Monday, March 2
Shadow

সামাজিক গল্প

একজন মায়ের গল্প

সামাজিক গল্প
কবির কাঞ্চন: জীবনের ঘানি টানতে টানতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষদের অন্যতম বিল্লুরাণী। একমাত্র ছেলে দীলিপ যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো তখনই তিনি স্বামীকে হারালেন। বিল্লুরাণীর স্বামী হরিপদ ছিলেন একজন প্রান্তিক জেলে। মহাজনের নৌকায় বছরব্যাপী কর্মচারী ছিলেন। সংসার খরচ মেটানোর জন্য আগে আগে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতেন বলে অনেকটা গৃহপালিত কর্মচারীর মতো আচরণ করা হতো তার সাথে। সেবার একটানা আকাশের অবস্থা খারাপ ছিল। তারওপর হরিপদের শরীরের অবস্থাও ভালো ছিল না। সে নৌকায় না গিয়ে বাসায় ফিরে আসে। অসুস্থ শরীরে কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে থাকে।কিছুক্ষণের মধ্যে মহাজনের লোকজন এসে তাকে জোর করে কাজে নিয়ে যায়। যাবার বেলায় ছেলে দীলিপকে তিনি বলে গেলেন,  " ঠিকমতো লেখাপড়া করিস, বাবা। তোকে অনেক বড় হতে হবে। গরীবের লেখাপড়া ছাড়া আর কিছুই কাজে আসে না। আমি না থাকলেও লেখাপড়া সারাজীবন তোর পাশে থাকবে। তোকে পথ দেখাবে।"এরপর বিল...

জন্মভূমির মাটি

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন  পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা জহির রহমান আর মালতী বেগমের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের নাম জিতু। বছর সাতেক বয়স হবে তার। এবছর কেজি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে জিতু। মেয়েটা ছোট নাম মিতু। চার বছর মতো বয়স মিতুর। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে রাতে জিতু কিছু সময় ওর মায়ের কাছে বই পড়তে বসে। মিতুও আদর্শলিপি বই থেকে বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ অ, আ, ক, খ অক্ষর গুলো পড়ে।এরপর পড়া শেষ হলে ওদের আব্বু জহির রহমান বাজার থেকে বাড়ি ফিরলে একসাথে সবাই মিলে রাতের খাবার খায়। আজ জিতুর পড়া শেষ হলেও তখনো ওদের আব্বু জহির রহমান বাড়ি ফেরেনি।মেয়ে মিতু বললো, আম্মু, আব্বু কখন বাড়ি আসবে? মা, মালতী বেগম বললো. এইতো এখুনি আসবে মা মিতু। জিতু বললো মা, আব্বু না আসা পর্যন্ত তাহলে একটু টিভি দেখি? মালতী বেগম বললো..আচ্ছা ঠিক আছে বাবা..। তারপর মালতী বেগম সময় কাটানোর জন্য রিমোটে চাপ দিয়ে টিভি-টা ওয়া...

যৌতুকের বলি

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন  রূপসী বাংলার যশোর জেলার ঝিকরগাছার এক  প্রত্যন্ত অঞ্চলের চির সবুজে ঘেরা গাঁ নারাংগালী। সে গাঁয়েরই এক বর্গাচাষী নাম ধনী। তারই উঠতি বয়সী বারো তেরো বছরের কৃষ্ণ বরণ কিশোরী এক মেয়ে চৈতী। যার দেহের রঙটা কালো। কিন্তু দেহের রঙ কালো হলে কি হবে। বেশ হৃষ্টপুষ্ট বেলুনে বলা দেহের গড়ন তার।  মুখশ্রীও বেশ গোলগাল আকর্ষণীয়। আর মুক্তার মত গালে ঝকঝকে সারি বাঁধানো দাঁত। হাস্যউজ্জ্বল,চঞ্চলা, দূরান্তমনার এক বালিকা। সারাদিন যার এ গাছে ও গাছে চড়ে বেড়ানো আর গায়ের সারা পাড়া ঘুরে দাপিয়ে বেড়ানো অভ্যাস। সে গুনগুন করে গান গাই। আর তিড়িংবিড়িং করে লাফিয়ে লাফিয়ে নেচে নেচে এ গাছের ফল ও গাছের ফল পেড়ে খায় আর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়। গাঁয়ে চলার মেঠো পথে যখন যার সাথে দেখা হয় সে হেসে বলে কি দাদু ভালো তো? কি দাদী ভালো আছ ? চাচা কেমন আছ? চাচী তোমার শরীর কেমন আছে? কিরে ছোট ? কিরে প...

বাল্যবিবাহ : সামাজিক গল্প

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন  তেরো- চৌদ্দ বছর বয়সের নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া  কিশোরী মেয়ে পুষ্প। আজ স্কুল ছুটির পর মন খারাপ অবস্থায় আনমনা হয়ে স্কুল ব্যাগটি তার পিঠে ঝুলিয়ে রাস্তা ধরে একাকি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে। পিছন থেকে খুব দ্রুত পায়ে হাঁটছে আর একটু উচ্চস্বরে চিল্লাইয়ে পুষ্পর এক বান্ধবী  স্বর্ণ -লতা নামের একটি মেয়ে পুষ্পকে ডাকছে। এই পুষ্প. পুষ্প.. দাঁড়া শোন..। তবু পুষ্প শুনতে পাচ্ছে  না। আবারো ডাক দিলো স্বর্ণলতা.পুষ্প. এই পুষ্প দাঁড়া..দাঁড়া...এই, কি হলো পুষ্প.. শুনতে পাচ্ছিস না? আমি তোকে ডাকছি...এই পুষ্প একটু দাঁড়া.। এবার স্বর্ণলতার ডাক পুষ্পর কর্ণগোচর হতেই সে তার হাঁটার গতি কিছুটা শিথিল করলো।স্বর্ণলতা পিছন থেকে হাঁফাতে হাঁফাতে পুষ্পর কাছে পৌঁছে হাসফাস হাসফাস করতে করতে বললো, বাব্বাহ! সেই কখন থেকে আমি তোকে ডাকছি।তোর মন কোথায় ছিলো শুনি? যে, তুই শুনতে পাচ্ছিস না? পুষ...

কপাল পোড়ে অগ্নিমূল্যে

সামাজিক গল্প
শাহানাজ শিউলী  কই গো ! প্যাকেটটা দাও। বললেন,আনোয়ার সাহেব। স্ত্রী লাবণ্য হাসতে হাসতে প্যাকেটটি দিয়ে বলল,আজ মাসের শেষ দিন। মনে আছে তো তোমার? প্রতিমাসের শেষ দিনে আনোয়ার সাহেব পরিবারের জন্য   একটু ভালো বাজার করে খাওয়ান। আনোয়ার সাহেব একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনরকম দিন চলে যায়। একটু অভাব-অনটন থাকলেও সুখে-শান্তিতে খাকেন তারা। কোনো উচ্চভিলাষ জীবনযাপন পছন্দ করেন না তিনি।। তিনি সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী। স্ত্রী লাবণ্য তারই সমমনের। তিনি লাবণ্যের হাতে বেতনের সব টাকা তুলে দেন। লাবণ্য খুব হিসাব করে সংসার চালায়। এই টাকার ভিতর থেকে একটু একটু করে টাকা বাঁচিয়ে মাস শেষে একটা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে লাবণ্য। লাবণ্য এ মাসে বাড়তি ৫০০ টাকা আনোয়ার সাহেবের হাতে দেয়। আনোয়ার সাহেব টাকাটি নিয়ে ফ্যালফ্যাল করে স্ত্রীর  দিকে চেয়ে থাকে। গত মাসে...

কথার কথা

রোমান্টিক ছোটগল্প, সামাজিক গল্প
রকিবুল ইসলাম সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা, নয়নাভিরাম একটি গ্রামের নাম রূপপুর।শহর থেকে অদূরে অবস্থিত হলেও শহুরে সকল সুযোগ-সুবিধাই এখানে বিদ্যমান। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা একটু দুর্বল হলেও এখানকার জীবন যাত্রা বেশ ভালো। ঠিক এমনি একটি পরিবেশে ঠিক ৩৫ বছর পূর্বে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর গৃহ আলোকিত করে শুভাগমন ঘটে একটি নির্মল,নিষ্কলঙ্ক, ফুটফুটে সাদা ফুল 🌹!কি বলে ডাকি তারে! আচ্ছা! আপাতত তার নাম হোক "কথা!" "কথা" তার ডাকনাম। গল্প কথার মতই কথা'র জীবন কাহিনী। যদিও,সাদা সদৃশ এক ফুলের ন্যায় তুষার শুভ্র সে। বাবা ইসমাইল আলী হাওলাদার ও মাতা সাহেরা বেগমের সর্ব জ্যৈষ্ঠ সন্তান, আদরের দুলালী এই কথা। বাবা-মা'য়ের ভালোবাসার প্রথম ফসল সে। ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো ছোট্ট কথা। শুভ্র সেই ফুলের মতই সুবাস ছড়াতে শুরু করলো তার চারিধারে। শৈশব, কৈশোরের গণ্ডি পেরুনোর পূর্বেই অনেক ভ্রমরই বসতে চেয়েছে এই ফুলে। আস্বাদন করতে চেয়েছে ...

তিনটি অণুগল্প

সামাজিক গল্প
সাব্বির হোসেন নাফিজ খাদকহাসপাতালের মসজিদে সারা রাত কাটিয়েছে আবুল। শরীর দুর্বল। গতরাতে আবুলের ছেলেকে একদল লোক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। ঘন্টা খানেক বাদে থানা থেকে ফোন দিয়ে হাসপাতালের মর্গে আসতে বলে। আবুল মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে। কিচ্ছুক্ষণ পরপর বলে ওঠে, আমার বাজান, আমার মানিক। পান চিবাইতে চিবাইতে মর্গের কেয়ার টেকার বলল, পোলারে নিয়া যাইবেন নাকি মুখ দেখবেন? - পোলাটারে তো লইয়াই যামু। কেন? যদি লাশ লইয়া যান তাহলে দু হাজার, মুখ দেখানি একশ আর কই কই চোট খাইছে তাহলে পঞ্চাশ টাকা দেওন চাই। - পকেটে দুইশত টাকাই আছে। বাবা, আমার এক মাত্র বাজানটারে আমার হতে দিয়া দাও। আমি বাজানরে লইয়া বহুদূর চইলা যামু। গল্প- উন্মেষ আকাশে চাইয়া কি যেন দ্যাখে লাইজু। চারিদিকে পানি। সরকারে যে বান্ধ দিছিল তা ভাইঙ্গা গ্রাম ডুইবা গ্যাছে। দুইবছরের পোলা কাদেররে কোলে নিয়া উঁচা জায়গা দেইখা মশারি ...

বাবা বটের ছায়া

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন  শাওন আর শায়লার কোন ছেলে নেই। দুটো মেয়ে নাম চন্দ্রা আর তন্দ্রা। বড় মেয়ে চন্দ্রার বয়স খুব বেশি হলে আট বছর হবে। এবছর তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে চন্দ্রা। আর ছোট মেয়ে তন্দ্রার বয়স পাঁচ ছয় বছর মতো। কয়েক মাস হচ্ছে তন্দ্রা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ওদের বাবা শাওন আদর করে দুই মেয়েকে ডাকে চন্দ্রা মণি আর তন্দ্রা মণি মা বলে।  আর ডাকবেই বা- কেনো? ওরা দু,বোন চন্দ্রা আর  তন্দ্রাই যে ওদের মা-বাবার প্রাণ। কলিজার বুটা, দুটি চোখের মণি। বলতে গেলে মেয়ে দুটোর জন্যই শাওন আর শায়লার পৃথিবীতে বেঁচে থাকা। ওরা দু,বোনই যেনো ওদের বাবা-মার পৃথিবী। কখনো মেয়ে দুটোকে ওরা চোখের আড়াল হতে দেয়না। বটবৃক্ষের ছায়ার মতো আদর, স্নেহ, আর ভালোবাসার সুশীতল মায়ার চাদরে আগলে রাখে মেয়ে দুটোকে। প্রতিদিন সকালে শায়লা ঘুম থেকে উঠে ওয়াশ রুমে গিয়ে দাঁত মেজে ফ্রেস হয়ে ওজু করে এসে ফজরের ন...

বিবেক

সামাজিক গল্প
লেখক: নিরমিন শিমেল (প্রকাশ: কালবেলা) টাকাটা পড়ে আছে অলক্ষে, রাস্তার কোলঘেঁষে, যেখান থেকে ফার্মগেটের দীর্ঘ ওভারব্রিজটা মরাল গ্রীবা বাঁকিয়ে পাক খেয়ে ওপরে উঠে গেছে। বাসের জন্য অপেক্ষা করছে রঞ্জু। বারবার হাতঘড়ি দেখছে। রিফাতকে সময় দেওয়া আছে ঠিক ১০টায়। একটি টিউশনি জোগাড় করে দেওয়ার কথা। রঞ্জু আড়চোখে আরেকবার তাকাল। পঞ্চাশ টাকার চকচকে একটি লাল নোট। পাশাপাশি ভাবে ভাঁজ করা। কারও কি চোখ পড়েনি? পকেটে অবশিষ্ট সিগারেটটায় অগ্নিসংযোগ করে লম্বা টান দেয়। বিরক্তিতে ভ্রু জোড়ায় সুস্পষ্ট ভাঁজ। একটি চাকরিতে দরখাস্ত জমা দেওয়ার আজই শেষ তারিখ ছিল। পকেটের জীর্ণ দশায় ক্ষান্ত দিতে হয়েছে। মার কাছে অবশ্য সকালে হাত পেতে ছিল। বেশি না, মাত্র চল্লিশ টাকা। মায়ের কণ্ঠে ঈষৎ হতাশা মিশ্রিত রোষানল—এ নিয়ে কটা দরখাস্ত হলো বলত? উত্তর দেওয়া কিংবা টাকা নেওয়া দূরে থাক, জোঁকের মুখে নুন পড়ার মতো গুটি...

হত্যা

থ্রিলার গল্প, সামাজিক গল্প
নারী বিষয়ক গল্প: হত্যা। লিখেছেন উজ্জ্বল রায় পাড়ায় পা রাখতেই টের পেলাম পাড়াতে কিছু একটা অঘটন ঘটেছে। একটু এগিয়ে জানতে পারলাম সালমা মারা গেছে।ভাবলাম যাক একদিকে ভালই হল।ওই দূর্বিসহ মৃত্যু যন্ত্রণার হাত থেকে তো রেহাই পেলো মেয়েটা। মনে হচ্ছে তো এমন কথা কেন বলছি? আপনারাই ভাবুন একটা মেয়ে বছর পঁচিশের মেয়ে তরতাজা শরীরের পঁচাওর শতাংস পুড়েও যদি সেই শরীর বাঁচার তীব্র লড়াই করে সেটা কতটা কঠিন হতে পারে।হুম, এমনই মৃত্যু যন্ত্রণার সঙ্গে দুইমাস নিরন্তর লড়াইয়ের পর আজ সালমা হার মেনেছে মৃত্যুর কাছে।আহ্ মৃত্যু! তোমারও কত রুপ। ভাবনার তাল কেটে দিল আমার দিকে ছুটে আসা সালমার মা'য়ের কান্নার রোল।পথ আটকে সামনে দাঁড়িয়ে " সালমা আমার চলে গেল বাবা" বলে সূর করে কান্না করতে থাকল।বেচারা আমির সে যে কঠিন পরিস্থিতি বলে বোঝাতে পারব না।মনে হলো চিৎকার করে বলি, তোমরা সকলে মিলেই তো ওকে মারলে।এখন আবার এত কান্না ...