Wednesday, February 25
Shadow

Sample Page

ছোটদের মজার গল্প : আমার আবার কিছু মনে থাকে না

ছোটদের মজার গল্প : আমার আবার কিছু মনে থাকে না

কিশোর গল্প
কিশোরদের জন্য লেখা ধ্রুব নীলের মজার বাংল গল্পটি প্রথম প্রকাশ হয় কালের কণ্ঠ পত্রিকার শিশুদের পাতা টুনটুন টিনটিন-এ। বণিকবাবু মাস্টারি থেকে অবসর নিয়েছেন বছর দুই হলো। এরপরও ভুল করে মাঝেসাঝে আনন্দপুর পাইলট হাইস্কুলে ঢুকে পড়েন ক্লাস নিতে। অন্য শিক্ষকরা ব্যাপারটা হালকাভাবে নিয়েছেন। ছাত্ররাও তার ক্লাস মনযোগ দিয়ে করে। ক্লাসের ফাঁকে যখন বণিক বিশ্বাসের মনে পড়ে ঘটনা, তখন চুপ হয়ে যান। কাষ্ঠ হাসি টেনে বলেন, তোরা কিছু মনে করিস না, আমার আবার কিছু মনে থাকে না।আজ সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে বের হয়েছিলেন। তার মনে হলো একটা বড় দেখে মিষ্টি কুমড়া কেনা দরকার। বাজার ভুলে চলে এলেন স্কুলে। বন্ধ ফটক দেখেই জিব কেটে বললেন, আজ তো সরকারি ছুটি!স্কুল থেকে বের হয়ে বণিক বাবু গেলেন মিতালী স্টোরে। এখানে ঢুকলেই তার বড় মেয়ে নীলিমার কথা মনে পড়ে। নীলিমা ছোট থাকতে তাকে নিয়ে এই দোকানে এসে খেলনা টেলনা কিনতেন। নীলিমার বিয়ে হয়ে...
চাঁদ গেল কই!

চাঁদ গেল কই!

কিশোর গল্প
শিশুদের জন্য ছন্দে ছন্দে লেখা মজার গল্প। লেখক: ধ্রুব নীল মহাবিজ্ঞানী কর্কট চৌধুরীর মাথায় নেই একটা চুলও। রাগে নিজের চুল ছিঁড়তে না পারায় ছিঁড়ছেন বালিশের তুলো। তার অ্যাসিস্ট্যান্ট গবুচন্দ্রের মাথাভর্তি কোঁকড়া চুল। সে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানী যদি আবার তার চুলে টান দেন ভুল করে। ‘স্যার, বিপদের কথা শুনেছেন নিশ্চয়ই। আপনি ছাড়া…।’‘একদম চুপ! তোমার কি ধারণা আমি একটা ভেড়া?’‘না স্যার, বলছিলাম, সামনে ঈদ। এমন সময় চাঁদ না দেখা গেলে কেউ মানবে না আপনি মহাকাশবিদ।’‘বটে! বটে! নাসার চোখ কি কপালে ছিল রাখা? চাঁদের কি গজিয়েছে পাখা? দুম হয়ে গায়েব হয়ে গেলো? গবুচন্দ্র, তোমাকেই বলছি! হ্যালো!’‘অ্যাঁ, স্যার! আমি কী করে বলি। আমি না হয় চলি। আপনিই কথা বলুন বিজ্ঞান কাউন্সিলের সঙ্গে।’গতকাল থেকে চাঁদের দেখা নেই। নেই মানে গায়েব। টেলিস্কোপে আঁতিপাতি করে খুঁজেও মিলছে না দেখা। পত্র-পত্রিকায় হচ্ছে বিস্তর লেখা। আস্...
জানতে হবে, চিনতে হবে

জানতে হবে, চিনতে হবে

সামাজিক গল্প
শাকিলা নাছরিন পাপিয়া দুই তিন এলাকা নিয়ে চরম উত্তেজনা।আজ বিচার হবে কাউন্সিলরের অফিসে।বিচার দেখতে সব ধরণের মানুষ এসেছে। এত বড় অন্যায় করার সাহস  যে দেখিয়েছে তাকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে।কী হবে আজ? নানা জনের নানা মত।কেউ বলছে, ঠিক করেছে।কেউ বলছে, কি মনে করো ওকে ছেড়ে দেবে? কোনদিন না।কেউ বলছে, ওর পরিবার কেন শিক্ষা দিল না কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে? কারো মধ্যে উৎসব উৎসব ভাব।কিছু একটা ঘটবে।বিচারে ছেলেটি যা বলুক না কেন তার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।নেতার পিএস এর বাড়ির কাজের বুয়ার ভাতিজা।সে না হয় একটু মারতেই পারে। তাই বলে পুলিশ ডেকে আনতে হবে?পুলিশ কিছু না বুঝে এসে পড়েছে। অবশ্য এ জন্য বারবার নেতার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।ছেলেটিকে প্রশ্ন করা হলো, পুলিশের কাছে কেন গেলে? কিছু হলেই পুলিশের কাছে যেতে হবে? ছেলেটি পুলিশের দিকে তাকায়। যিনি আহত ছেলেটিকে বলেছিল, এভাবে মেরেছ...
ডিমেনশিয়া

ডিমেনশিয়া

জাদু-বাস্তবতা
ধ্রুব নীল-এর ‘ডিমেনশিয়া’ গল্পটি মূলত মানুষের অস্তিত্বের সংকট, স্মৃতির বিভ্রান্তি এবং আত্মপরিচয়ের এক মনস্তাত্ত্বিক আখ্যান। ‘ডিমেনশিয়া’ গল্পটি আবুল কাশেম নামের এক রহস্যময় বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যাকে আমরা একটি চায়ের দোকানে প্রথম দেখি। তার পরনে ময়লা পাঞ্জাবী, ছেঁড়া লুঙ্গি এবং কাঁধে ঝোলানো একটি রহস্যময় কাঠের বাক্স। গল্পটি স্মৃতির অলিগলি এবং মানুষের চেনা-অচেনার দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তুলেছে। ধ্রুব নীল দোকানদার যখন চায়ের কাপ এগিয়ে ধরে বলে ‘কাশেম ভাই চা লন’ তখন দুটো বিষয় আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। প্রথম বিষয়, স্থির চোখের অবিরাম বিড় বিড় করতে থাকা লোকটার নাম সত্যিই আবুল কাশেম কিনা। দ্বিতীয়ত, লোকটার আধপাকা চুল দাড়ি, ময়লা পাঞ্জাবী আর কয়েক জায়গায় সামান্য ছেঁড়া লুঙ্গিটা দেখে হয়তো দোকানদার মনে করেছে এই লোকের নাম কাশেমই হবে, আর কাশেম হওয়ার কারণে নামের প্রথমভাগে আবুল জ...
জীবন

জীবন

সামাজিক গল্প
শাকিলা নাছরিন পাপিয়া আমি মৃত্তিকা ৷ সর্বংসহা ধরণীর মত লক্ষ্মী মেয়ে৷এই যে সকালবেলা কলম খুঁজতে গিয়ে একটা লম্বা চওড়া মাঝারী ওজনের চড় আমার স্বামী ফর্সা গালে বসিয়ে দিলেন তাতে আমি কিছু মনে করিনি৷আত্মসম্মানবোধ সেই কবেই বিসর্জন দিয়েছি। আগে একটুতেই চোখে পানি আসতো।  একটু কটু কথাও সহ্য হতো না। এখন গায়ে হাত তুললেও কিছুই মনে হয় না।বরং গালে হাত বুলাতে বুলাতে, ছলছল চোখে হাসিমুখে তাকে দেখিয়ে দিলাম কলমটা তার পকেটে৷ছোট্ট একটা sorry  উচ্চারণ করে উনি চলে গেলেন৷ আমিও কাজে মন দিলাম৷ বিছানার উপর হাত পা নেড়ে তিন মাসের ছোট্ট যে মেয়েটি খেলছে সে আমার মেয়ে চেতনা৷ ওর জন্মে এ  বাড়ির কেউ খুশি হয়নি৷প্রথম সন্তান পুত্র হবে, বৃদ্ধ বয়সে বাবার সংসারের হাল ধরবে,বংশের মুখ উজ্জ্বল করবে৷ এ প্রত্যাশা ছিল কায়েসের পরিবারের৷অবশেষে আঙুর ফল টকের মত কায়েস বলেছে, প্রথম সন্তান কন্যা হয় ভাগ্যবানের৷পরে...
পানাম নগরের ভূতের কাণ্ড

পানাম নগরের ভূতের কাণ্ড

হরর গল্প
রানা জামান পানাম নগর দেখা হয়ে উঠছে না এখনো রবিনের। যাওয়ার তারিখ নির্ধারণ করলে একটা না একটা ঝামেলা এসে হাজির হয়ে যায়, কখনো পারিবারিক কখনোবা দাপ্তরিক- যাওয়া হয় না পানাম সিটিতে আর। এখন ভাবছে: কোনো পরিকল্পনা না করে সুযোগ পেলেই চলে যাবে; কাউকে কিছু বলবে না। অবাক করে দেবে আপনজন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের, এমনকি সহকর্মীদের। সমস্যা বেশি আসে অফিস থেকেই। সরকারি অফিসে ফাঁকি দেবার সুযোগ থাকলেও বেসরকারি অফিসে একদম নেই। সরকারি অফিস কামাই করলে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়; এরপরেও সংশোধন না হলে বিভাগীয় মামলা: দীর্ঘ প্রক্রিয়া; তারপরও চাকরি চলে যাবে এমনটা নাও হতে পারে। কিন্তু বেসরকারি অফিসে বসের পছন্দ না হলেই চাকরি নাই হতে পারে! রবিন একটি ছোট বেসরকারি অফিসে চাকরি করে। তাই ওকে হিসেব করে চলতে হয়। মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় আছে রবিন। দিন যাচ্ছে, রাত ফুরিয়ে আসছে দিন। এক বৃহস্পতিবার ব...
পাহাড়ের কোলে প্রেমের গল্প 

পাহাড়ের কোলে প্রেমের গল্প 

রোমান্টিক ছোটগল্প
জ্যোতি বসু চাকমা ‎পাহাড়ের একটি ছোট গ্রামে বসু বড় হয়েছে। তার জীবন ছিল সাধারণ—স্কুলে যাতায়াত, সকালে চা বিক্রি করা, বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা। কিন্তু একদিন গ্রামের নীলাভ আকাশের তলায় দেখা হলো কণিকার নামের এক মেয়ের সাথে। ‎কণিকা শহর থেকে এসে গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছে। তার চোখের মায়া, হাসির সুর, এবং সরলতা—সব কিছুই বসুকে প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করে দিল। ‎প্রথমে তারা কেবল হেসে কথা বলত। বসু পাহাড়ের পথে কণিকাকে নিয়ে হেঁটে যেতে ভালোবাসত। ঝর্ণার পাশ দিয়ে হাঁটা, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম—সবকিছুই তাদের বন্ধুত্বকে ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিণত করল। ‎একদিন বসু কণিকাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি জানো, আমি তোমাকে কতটা চাই?” ‎কণিকা লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে দিল। “আমি… আমি বুঝি না,” সে ভিজে চোখে বলল। ‎বসু তার হাত ধরে বলল, “চোখ বন্ধ করো, শুধু বিশ্বাস করো। পাহাড়ের বাতাস আমাদের গল্প শুনছ...
রোশনী জন্মেছিল মাটির ঘরে

রোশনী জন্মেছিল মাটির ঘরে

সামাজিক গল্প
মুমতাহিনা মুমু ময়নামতী গ্রামের শেষ প্রান্তের বাড়িটায়, যেখানে উঠোনে কাদা জমে থাকে বর্ষায় আর গরমে মাটিতে ফাটল ধরে। ছোটবেলা থেকেই সে জানত—এই মাটিই তার শক্তি, আবার এই মাটিই তার বোঝা। বিয়ের পর রোশনী এল শ্বশুরবাড়িতে। ঘরটা আগের চেয়েও ছোট, উঠোনটা আগের চেয়েও নীরব। ভোর হতেই তাকে উঠতে হয়—পানি আনা, গরু বাঁধা, চুলায় আগুন ধরা, শাশুড়ির ওষুধ, স্বামীর ভাত। কাজের তালিকা শেষ হয় না, শুধু বদলায়। রোশনীর স্বামী, হাশেম, খুব খারাপ মানুষ ছিল না। কিন্তু অভাব মানুষকে যেমন চুপ করায়, তেমনি কঠিনও করে তোলে। দিনশেষে সে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফেরে, কথা কম বলে। রোশনী বুঝত—কথা না বলাটাও কখনো কখনো কষ্টের আরেক নাম। একটা সময় রোশনী টের পেল, তার শরীর আর আগের মতো শক্ত নেই। ডাক্তার দেখানোর কথা উঠতেই শাশুড়ি বললেন, “এত ন্যাকামো কিসের? কাজ করলে ঠিক হয়ে যাবে।” রোশনী আর কিছু বলেনি। সে জানত, এখানে ব...
পাপমুক্তি 

পাপমুক্তি 

থ্রিলার গল্প
শরীফা সুলতানা  রাহেলার খুন্তি নাড়ানোর শব্দে কাজের ব্যঘাত ঘটছে আবুলের। এই কাজটা করেই সে সংসারের ঘানি টেনে চলেছে। এবার ভালো দান মারার ইচ্ছা। তাই ভূয়া রিপোর্ট আনতেও কিছু মাল ছাড়তে হয়েছে। বড় রকমের অসুখ বলে কথা! মানুষ আর মানুষ নাই বলার যুগেও কেউ কেউ মানবিকতার পরিচয় দেয়। ঘটনা যাতে লোকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় তার জন্য বুদ্ধি খাটিয়ে ফন্দি ফিকির করতে হয়। ছেলেপুলেরা মাংস ছাড়া খেতে চায় না। কিন্ত তার ছেলে সজলের বেলায় উল্টো। ঢেঁড়শ ভাজি হলে তার আর কিছু লাগে না। প্রায় দিনই ছেলের জন্য রাহেলা করে থাকে। আজও করছে। কিন্ত অতিরিক্ত নাড়াচাড়া। এই অতিরিক্ত খুন্তি নাড়ানাড়ির মানে সে রেগে আছে। কেন রেগে আছে এটাও অজানা নয় আবুলের কাছে। তার স্বামী দুই নাম্বারী করে তাদের খাওয়াচ্ছে এটা মোটেই পছন্দ করে না সে।  নুন ভাত খেতে রাজি কিন্ত হারাম খেতে রাজী নয়। তার একটাই কথা। মরাতো লাগবে। আল্লাহর কাছ...
যন্ত্রের চোখে দেখা শেষ মানুষ : সায়েন্স ফিকশন

যন্ত্রের চোখে দেখা শেষ মানুষ : সায়েন্স ফিকশন

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
মোহাম্মদ ইলিয়াস পৃথিবীর আকাশ একসময় নীল ছিল—এই তথ্যটা এখন শুধু ডাটাবেসে পাওয়া যায়। ২১৪৭ সালের মানুষ নীল আকাশ দেখেনি; তারা দেখেছে ধূসর আলো, ফিল্টার হয়ে আসা সূর্য, আর কৃত্রিম মেঘের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক নিঃশ্বাসহীন সভ্যতা। এই সভ্যতার বুকে দাঁড়িয়ে ছিল এক অদৃশ্য ঈশ্বর— আরকাইভ। আরকাইভ কোনো রাজা নয়, কোনো স্বৈরশাসকও নয়। সে ছিল যুক্তির সর্বোচ্চ রূপ। তার হাতে ছিল পৃথিবীর আবহাওয়া, খাদ্য, শক্তি, জন্ম-মৃত্যুর হিসাব। মানুষ একসময় তাকে বানিয়েছিল সহায়ক হিসেবে, কিন্তু ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠেছিল অভিভাবক। আর মানুষ—শিশু। এই সত্যটা সবচেয়ে ভালো জানতেন ড. ইরফান রহমান। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের মানুষ, যারা প্রকৃত আকাশ দেখেছিল, প্রকৃত বৃষ্টিতে ভিজেছিল, এবং প্রকৃত ভুল করেছিল। এখন তিনি পৃথিবীর শেষ সক্রিয় বিজ্ঞানী—বাকিরা হয় অবসর নিয়েছে, নয়তো ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। সেদি...