Sunday, November 30
Shadow

কিশোর গল্প

This section will contain stories for juvenile readers. এই বিভাগে থাকবে কিশোর বয়সীদের গল্প

খোকার ঈদ

খোকার ঈদ

কিশোর গল্প
মো. আশতাব হোসেন : কোরবানি ঈদের চাঁদ দেখে চঞ্চলের খুশির সীমা নেই।  ঈদের আর ক'দিন বাকি আছে চঞ্চল প্রতিনিয়ত গুণতেই আছে । তার অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না।  ইতোমধ্যেই তার বাবা মজিদ সরকার চঞ্চলের ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিয়েছে। চঞ্চল তার বন্ধু বান্ধবদের ডেকে এনে নতুন পোশাকগুলি দেখায় রোজ রোজ। কেউ যদি বলে, বাহ্! তোমার পোশাকগুলি অসাধারণ হয়েছে। তাহলে তার  খুশির সীমা থাকে না।পাশের বাড়ির এক বয়স্ক মহিলা যাকে চঞ্চলসহ তার বয়সী সকল ছেলেমেয়েরা দিদা বলে ডাকে, তাকে হাত ধরে নিয়ে আসে চঞ্চল তার নতুন পোশাক দেখানোর জন্য। বুড়ি তো ঠিকমতো চোখেই  দেখে না বয়সের ভারে। কিন্তু ছোট চঞ্চল এতোকিছু বুঝে না। সে পোশাক বের করে বলে, ' দিদা, আমার ঈদের পোশাকগুলি কেমন হয়েছে দেখো তো? দিদা হাতে নেড়ে নেড়ে চঞ্চলের জিন্সের প্যান্ট দেখে বলে,  'বেশতো চঞ্চল,  খুব মোটা আছে। শীতের মধ্যে আরাম হবে, শীত লাগবে না  তোর।' এর...
হেলদি ক্লাবের হুলস্থূল

হেলদি ক্লাবের হুলস্থূল

কিশোর গল্প
জুয়েল আশরাফ : পদ্মপুর গ্রামের স্কুলে একটা আজব ক্লাব ছিল—'হেলদি ক্লাব'। এই ক্লাবের সদস্যরা ছিল বিশাল একদল দুষ্টু ছেলেমেয়ে, আর তাদের নেতা ছিল বোকা রাজু! রাজু মোটেও স্বাস্থ্য সচেতন ছিল না। ওর খাবারের লিস্টে থাকত—চিপস, চকোলেট, আইসক্রিম, আর কোল্ড ড্রিংকস। একদিন, হেডস্যার স্কুলের সব ছাত্রকে ডেকে বললেন, এবার থেকে স্কুলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য 'হেলদি ক্লাব' তৈরি করা হবে! ক্লাবের নেতা হবে রাজু! রাজুর চোয়াল ঝুলে গেল। ওর মাথায় শুধু চকোলেট ঘুরছিল, আর এখানে তাকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে? কিন্তু হেডস্যার আরও ঘোষণা দিলেন, যে দল সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করবে, তাদের জন্য থাকবে স্পেশাল পুরস্কার! এটা শুনেই রাজুর চোখ চকচক করে উঠল! রাজু ভাবল, পুরস্কার তো চাই, কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন? নাহ, এটা কঠিন! তাই ও এক ধূর্ত বুদ্ধি আঁটল! ওর বন্ধুরা—সুমন, টুকুন, আর পল্টু সব...
লাল ফুল

লাল ফুল

কিশোর গল্প, জাদু-বাস্তবতা
ধ্রুব নীল : সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে এক এক করে বত্রিশ পর্যন্ত গুনে ফেলেছে অন্তু। তবু ঘুম আসার জো নেই। মাকড়সার ঝুলের ভেতর একটা নীল পোকা আটকে আছে। ওটার দিকে তাকিয়ে থাকলেও অন্তু ভাবছে অন্য কিছু। মনে মনে নিজের বয়স হিসেব করলো একবার। তিন হাজার চুয়ান্ন থেকে বাষট্টি সাল। কতো হলো? সাত নাকি আট পেরুলো? মনে মনে ধরে নিল এখন তার বয়স আট। তারমানে এখন তার একটা গোপন কুঠুরী থাকতে পারে। যেমনটা ছিল তার দাদার। দাদার কথা মনে পড়তেই আবার চিন্তা ঘিরে ধরলো অন্তুকে। দাদা মারা গেছেন পাঁচ দিন হলো। কিন্তু অন্তু দাদাকে কখনই ভুলতে পারবে না। দাদা তাকে বিশাল এক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একটা বাক্স পাহারা দেয়ার দায়িত্ব। ওটা আছে ঘরের পেছনের একটা কড়ই গাছের গোড়ায়। মাটির তলায়। ওটাই এখন অন্তুর গোপন কুঠুরী। তাই অন্য সবার মতো ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো গোপন কুঠুরীর সব ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে আসার তাগিদ অনুভব করলো অন্তু। ...
পিবিজ্ঞানী পিপি

পিবিজ্ঞানী পিপি

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : মানুষ যেমন নাছোড়বান্দা হয়, পিপি তেমনি নাছোড়পিপড়া। কিছুই ছাড়বে না সে। হাতের কাছে যা পাবে, তা’ই ধরে দেখবে। যদি নতুন একটা কিছু বানানো যায়! গতবছর এভাবে একটা মাটি খোঁড়ার বেলচা আর মোটর জুড়ে দিয়ে বানিয়ে ফেলেছিল আজব এক যন্ত্র। সবাই দারুণ প্রশংসা করেছিল পিপির। যন্ত্রটা দিয়ে এক সেকেন্ডের মধ্যে মাটি খুড়ে ভেতরে ঢুকে যাওয়া যায়। মানুষের পায়ের চাপ থেকে বাঁচার জন্য যন্ত্রটার জুড়ি নেই। যন্ত্রটার জন্য পিপি বছরের সেরা পিবিজ্ঞান পুরস্কার পেয়েছিল। মহল্লার রানী পিঁপড়া তাকে নিজ হাতে চিনির দানা খাইয়ে দিয়েছিলেন। আহা! সেই স্বাদ এখনো ভুলতে পারছে না পিপি। কিন্তু কী করবে, এ বছরে একটা নতুন আবিষ্কারও করতে পারেনি বেচারি। বসে বসে কেবল ভেবেছে আর ভেবেছে। তবে আজকে একেবারে মাথার দুটো শুঁড় বেঁধে নেমে পড়েছে পিপি। নতুন কিছু আবিষ্কার করেই ছাড়বে।সকাল থেকে পিপিকে খুঁজে পাচ্ছে না তার মা চি বেগম। মেয়েটা অল্পবয়সেই ...
অঙ্কপুরের গল্প

অঙ্কপুরের গল্প

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : মগডালে দুটো পা পেঁচিয়ে উল্টো হয়ে ঝুলে আছে ছোট্টা খোকা শূন্য। তার মারাত্মক মন খারাপ। আজকের ঝগড়াটা একটু একতরফা হয়ে গেছে। এক আর দুইয়ের সঙ্গে আজ একটুও পেরে ওঠেনি সে। দেখতে ছোট বলে এভাবে সবার সামনে অপমান করতে হবে? এক বলে কিনা, ‘তোর তো কোনো মান নেই, একেবারে অর্থহীন। তোর নামের মানে বুঝিস? এক্কেবারে ফাঁকা। ফাঁকা মানে ফক্কা, ফক্কা মানে জিরো, জিরো মানে শূন্য।’ তার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে হতচ্ছাড়ি দুই। বেণী দুলিয়ে বলে, ‘তুই যে কেন আছিস তা তুই নিজেও জানিস না। এই আমাকেই দেখ না! সবচে ছোট মৌলিক সংখ্যা আমি, সবাই আদর করে। তুই তো অংকই না।’ মন খারাপ হলেই শূন্য গাছের ডালে পা আটকে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। একদম স্থির। কেউ বুঝতেই পারে না। আজও তাই ঝুলে আছে। ঝুলতে ঝুলতে শূন্য ভাবছে তার শৈশবের কথা। তাকে অংকপুরে এনে দিয়েছিল আর্যভট্ট নামের এক ভারতীয় গণিতবিদ। তারপর গোটা বিশ্বে সেকি হই চই। তার কারণ...

লেখক মোতাব্বির বনাম অন্তু

কিশোর গল্প
ধ্রুব নীল : ‘ছেলেটার নাম অন্তু। বয়স তের কি চৌদ্দ। কিন্তু ভাব দেখে মনে হবে তেইশ চব্বিশ। এক নামে সবাই চেনে। বখাটে বলেও ডাকে কেউ কেউ। লম্বা একটা লাল শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়। লম্বা শার্টের সঙ্গে মাঝে মাঝে হাফ প্যান্ট পরে। চুল এলোমেলো। সম্ভবত তার মা-বাবা কেউ নেই। আমি তাকে প্রতিদিন দেখি। বিকেলে মাঠের এককোণে একদল টোকাইয়ের সঙ্গে বসে বসে বাদাম খায় সে। গ্রামে এমন কেউ নেই, যাকে সে জ্বালিয়ে মারেনি। তবে তার চোখেমুখে সবসময় একটা কিং.. কিং.. কিং..।’ -       কী লিখসেন এইডা? ওই মিয়া কী লিখসেন এইহানে। -       কিংকর্তব্যবিমূড় হবে ওটা। হেহেহে। মানে কী করবে তা ভেবে না পাওয়াকে বলে কিং..। -       হেইডা কী, খায় না মাতায় পিন্দে। আপনে তো আসলেই একটা কিলিকবাজ। -       কী বাজ? ...
দখলদার কুকুরের গল্প

দখলদার কুকুরের গল্প

কিশোর গল্প
কবির কাঞ্চন : ক'দিন ধরে বনের এককোণে বসে বসে কাঁদছে একটি বিড়াল। সময় যতই গড়াচ্ছে তার কান্নার আওয়াজ ততই বাড়ছে। বিড়ালটির এমন বিলাপ করে কান্না দেখে বনের পশুপাখিদের খুব মায়া হয়। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ কাছে গিয়ে সান্ত্বনা দিতেও ভুল করে না। কিন্তু বিড়ালের সব ঘটনা জানার পর সবাই যার যার মতো করে আফসোস করে। বিড়ালের জন্য দোয়া করে। তারপর নিজেদের গন্তব্যে চলে যায়। আর বিড়ালটি সকাল দুপুর রাতে শুধু কান্না করে। কিছুদিন যেতে না যেতে বিড়ালটির কান্নার আওয়াজ আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে বিড়ালটির পাশে দুটি বাচ্চা বিড়াল এসে যোগ হয়। তারাও কান্না করতে থাকে। তাদের দু'জনের গা থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে। একদিন সেপথ দিয়ে অন্য একটা বিড়াল যাচ্ছিল। সে পাশের বনে থাকে। এ বনে বেড়াতে এসেছে। স্বজাতিদের একজনের এমন দুরাবস্থা দেখে তার খুব মায়া হলো। সে বিড়াল ও বাচ্চা বিড়ালগুলোর পাশে বসে সমব্যথী হয়ে জিজ...
ছোটন ও কাক

ছোটন ও কাক

কিশোর গল্প
ইমরান চৌধুরী : ছোটন, ছোটন। কেউ যেন ডাকছে তাকে এই ভেবে পেছনে ফিরে তাকাল ছোটন। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখতে পেল তার পেছনে পেছনে একজন বয়স্ক লোক হেঁটে আসছে। লোকটাকে দেখে তাঁর মুখের দিকে তাকাল ছোটন। না, লোকটা চেনা জানা মনে হচ্ছে না। তবু সালাম দিয়ে জানতে চাইল, আপনি কি আমাকে ডাকছেন? লোকটা ছোটনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, কই নাতো দাদু! বলে লোকটা হাঁটা শুরু করল। দাদু শব্দটা ছোটনের খুব প্রিয়। হয়তো বা উনি কারও দাদু হবেন। লোকটার সঙ্গে দু-চারটা কথা বলার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল তার। কিন্তু সে সুযোগ হলো না। কী আর করা লোকটার পেছনে পেছনে ছোটনও শুরু করল হাঁটা। প্রতিদিন এ সময়ে ছোটন স্কুলে যায়। সে এখানকার নামকরা স্কুল ‘ওয়ান্ডার’ এর প্রভাতী শাখার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। সকাল ৭-২৫ মিনিটে তাদের ক্লাস। সময়টা মাথায় রেখে সে হাঁটতে থাকে। কিছুটা পথ যাওয়ার পর আবার শুনতে পেল ‘ছোটন ছোটন’ ডাক। আবার পেছনে ফিরে তাকাল ছ...
ব্যাঙের মানিক

ব্যাঙের মানিক

কিশোর গল্প
আমজাদ ইউনুস : আবিদ।  বয়স সবেমাত্র সাত বছর হয়েছে। দূরন্ত ও  চঞ্চল স্বভাবের ছিল।  সারাদিন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত। লাগামহীন জীবন। কোন কিছুর নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন যা খুশি যখন যা ইচ্ছে করত। সারাদিন খেলাধুলা করে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরত । আম্মু মুখ-হাত ধুয়ে  দিয়ে ঘরে নিয়ে যেতেন । কিছু খেয়ে বাংলা অক্ষরের সাথে একটু একটু পরিচয় হত। কিছুই বুঝত না। যা শিখানো হত তা তোতা পাখির মত মুখস্থ করে নিত । আবিদের পড়ালেখা ভাল্লাগে না। সারাদিন খেলতে ইচ্ছে করে। সুযোগ পেলেই সারাদিম বনবাদাড়ে ঘুরত। ফড়িংয়ের পিছু পিছু দৌড়তে দৌড়তে ক্লান্ত হয়েই সবুজ গাছে একটু জিরিয়ে নিত। ফড়িং মেরে মেরে পিঁপড়াদের দাওয়াত দিত। দল বেধে পিঁপড়া ফড়িং খেতে আসত। আবিদ পিঁপড়ার সারির দিকে থাকিয়ে দেখত। বড্ড মজা পেত।  কত মিল পিঁপড়াদের মাঝে। এক সারিতে সমানভাবে পথ চলে। একটু এদিক সেদিক হয়না। মাঝে মধ্যে ...

নিঃসঙ্গ শালিক 

কিশোর গল্প
ওলি  মুন্সী : ছোট্ট খুকি আয়েশা। বাবা মায়ের খুব আদরের কন্যা।পড়াশোনায় যেমন মনোযোগী তেমনি খেলাধুলায়। আয়েশার খেলার প্রিয় জায়গা হলো বারান্দা আর উঠুন। একাকী কখনো সে বাড়ির বাহিরে খেলতে যায়না। কারণ বাড়ির বাহির বাচ্ছাদের জন্য নিরাপদ নয়।আয়েশাদের বাড়ির চারপাশে বিভিন্ন রকমের গাছ।গাছে গাছে নানান জাতের পাখি সকাল বিকাল মুখরিত করে।পাখিদের রব আয়েশার খুব ভালো লাগে। তাই পাখিদের খুব ভালবাসে। আয়েশা তার বাবা মা'য়ের কাছ থেকে পাখিদের নাম শিখে নেয়।তারা কেমন করে উড়ে, কোথায় যায় কিভাবে খাবার আহরণ করে। পাখির ছানাদের কিভাবে মা পাখিরা আগলে রাখে।আয়েশা তার বাবার ছেলেবেলার একটা গল্প শুনেছে শালিক পাখি নিয়ে।আয়েশার বাবার একটা পোষা শালিক  পাখি ছিল।ডাক দিলে উড়ে এসে হাতের মধ্যে বসে পড়তো।  এমনকি কথাও বলতে পারতো মানুষের মতো করে।  পাখিরা কথা বলতে পারে বাবা? শুধু শালিক পাখি নয় ময়না টিয়ে ওরাও ক...