Monday, March 2
Shadow

Tag: কিশোর গল্প

ভূতের গল্প : মাছরাঙা ভূত

কিশোর গল্প
মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন সুন্দরপুর গ্রাম। গ্রামের পাশে ছলছলা নদী। নদীর পাশেই স্কুল। বাঁধ দেওয়াতে এবারের বর্ষায় বড় ধরনের ভাঙন নেই। তাই স্কুলটার রক্ষে। এই স্কুলেই পড়ে ফয়েজ। নবম শ্রেণিতে। ঝিলের খানিক দূরেই তার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত। কেউ তাকে কোথাও ডাকলে মানা নেই। রাত কয়টা বাজলো সেদিকে খেয়াল নেই। দে ছুট। একটা জোড়ালো শখ তার মধ্যে আছে। সেটা হলো মাছ ধরার শখ। বরশি দিয়ে টেঁটা দিয়ে কিংবা পোলো দিয়ে মাছ ধরা তার অন্যরকম শখ। আজ রাতে বৃষ্টি হয়েছে। রাত এগারোটা পর্যন্ত স্যারের কাছে পড়তে এসে আটকে পড়ে যায়। রাত সাড়ে এগারোটায় বাড়ি ফেরে। ঝিলের পাশ দিয়েই ওর যাওয়ার রাস্তা। হাতে টর্চলাইট। হঠাৎ দেখল ঝিলের কিনারে লাফিয়ে উঠছে অনেক মাছ। তেলাপিয়া, কই শিং ইত্যাদি। শরীর থেকে শার্ট খুলে মাছ ভরতে লাগল। অনেক হয়েছে। শার্টে আর জায়গা নেই। ওজনও হয়েছে বেশ। ভালো করে গিট মেরে মাছ কাঁধে ফেলে দ্রুত বা...

স্বপ্নের সাইকেল

কিশোর গল্প
কয়েকদিন যাবৎ অঝোর বৃষ্টি গোটা শহর জুড়ে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ।কতদিন সূর্যের মুখ দেখা হয় না মনে নেই।পীনপতন নীরবতা বিরাজমান শহরের অলিগলিতে।এমন এক মখমলে দিনে আসিফ মুখ ভার করে বসে আছে।তার ভীষণ রকমের মন খারাপ।কারণ তার বাবা আবদার রাখেনি তার।আজ সেই প্রতীক্ষিত দিন যে দিনে বাবা তাকে সাইকেল কিনে দিবে বলেছিল।এই দিনের অপেক্ষায় সে কতো রাত নিদ্রাহীন থেকেছে।কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আজ। আসিফের বাবা রিক্সাচালক।ঢাকার রায়ের বাজারে দীর্ঘ ১৬ বছর সে রিক্সা চালায়।অসীম অভাব আর টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার চলে যাচ্ছিল কোনোরকম।আসিফের একটা ছোট বোন আছে। তার নাম আফিয়া। আফিয়া তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। দুরন্ত স্বভাবের মেধাবী একজন মেয়ে। গত পরীক্ষা সে সেকেন্ড হয়েছে।সেজন্য তার প্রচুর মন খারাপ হয়েছিল।তাই এবার সে ভালোভাবে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছে।এবার তাকে ফার্স্ট হতে হবে। বিকেল পেরিয়ে সন...

গুলজার মামা ও মাজন সন্ন্যাসী 

কিশোর গল্প, হরর গল্প
জুয়েল আশরাফ  গুলজার মামা ভূত বিশ্বাস করেন না। কেউ ভূতুড়ে গল্প বললে তেতে ওঠেন। মামা একটা কোম্পানিতে ম্যানেজার পদে চাকরি করেন। অফিসের কেউ যদি তার সাথে ভূতের ভয়ানক কিছু বলেন, তাহলে মামা ভয় পান না। মামা বলেন, ভূত বলে কিছু নেই। এ সবই মানুষের মনের ব্যাপার। একদিন অফিসে বেশি কাজ থাকায় রাতে মামা বাড়ি ফিরছিলেন। বাইক নিয়ে আরাম করে বাড়ি ফেরার পথে, হঠাৎ নির্জন রাস্তায় বাইক বন্ধ হয়ে যায়। রাত অনেক হয়ে গেছে, এসময় কোনো দোকান খোলা থাকে না। বাইক ঠিক করতে পারবে না ভেবে টেনে নিয়ে হাঁটতে লাগলেন। কিছুদূর পৌছে দেখলেন বাসস্টপের কাছে মাজন সন্ন্যাসী বসে আছে। একসময় সে মাজন বিক্রি করত, তাই ওই নাম। ব্যবসায় লাভবান হয়নি, মাজন ব্যবসা ছেড়ে হালে সন্ন্যাসীর বেশভূষা ধরেছে। আজকাল কেউ আঙুলের মাথায় ছাইপাঁশ লাগিয়ে দাঁত মাজে না। সবাই এখন টুথপেষ্ট আর টুথব্রাশে অভ্যস্ত।  অনেকক্ষণ ধরে বাইক টেনে নি...