটি?’ গোলগাল জিনিসটা বলল, ‘আমি রুটি না। পদ্মফুলের পাতা।’ রুটি গড়াতে গড়াতে গেল আরেক গ্রামে। এ পথে যায় ও পথে যায়। সামনে দেখে গোলগাল কী যেন একটা। রুটি ভাবলো, এ আবার কোন রুটি? সামনে সরু মাঝে গোল। পেছনে একটা লেজও আছে। ছোট্ট রুটিকে দেখে ফ...

বোধ

জাদু-বাস্তবতা, রোমান্টিক ছোটগল্প
গত ছমাস ক্ষণিকা হাসপাতালে। কোনো কাজ নেই। দিনরাত শুধু শুয়ে থাকা। প্রথম কদিন বেশ খারাপ লেগেছিল। পরে সয়ে এসেছে। বিছানায় শুয়ে চোখ বুঁজে ভাবাটাই এখন তার কাজ। মাঝে মাঝে বদ্ধ পরিবেশটায় সবকিছু অসহনীয় মনে হয়। কিন্তু চোখ বুঁজলেই মনে হয় সামনে অসীম দিগন্ত। হাসপাতালে ছমাস। অথচ ক্ষণিকার স্বামী তাকে একবারও দেখতে আসেনি। ইশ্, অন্তুটা না জানি কী করছে! সামনের ডিসেম্বরে তিনে পা দেবে। এই সেদিন টুকটুক করে কথা বলা শিখেছে। বদ্ধ পরিবেশটায় থাকলে সময় বোধহয় দ্রুতই যায়। ইমতিয়াজ কি অন্তুকে ঠিকমতো সময় দিচ্ছে? সে নিজেই তো ভুলোমনা। ক্ষণিকা এ জন্য তাকে একটা নামও দিয়েছে, ‘ভুলু’। সন্তান ও স্বামীর কথা অনেক ভেবেছে ক্ষণিকা। প্রথম দিকে খুব অভিমান জন্মালেও এখন আর তা নেই। চোখ বন্ধ করে চাইলেই সে এখন অন্তুকে আদর করতে পারে। কেবল ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। কিছু বলতে গেলেই গা ঝাঁকিয়ে দৌড়ে পালাবে। আপাতত ভাবার মতো...
হরর গল্প: নিস্তার

হরর গল্প: নিস্তার

অতিপ্রাকৃত গল্প, হরর গল্প
লেখক: ধ্রুব নীল ঝড়ের ঝাপটায় তোশক চুপসে গেছে। রাজ্জাক জানালা বন্ধ করছে না। তার মনেও ঝড়। বাইরের ঝড়ের সঙ্গে মনের ঝড়ের কাটাকুটি খেলা হচ্ছে।দুই বছর নীলিমার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে রাজ্জাক। এখনো চিঠিটা দেওয়া হয়নি। দিলেই তুলকালাম বেঁধে যাবে। কলেজের বণিক স্যারের মেয়ের সঙ্গে প্রেম বাড়িতে মেনে নেবে না। রাজ্জাকের বাবা রাধানগর মসজিদ কমিটিতে আছেন। ঘটনা ঘটলে ইজ্জতের বেড়াছেড়া লেগে যাবে। https://youtu.be/M2Z9TIitXb0 নীলিমা বললে রাজ্জাক এক শার্টে ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়বে। সমস্যা হলো নীলিমা সেটা বলবে না। সে রাজ্জাককে বিশেষ পাত্তা দেয় না। রাজ্জাক প্রতিদিনই হ্যাংলার মতো গার্লস কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে কাল থেকে দাঁড়াদাড়ি বন্ধ। কাল নীলিমার বিয়ে।বাইরে যে ঝড় হচ্ছে তাতে বিয়ের গেট লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার কথা। এমনটা ভেবেও রাজ্জাকের খুশি লাগছে না। একটু পর পর সিগারেট হাতে জানালার কাছে খাটে পা দুলিয়ে বসছে। ...
হরর ভৌতিক গল্প: রাজেন্দ্র সরকারের অপমৃত্যু

হরর ভৌতিক গল্প: রাজেন্দ্র সরকারের অপমৃত্যু

হরর গল্প
লেখক: ধ্রুব নীল ‘আজ রাত বারোটায় আত্মহত্যা করবো। মর্ত্যলোক ত্যাগের চূড়ান্ত ক্ষণের খুব বেশি বাকি নেই।’ ‘জি জ্যাঠামশাই।’ ‘ভাদুড়িকে সব বলা আছে। চব্বিশে আষাঢ়। সব ঠিকঠাক! সব! গাড়ি নিয়ে আসবে পৌনে একটায়। আমার ডেডবডি কফিনে ঢোকানোর দায়িত্ব তোমার। পরে যা করার ভাদুড়ি করবে। পারবে তো?’ ‘জি জ্যাঠামশাই।’ ‘বৈদ্যকে বলবে হাত লাগাতে। কফিন আটকে ভালোমতো লক করবে। ঝড়ও আসবে। ইলেকট্রিসিটি থাকবে না। যাও এখন বিদেয় হও।’ বয়স সত্তর ছুঁলেও মুগুরভাজা শরীর রাজেন্দ্র সরকারের। যমের মতো ডরায় বিজন। মা-বাপ হারা ছেলেটাকে কোলেপিঠে নয়, কেলিয়ে-পিটিয়ে বড় করেছেন। জাঁদরেল স্বভাবের কারণে নিজের সংসার হয়ে ওঠেনি। আবার বাইশ বছরের ভাইপোকে একটিবারের জন্য নিজের সন্তানও ভাবতে পারেননি। বিজনের সঙ্গে রাজেন্দ্র সরকারের সম্পর্কটা তাই প্রভু-ভৃত্যের মাঝামাঝি এক আলো-আঁধারিতে দোদুল্যমান। রাজেন্দ্র সরকারের কণ্ঠের স...
কুসুমপুরে সিন্ডারেলা

কুসুমপুরে সিন্ডারেলা

কিশোর গল্প
খাওয়া শেষে ভাবতে বসল দু’জন। রিন্টু গভীর মনযোগ দিয়ে ভাবছে। সিন্ডারেলা একটু পরপর ফুঁপিয়ে উঠছে। রূপকথার দেশে ফেরার কোনো উপায় জানা নেই তার।‘পাইছি! কিউরেকা! না না ইউরেকা!’তড়াক করে লাফিয়ে উঠলো রিন্টু। সিন্ডারেলার চোখও খুশিতে চকচক করে উঠলো। ‘শোনো, রূপকথার গল্প তো আমাদের লেখকরা লেখে। তাদের কাছে গেলেই তো হয়! তারা তোমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখলেই তো তুমি ফিরে যাবে!’ সিন্ডারেলা আরেকটু হলে খুশিতে কেঁদেই ফেলত।‘ইশশ.. দারুণ বুদ্ধি তোমার। থ্যাংক ইউ। কিন্তু..। কিন্তু লেখক পাবে কোথায়?’‘চিন্তা নাই! আমাদের সাজু ভাই আছে। কবিতা টবিতা লেখে। উনি গল্প লিখতে পারে। আমাদেরকে অনেক অনেক গল্প শোনায়। এক কাজ কর, তোমাকে দেখলে গ্রামের লোকজন ভিড় করতে পারে। তুমি বাড়ি চলে যাও, আমি সাজু ভাইকে খুঁজি।’সন্ধ্যে হয়ে গেছে। রিন্টুর মা সিন্ডারেলাকে ভাপা পিঠা খেতে দিয়েছেন। সম্ভবত বিদেশি রূপকথার গল্পে এ পিঠার কথা কেউ লেখেনি। আর এ জন্য...