Sunday, November 30
Shadow

Tag: ধ্রুব নীল

ভয়ানস্কির সিনেমা

ভয়ানস্কির সিনেমা

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : লাইট! ক্যামেরা! অ্যাকশন! ‘অ্যাঁ, ইয়ে মানে, আঁমাদের এঁকন কী কঁরতে হবে? ইয়ে অ্যাঁ, হ্যাঁ মনে পড়েচে, আমাদের শাকচুন্নিকে উদ্দার করতে যেঁতে অঁবে..’ ‘কাট!’ চেঁচালে ভয়ানস্কির তিনটি চোখই ইঞ্চি দুয়েক ফুলে যায়। তাকে দেখতে তখন প্রাগৈতিহাসিক রাক্ষসদের মতো মনে হয়। ‘মামদো! কত্তোবার বলেছি! নো নাকি নাকি ভয়েস! নিজেকে হিমেশ ভাবা শুরু করেছ? নো! এসব চলবে না! আই নিড অ্যাক্টিং! সিরিয়াস অভিনয় করতে হবে! বুঝলে!’ মামদো বেচারার আর কী দোষ। পড়াশোনা বেশি করেনি। তাই উচ্চারণে একটু আধটু ত্র“টি রয়ে গেছে। তারপরও দেখতে কিছুটা ভয়ংকর বলে ভয়ানস্কি তাকে নায়কের রোল না দিয়ে পারলেন না। ‘দেখ মামদো! শেষবারের মতো বলছি, তোমাকে ডায়ালগ দিতে হবে। ভাবতে হবে, যা ঘটছে তা সত্যি ঘটছে। নিজেকে সত্যি সত্যি ভলিউডের মহানায়ক সর্বভুক খান ভাবতে হবে। আন্ডারস্ট্যান্ড? চুপ কেন! বুঝেছ!’ মামদো চিন্তায় পড়...
ভূতের ভয়

ভূতের ভয়

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল: অতীতের সোনালী দিনের স্মৃতিগুলো নাকের তিন নম্বর ফুটো দিয়ে অনায়াসে ফুরুৎ করে উড়িয়ে দিতে পারেন ভয়ানস্কি। তাই নতুন করে প্ল্যান করতে তার কষ্ট হয় না। আগে ছিলেন ভুতুড়ে প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এখন হাউমাউ কোচিং সেন্টারের প্রধান ও একমাত্র শিক্ষক। তিন জন ছাত্র। তিনটে বাচ্চা ভূত। চিকু বিকু নিকু। তারা এসেছে ভয় দেখানো শিখতে। মানুষকে ভয় দেখাতে না পারলে মা শাকচুন্নি তাদের খাওয়া বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভয়ানস্কির ওপর তাই গুরুদায়িত্ব। কুসুমপুর গ্রামের সুপ্রাচীন বটগাছের ঠিক মাঝ বরাবর একটা মোটা ডালের ওপরই গোটা ক্লাসরুম। একপাশে ভয়ানস্কির বসার মতো আরেকটা ডাল। তার পেছনে মিনি ডিজিটাল ডিসপ্লে। ভয়ানস্কির নিজস্ব আবিস্কার ওটা। ঐ ডিজিটাল যন্ত্রটার কারণেই ভয়ানস্কি তার বিজ্ঞাপনে লিখেছিলেন, ‘এখানে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ভয় দেখানো শেখানো হয়।’ রাত দশটা পার হত...
স্যোশাল এক্সপেরিমেন্ট

স্যোশাল এক্সপেরিমেন্ট

রম্য রচনা
ধ্রুব নীল: দুলাভাই রসিক মানুষ। সংসারি না। আমার মতে উনি অ্যাকসিডেন্টাল বিয়ের শিকার। বিষয়টা আপা জানতে পারলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যাবে। বাংলায় এর মানে ভীষণ কলহ। এটা তো ডেইলি রুটিন। সুতরাং ঘটনা তুলকালামের চেয়েও ভয়াবহ হবে। যখন যেটা মাথায় আসে, একচোট এক্সপেরিমেন্ট চালান দুলাভাই। সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও করতে হচ্ছে ব্যাংকের চাকরি। এ কারণে পাকস্থলীর গ্যাসের মতো এক্সপেরিমেন্টের বাসনা তার বুকের কাছে আটকে থাকে। বুকে পোষা পুরনো প্রেমের বেদনা নয় এটি। এ সুপ্ত বাসনা বারবার গলা চেপে ধরে, অস্থির করে তোলে। ‘শালাবাবু, চলো ভিডিও বানাই। ইউটিউব ভিডিও। লাখ লাখ টাকা কামাব।’ ‘আপনি আবার টাকার লোভে পড়লেন কবে?’ ‘না মানে এক্সপেরিমেন্টও হলো, আবার টু-পাইসও এলো।’ ‘লাখ থেকে টু-পাইসে নেমে এলেন। এরপর বলবেন, টাকাপয়সা হাতের ময়লা। ভিডিওই আসল।’ ‘একটা আইডিয়া এসেছে।’ আমি কল্পনায় তর্ক চালিয়ে...
সায়েন্স ফিকশন গল্প : বিরিন্তা

সায়েন্স ফিকশন গল্প : বিরিন্তা

সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প -- বাংলা সন ১৪০১। পাঁচই ফাল্গুন। তৈয়ব আখন্দ বিব্রতকর অবস্থায় উঠোনে বসে আছে। হুরাসাগর নদীতে কী করে মরতে মরতে দশ কেজি সাইজের বোয়াল মাছ ধরেছে সেই গল্প শুনছিল হারু মাঝির কাছ থেকে। মাঝি চলে গেল। রেখে গেল নিরবতা। তৈয়ব গেল মেয়ের পড়ার টেবিলের দিকে। পুরো বাড়িতে বাপ-মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই। মেয়েটাও শব্দ করে পড়ে না। সন্ধ্যা হতেই ঝপ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নীরবতা নেমে আসে শোলাকুড়ি গ্রামের পুরনো বনেদি ধাঁচের টিনশেডের বাড়িটায়। বাড়িটা তৈয়বের নয়। বাড়ির মালিক তার স্ত্রী আফরিন নাহার। ঝগড়া যতবার হতো, সে-ই চলে যেত রাগ করে। পাশের নরিল্লা গ্রামে বড় ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠত। ‘বিচিত্র ব্যাপার। তোর মা আমাকে বের করে দিলেই পারে। দুনিয়ার সব অঙ্ক ডাইলভাত, সংসারের অঙ্ক মিলাইতে গেলে চক্কর লাগে। এখন তারে আবার তার বাড়িতে ডাইকা আনা লাগবে।’ ‘বাবা, মিষ্টি কুমড়া...
লাল ফুল

লাল ফুল

কিশোর গল্প, জাদু-বাস্তবতা
ধ্রুব নীল : সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে এক এক করে বত্রিশ পর্যন্ত গুনে ফেলেছে অন্তু। তবু ঘুম আসার জো নেই। মাকড়সার ঝুলের ভেতর একটা নীল পোকা আটকে আছে। ওটার দিকে তাকিয়ে থাকলেও অন্তু ভাবছে অন্য কিছু। মনে মনে নিজের বয়স হিসেব করলো একবার। তিন হাজার চুয়ান্ন থেকে বাষট্টি সাল। কতো হলো? সাত নাকি আট পেরুলো? মনে মনে ধরে নিল এখন তার বয়স আট। তারমানে এখন তার একটা গোপন কুঠুরী থাকতে পারে। যেমনটা ছিল তার দাদার। দাদার কথা মনে পড়তেই আবার চিন্তা ঘিরে ধরলো অন্তুকে। দাদা মারা গেছেন পাঁচ দিন হলো। কিন্তু অন্তু দাদাকে কখনই ভুলতে পারবে না। দাদা তাকে বিশাল এক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একটা বাক্স পাহারা দেয়ার দায়িত্ব। ওটা আছে ঘরের পেছনের একটা কড়ই গাছের গোড়ায়। মাটির তলায়। ওটাই এখন অন্তুর গোপন কুঠুরী। তাই অন্য সবার মতো ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো গোপন কুঠুরীর সব ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে আসার তাগিদ অনুভব করলো অন্তু। ...
পিবিজ্ঞানী পিপি

পিবিজ্ঞানী পিপি

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : মানুষ যেমন নাছোড়বান্দা হয়, পিপি তেমনি নাছোড়পিপড়া। কিছুই ছাড়বে না সে। হাতের কাছে যা পাবে, তা’ই ধরে দেখবে। যদি নতুন একটা কিছু বানানো যায়! গতবছর এভাবে একটা মাটি খোঁড়ার বেলচা আর মোটর জুড়ে দিয়ে বানিয়ে ফেলেছিল আজব এক যন্ত্র। সবাই দারুণ প্রশংসা করেছিল পিপির। যন্ত্রটা দিয়ে এক সেকেন্ডের মধ্যে মাটি খুড়ে ভেতরে ঢুকে যাওয়া যায়। মানুষের পায়ের চাপ থেকে বাঁচার জন্য যন্ত্রটার জুড়ি নেই। যন্ত্রটার জন্য পিপি বছরের সেরা পিবিজ্ঞান পুরস্কার পেয়েছিল। মহল্লার রানী পিঁপড়া তাকে নিজ হাতে চিনির দানা খাইয়ে দিয়েছিলেন। আহা! সেই স্বাদ এখনো ভুলতে পারছে না পিপি। কিন্তু কী করবে, এ বছরে একটা নতুন আবিষ্কারও করতে পারেনি বেচারি। বসে বসে কেবল ভেবেছে আর ভেবেছে। তবে আজকে একেবারে মাথার দুটো শুঁড় বেঁধে নেমে পড়েছে পিপি। নতুন কিছু আবিষ্কার করেই ছাড়বে।সকাল থেকে পিপিকে খুঁজে পাচ্ছে না তার মা চি বেগম। মেয়েটা অল্পবয়সেই ...
অঙ্কপুরের গল্প

অঙ্কপুরের গল্প

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : মগডালে দুটো পা পেঁচিয়ে উল্টো হয়ে ঝুলে আছে ছোট্টা খোকা শূন্য। তার মারাত্মক মন খারাপ। আজকের ঝগড়াটা একটু একতরফা হয়ে গেছে। এক আর দুইয়ের সঙ্গে আজ একটুও পেরে ওঠেনি সে। দেখতে ছোট বলে এভাবে সবার সামনে অপমান করতে হবে? এক বলে কিনা, ‘তোর তো কোনো মান নেই, একেবারে অর্থহীন। তোর নামের মানে বুঝিস? এক্কেবারে ফাঁকা। ফাঁকা মানে ফক্কা, ফক্কা মানে জিরো, জিরো মানে শূন্য।’ তার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে হতচ্ছাড়ি দুই। বেণী দুলিয়ে বলে, ‘তুই যে কেন আছিস তা তুই নিজেও জানিস না। এই আমাকেই দেখ না! সবচে ছোট মৌলিক সংখ্যা আমি, সবাই আদর করে। তুই তো অংকই না।’ মন খারাপ হলেই শূন্য গাছের ডালে পা আটকে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। একদম স্থির। কেউ বুঝতেই পারে না। আজও তাই ঝুলে আছে। ঝুলতে ঝুলতে শূন্য ভাবছে তার শৈশবের কথা। তাকে অংকপুরে এনে দিয়েছিল আর্যভট্ট নামের এক ভারতীয় গণিতবিদ। তারপর গোটা বিশ্বে সেকি হই চই। তার কারণ...

লেখক মোতাব্বির বনাম অন্তু

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : ‘ছেলেটার নাম অন্তু। বয়স তের কি চৌদ্দ। কিন্তু ভাব দেখে মনে হবে তেইশ চব্বিশ। এক নামে সবাই চেনে। বখাটে বলেও ডাকে কেউ কেউ। লম্বা একটা লাল শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়। লম্বা শার্টের সঙ্গে মাঝে মাঝে হাফ প্যান্ট পরে। চুল এলোমেলো। সম্ভবত তার মা-বাবা কেউ নেই। আমি তাকে প্রতিদিন দেখি। বিকেলে মাঠের এককোণে একদল টোকাইয়ের সঙ্গে বসে বসে বাদাম খায় সে। গ্রামে এমন কেউ নেই, যাকে সে জ্বালিয়ে মারেনি। তবে তার চোখেমুখে সবসময় একটা কিং.. কিং.. কিং..।’ -       কী লিখসেন এইডা? ওই মিয়া কী লিখসেন এইহানে। -       কিংকর্তব্যবিমূড় হবে ওটা। হেহেহে। মানে কী করবে তা ভেবে না পাওয়াকে বলে কিং..। -       হেইডা কী, খায় না মাতায় পিন্দে। আপনে তো আসলেই একটা কিলিকবাজ। -       কী বাজ? ...
রহস্যজট : ইলশেগুড়ি

রহস্যজট : ইলশেগুড়ি

থ্রিলার গল্প
ধ্রুব নীল: শুভ চলে যেতেই কফির মগ হাতে উঠোনের মতো জায়গাটায় রাখা দোলনায় গিয়ে বসলো ইরিনা। ঢাকায় এমন আঙিনাওয়ালা বাড়ি হাতে গোনা। চারপাশে অ্যাপার্টমেন্টের ছড়াছড়ি। পুরনো আমলের বাড়িটাও যে কবে বাড়িওয়ালা বিল্ডার্সদের দিয়ে দেয়। আকাশে এখনও মেঘ। রাতে বান্ধবীরা আসবে সবাই। তার স্বামী গেছে চট্টগ্রামে, ব্যবসার কাজে। আগামীকাল ফেরার কথা। বান্ধবীরাও সবাই কোনও না কোনও চাকরিতে। বৃষ্টি দেখে আজ সবাই ইরিনার হাতের খিচুড়ি খেতে চেয়েছে। পাশাপাশি তিন চার পদ রান্না করবে বলেও ঠিক করলো। তুলির পছন্দ পটলের দোলমা আর ফৌজিয়ার চাই বিফ চিলি। নাজলা আবার ইদানীং মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তার জন্য সবজি।রান্না চড়িয়ে আবার উঠোনে এলো ইরিনা। বাড়িটা একেবারে নীরব। দোতলায় ভাড়াটিয়া থাকে। আজ সম্ভবত নেই। উঠোনে রাখা দোলনায় দুলতে দুলতে ইরিনা ফোন দিল নাজলাকে। খানিক খোঁজখবর নিয়েই বুঝতে পারলো মেয়েটা কোনও একটা ঝামেলায় আছে। ঠিকঠাক কথা বলতে পারছ...
রহস্যজট : বর্ষামঙ্গল

রহস্যজট : বর্ষামঙ্গল

থ্রিলার গল্প
ধ্রুব নীল : ‘নিন, মাথাটা মুছুন।’ইরিনা টাওয়াল বাড়িয়ে দিলেও ছেলেটা যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না সে এটা দিয়ে কী করবে। পরে যখন বুঝতে পারলো তখন এমনভাবে মাথা মুছতে লাগলো যেন মাথায় বৃষ্টির পানি নয়, বিষাক্ত কিছু লেগে আছে। তারপর মাথা মোছা যখন থামলো, তখন সে অনেকটা স্বাভাবিক হলো। বিড় বিড় করে বললো, ‘আমার বাবার ফাাঁসি হয়ে যাবে।’ ‘কফি নাকি চা?’‘জ্বি কফি।’ইরিনা কফি বানাতে চলে গেল। ভাল পর্যবেক্ষক হলে বুঝে ফেলবে এটা তার ইচ্ছাকৃত। বেশিরভাগ ক্লায়েন্টই এমন। হন্তদন্ত হয়ে আসে। কথা গুছিয়ে বলতে পারে না। প্রাইভেট কাউন্সেলর হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে যাওয়ায় ইরিনাকে এমন ক্লায়েন্ট কম সামলাতে হয়নি। এসব টুকটাক কৌশল তাই রপ্ত করতেই হলো তাকে।‘এবার গোড়া থেকে বলুন।’‘সেদিন সকাল থেকে বৃষ্টি। বাবা মা প্রতিদিনই ঝগড়া করে। মানে আমার সৎমা। কলেজ থেকে ফিরে দেখি ওইদিনও ঝগড়া করছে দুজন।’কফিতে চুমুক।‘কী নাম আপনার?’‘শুভ।’‘কী নিয়ে ঝগড়া হতো ...