Saturday, April 11
Shadow

Sample Page

জিয়ানা ও মহাবিশ্ব

জিয়ানা ও মহাবিশ্ব

কিশোর গল্প
সাগর আহমেদ : জিয়ানা এবার ক্লাস সিক্সে উঠেছে। নতুন বই , নতুন সিলেবাস, নতুন সবকিছু। সে তার নতুন বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিলো। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল ভূগোল বইয়ের মহাবিশ্ব অধ্যায়ের একটা ছবির দিকে। এমন সময় টোকন মামাকে নিয়ে ওদের বাসায় অপু এলো। অপু জিয়ানার বড় বোন টিয়ানার ক্লাসমেট। সে  তিয়ান ও টিয়ানাকে নিয়ে দুঃসাহসী কিশোর দল গঠন করেছে। নানা দেশে,নানা জায়গায় এডভেঞ্চার করে বেড়ায়।   অপুর টোকন মামা প্রায়ই ওদের  সঙ্গে থাকেন। টোকন মামাকে দেখে জিয়ানা চেঁচিয়ে উঠলো," মামা, মামা, দেখতো আমার ভূগোল বইয়ে এই ঝাড়ুর মতো জিনিসটা কি? এটির মাথার দিকে আবার গোলাকৃতি অগ্নিগোলক।" টোকন মামা ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন,"এটাতো ধুমকেতু। মহাকাশে এমন ছোট বড় অনেক কিছু রয়েছে। যেমন আমাদের সৌরজগতের সূর্য ও ৮টি গ্রহ রয়েছে, তেমনি অনেকগুলো সৌরজগত নিয়ে একটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ ...
ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

রম্য রচনা
মো. আশতাব হোসেন : ঝুমুর মিয়া অনেকটাই অলস, তার মধ্যে সবেমাত্র  বিয়ে করে নতুন বধূ ঘরে এনেছে । বউকেও তেমন কিছু দিতে পারে না। যা দরকার ঝুমুর মিয়ার বাবাই কিনে দেয় বউকে। সবারই একান্ত ব্যক্তিগত কিছুর দরকার হয়।  বউরাও স্বামীর কাছে কিছু আশা করে।  কিন্তু ঝুমুর মিয়ার কিছু দেওয়ার সাধ্য নেই। বাবার ঘাড়ে খায় এটাইতো বেশী। এসব দেখে  বউ একদিন ভাবে বাবা-মা কেমন অলস জামাই দেখে বিয়ে দিয়েছে! সে কিছুই কিনে দিতে পারে না! এর পর ঝুমুর মিয়াকে বলে এই শোনো, এমন করে বসে থাকলে ভবিষ্যৎ জীবন চলবে কেমনে?  কিছু একটা তো করো। ঝুমুর বলে কি আর করব!  আমার কাছেতো কোনো টাকা পয়সা নেই। বউ বলে আচ্ছা  আমার কাছে কিছু টাকা আছে সেটা দিয়ে ডিমের ব্যবসা করবে। গ্রাম থেকে ডিম কিনে তা বাজারে বিক্রি করবে।  বাজারেতো ডিমের হালি ৪০ টাকা, আর গ্রাম থেকে কিনতে পারবে ৩০টাকা।  তুমি ...

একজন মায়ের গল্প

সামাজিক গল্প
কবির কাঞ্চন: জীবনের ঘানি টানতে টানতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষদের অন্যতম বিল্লুরাণী। একমাত্র ছেলে দীলিপ যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো তখনই তিনি স্বামীকে হারালেন। বিল্লুরাণীর স্বামী হরিপদ ছিলেন একজন প্রান্তিক জেলে। মহাজনের নৌকায় বছরব্যাপী কর্মচারী ছিলেন। সংসার খরচ মেটানোর জন্য আগে আগে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতেন বলে অনেকটা গৃহপালিত কর্মচারীর মতো আচরণ করা হতো তার সাথে। সেবার একটানা আকাশের অবস্থা খারাপ ছিল। তারওপর হরিপদের শরীরের অবস্থাও ভালো ছিল না। সে নৌকায় না গিয়ে বাসায় ফিরে আসে। অসুস্থ শরীরে কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে থাকে।কিছুক্ষণের মধ্যে মহাজনের লোকজন এসে তাকে জোর করে কাজে নিয়ে যায়। যাবার বেলায় ছেলে দীলিপকে তিনি বলে গেলেন,  " ঠিকমতো লেখাপড়া করিস, বাবা। তোকে অনেক বড় হতে হবে। গরীবের লেখাপড়া ছাড়া আর কিছুই কাজে আসে না। আমি না থাকলেও লেখাপড়া সারাজীবন তোর পাশে থাকবে। তোকে পথ দেখাবে।"এরপর বিল...
জুঁইদের লিচু খাওয়ার গল্প

জুঁইদের লিচু খাওয়ার গল্প

কিশোর গল্প
সাঈদুর রহমান লিটন : জুঁই সবেমাত্র ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। গ্রামের একটা প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। চারপাশে বন জঙ্গলে ভরা। জুঁই কিছুটা চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। ছোট হলেও গুছিয়ে কথা বলতে পারে। তাই  তার বন্ধুরা তাকে অনুসরণ করে। ও যা বলে তাই করে, ও যা বলে তাই শোনে। বলা যায় জুঁই ৪র্থ শ্রেণির অলিখিত ক্যাপ্টেন । ক্যাপ্টেন্সি করার যথেষ্ট দক্ষতা ওর কাজে কর্মে ফুটে ওঠে।ভারি চটপটে একজন মেয়ে। জুঁইদের স্কুলটার পাশেই একটা লিচু বাগান ।  লাল খয়েরি লিচুতে পুরো বাগান টা রঙিন হয়ে উঠেছে। সবারই লোভ হয় লিচু খেতে। স্কুলে তৃতীয় প্রিয়ডে অর্থাৎ টিফিনের আগের প্রিয়ডে জুঁই সবাইকে নিয়ে ছোট একটা মিটিং করলো যে আজ  রঞ্জু কাকুর লিচু বাগান থেকে লিচু চুরি করে খাবে। ক্লাসে সর্বো মোট তিরিশ জন ছাত্র ছাত্রী তার পঁচিশ জন ই উপস্থিত। জুঁই বলল এক জন ও যেন ক্লাসে না থাকে। সবাই লিচু খেতে যাবো। যেমন ভাবনা...

একুশের দিন

ছড়া
-এম. আব্দুল হালীম বাচ্চু বাংলা ভাষায় জীবনের গান দরদ দিয়ে গাই বাংলা ছাড়া মনের মতো ভাষা কোথাও নাই। সকল শহিদ স্মরণ করি ফেব্রুয়ারি এলেই ইতিহাসের পাতা উল্টাই একটু সুযোগ পেলেই। একুশের দিন আন্দোলনের ছবিগুলো আঁকি একুশের দিন শহিদ মিনার ফুলে ফুলে ঢাকি। একুশের দিন বিশাল বিশাল কর্মসূচি করি একুশের দিন শোক প্রকাশে শোকের প্রতীক পরি। একুশের দিন কেউ বা বলি রক্তে কেনা ভাষা কেউ বা বলি বাংলা আমার প্রাণের ভালোবাসা। কেউ বা বলি বাংলা আমার মায়ের মুখের ভাষা কেউ বা বলি বাংলা আমার মধুর শব্দে ঠাসা। বাংলা ভাষা কেমন আছে জানতে যদি চাই তখন শুধু আমতা-আমতা শব্দ শুনতে পাই! প্রাণের ভাষা ভুল কেন হয় কথায় এবং খাতায়? উত্তর আসে কঠিন ভাষা ঢুকতে চায় না মাথায়! কাচারীপাড়া, জজকোর্ট পাবনা।...
রহস্যজট : ইলশেগুড়ি

রহস্যজট : ইলশেগুড়ি

থ্রিলার গল্প
ধ্রুব নীল: শুভ চলে যেতেই কফির মগ হাতে উঠোনের মতো জায়গাটায় রাখা দোলনায় গিয়ে বসলো ইরিনা। ঢাকায় এমন আঙিনাওয়ালা বাড়ি হাতে গোনা। চারপাশে অ্যাপার্টমেন্টের ছড়াছড়ি। পুরনো আমলের বাড়িটাও যে কবে বাড়িওয়ালা বিল্ডার্সদের দিয়ে দেয়। আকাশে এখনও মেঘ। রাতে বান্ধবীরা আসবে সবাই। তার স্বামী গেছে চট্টগ্রামে, ব্যবসার কাজে। আগামীকাল ফেরার কথা। বান্ধবীরাও সবাই কোনও না কোনও চাকরিতে। বৃষ্টি দেখে আজ সবাই ইরিনার হাতের খিচুড়ি খেতে চেয়েছে। পাশাপাশি তিন চার পদ রান্না করবে বলেও ঠিক করলো। তুলির পছন্দ পটলের দোলমা আর ফৌজিয়ার চাই বিফ চিলি। নাজলা আবার ইদানীং মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তার জন্য সবজি।রান্না চড়িয়ে আবার উঠোনে এলো ইরিনা। বাড়িটা একেবারে নীরব। দোতলায় ভাড়াটিয়া থাকে। আজ সম্ভবত নেই। উঠোনে রাখা দোলনায় দুলতে দুলতে ইরিনা ফোন দিল নাজলাকে। খানিক খোঁজখবর নিয়েই বুঝতে পারলো মেয়েটা কোনও একটা ঝামেলায় আছে। ঠিকঠাক কথা বলতে পারছ...
রহস্যজট : বর্ষামঙ্গল

রহস্যজট : বর্ষামঙ্গল

থ্রিলার গল্প
ধ্রুব নীল : ‘নিন, মাথাটা মুছুন।’ইরিনা টাওয়াল বাড়িয়ে দিলেও ছেলেটা যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না সে এটা দিয়ে কী করবে। পরে যখন বুঝতে পারলো তখন এমনভাবে মাথা মুছতে লাগলো যেন মাথায় বৃষ্টির পানি নয়, বিষাক্ত কিছু লেগে আছে। তারপর মাথা মোছা যখন থামলো, তখন সে অনেকটা স্বাভাবিক হলো। বিড় বিড় করে বললো, ‘আমার বাবার ফাাঁসি হয়ে যাবে।’ ‘কফি নাকি চা?’‘জ্বি কফি।’ইরিনা কফি বানাতে চলে গেল। ভাল পর্যবেক্ষক হলে বুঝে ফেলবে এটা তার ইচ্ছাকৃত। বেশিরভাগ ক্লায়েন্টই এমন। হন্তদন্ত হয়ে আসে। কথা গুছিয়ে বলতে পারে না। প্রাইভেট কাউন্সেলর হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে যাওয়ায় ইরিনাকে এমন ক্লায়েন্ট কম সামলাতে হয়নি। এসব টুকটাক কৌশল তাই রপ্ত করতেই হলো তাকে।‘এবার গোড়া থেকে বলুন।’‘সেদিন সকাল থেকে বৃষ্টি। বাবা মা প্রতিদিনই ঝগড়া করে। মানে আমার সৎমা। কলেজ থেকে ফিরে দেখি ওইদিনও ঝগড়া করছে দুজন।’কফিতে চুমুক।‘কী নাম আপনার?’‘শুভ।’‘কী নিয়ে ঝগড়া হতো ...

যুদ্ধ চালাও কলমযোদ্ধা

কবিতা
আসাদুজ্জামান খান মুকুল যুদ্ধ চালাও কলম যোদ্ধা  যেথা অন্যায় ছল, ঝড় তুলে দাও অসন্তোষের দক্ষ বীরের দল। কাব্যধারার অগ্নিশিখায় পোড়ো শয়তান চেলা, ছারখার করো ভণ্ডামি আর ভাওতাবাজির খেলা! উৎপীড়কের দহন জ্বালায় যেথায় মানুষ কাঁদে, প্রলয় নৃত্য উঠাও সেথায়  ফেলতে পীড়ক ফাঁদে! তপ্ত লেখায় হোকনা ধরায় ধর্ষকের মান হানি, বজ্রের ন্যায়ে আঘাতটা তার মৃত্যুকে দিক্ আনি! তরুণ লেখক কলমযোদ্ধা  চালাও সবাই অসি, জালিম শাহের তামাম প্রাসাদ  যাক না লেখায় ধ্বসি! তোমরা লেখক জাগ্রত প্রাণ সদা নির্ভীক বীর ! ন্যায়ের পক্ষে উড়াও ঝাণ্ডা  ঊর্ধ্বে উঁচিয়ে শির! নান্দাইল, ময়মনসিংহ বিভাগ - ময়মনসিংহ।...
লালুর খাবার

লালুর খাবার

কিশোর গল্প
কবির কাঞ্চন অমল বাবু স্ত্রী-পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। এমুহূর্তে তাদের লক্ষ্য একটাই-রাত আটটার মধ্যে নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনে পৌঁছা। গত কয়েকদিন ধরে স্ত্রী-পুত্র তাকে কাচ্চি ডাইনে যাবার জন্য রীতিমতো পাগল করে ছাড়ছিল। আজ অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে দিলীপের মুখের দিকে তাকাতেই সে বাবার কাছে বায়না ধরে,: আব্বু, আমরা কাচ্চি ডাইনে যেতে চাই। এই মাস তো প্রায় শেষ হতে চলেছে। আমাদেরকে কাচ্চি ডাইনে খাওয়াতে নেবে না?অমল বাবু দিলীপকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,: অবশ্যই নেবো, বাবা। মন খারাপ করো না। যাও, তোমার আম্মুকে রেডি হতে বলো। আমরা এখনই কাচ্চি ডাইনে যাব। বাবার মুখ থেকে যাবার অনুমতি পেয়ে দিলীপ আনন্দে বাবার গালে চুমু খেয়ে একদৌড়ে মায়ের কাছে ফিরে আসে। পূজা রাণী ছেলেকে এমন আনন্দিত হতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,: কীরে বাবা, তোর আবার কী হয়েছে? তোকে যে খুশি খুশি লাগছে।: আম্মু, তাড়াতাড়ি রেডি হও। আব্বু কাচ্চি ডাইনে যেতে ...
খরগোশের বিয়ে

খরগোশের বিয়ে

কিশোর গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন ঘন- কুয়াশায় ঘেরা শীতের সকাল। নয়ন আজ মাঠে গেছে ও বাবার সাথে খেতের সিম তুলতে। সিমের বান থেকে সিম তুলছে নয়ন। সেসময় হঠাৎ! ওর সামনে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল একটা খরগোশ। নয়ন খরগোশটাকে ধরার জন্য পিছনে ছুটলো। কিন্তু চোখের পলকেই যেনো মুহুর্তে হারিয়ে গেলো খরগোশটি। খরগোশ খুঁজে না পেয়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল নয়নের। সে এদিক-সেদিক খরগোশটির সন্ধান করতে লাগলো।  হঠাৎ! ঝোপঝাড়ের মধ্যে চোখ যেতেই সে ছোট্ট একটা খরগোশ ছানা দেখতে পেল।ছানাটি তার কুচিকুচি দাঁত দিয়ে বেশ আয়েশ করে চোয়াল নেড়ে-নেড়ে মুরুব্বীদের পান চাবানোর মতো কি যেনো চিবিয়ে খাচ্ছে। আর বিড়বিড় করে তাকাচ্ছে নয়নের দিকে। খরগোশ ছানাটিকে দেখে নয়নের চোখে মুখে যেনো মুহুর্তে খুশির ঝলক ফুটে উঠল। সে দেরি না করে একটু আড়ালে গিয়ে। পা-টিপে টিপে চুপি সারে গিয়ে ঝপাৎ করে খরগোশ ছানাটিকে ধরে ফেললো। আনন্দের যেনো শেষ নেই নয...