Sunday, March 1
Shadow

সামাজিক গল্প

শয়তান

শয়তান

সামাজিক গল্প
পল্লব (প-লয়ে-লয়ে-ব) বেজার মুন্সি আট টাকা বাকিতে দুইটা ফুলকপি কিনে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরছে। দোকানদার দুই ফুলকপির আংগুল গুলার মধ্যে কায়দা করে দড়ি  দিয়ে বেধে দিয়েছে। বেজার মুন্সি ওই দড়ি ডান হাতের আংগুলে পেচিয়ে নিয়ে দুলিয়ে দুলিয়ে হাটছে। সে সপ্তাহের বাজার করতে বাজারে গিয়েছিল। আধা দিন বাজারে কাটিয়ে এখন ফুলকপি হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরছে। বউয়ের হাতে এই ফুলকপি তুলে দিলে তার চেহারাটা কেমন দেখাবে সেইটা মনে করেই খুব আনন্দ পাচ্ছে বেজার। অবশ্য গত মাস দেড়েক হলো বউয়ের চেহারাটা অতটা ভালো লাগতেছে না তার। ইদানিং নামাজে ঝোঁক এসেছে বেজারের। জোহর আর আছরের নামাজটা জোড়াক্ষেতের মসজিদে পরতে যায়। বাকি ওয়াক্ত গুলা সে ঠিক করে রেখেছে খুব শীঘ্রই নামাজ পরা শুরু করবে। তবে জোড়াক্ষেতের মসজিদে নামাজ পরে দিলে-মনে বেশ আরাম পায়। মসজিদের ইমাম সাহেব খুব ভালো মানুষ। উনার বড় মেয়েও বেশ ভালো। সুন্দরী আর স্বা...
জানতে হবে, চিনতে হবে

জানতে হবে, চিনতে হবে

সামাজিক গল্প
শাকিলা নাছরিন পাপিয়া দুই তিন এলাকা নিয়ে চরম উত্তেজনা।আজ বিচার হবে কাউন্সিলরের অফিসে।বিচার দেখতে সব ধরণের মানুষ এসেছে। এত বড় অন্যায় করার সাহস  যে দেখিয়েছে তাকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে।কী হবে আজ? নানা জনের নানা মত।কেউ বলছে, ঠিক করেছে।কেউ বলছে, কি মনে করো ওকে ছেড়ে দেবে? কোনদিন না।কেউ বলছে, ওর পরিবার কেন শিক্ষা দিল না কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে? কারো মধ্যে উৎসব উৎসব ভাব।কিছু একটা ঘটবে।বিচারে ছেলেটি যা বলুক না কেন তার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।নেতার পিএস এর বাড়ির কাজের বুয়ার ভাতিজা।সে না হয় একটু মারতেই পারে। তাই বলে পুলিশ ডেকে আনতে হবে?পুলিশ কিছু না বুঝে এসে পড়েছে। অবশ্য এ জন্য বারবার নেতার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।ছেলেটিকে প্রশ্ন করা হলো, পুলিশের কাছে কেন গেলে? কিছু হলেই পুলিশের কাছে যেতে হবে? ছেলেটি পুলিশের দিকে তাকায়। যিনি আহত ছেলেটিকে বলেছিল, এভাবে মেরেছ...
জীবন

জীবন

সামাজিক গল্প
শাকিলা নাছরিন পাপিয়া আমি মৃত্তিকা ৷ সর্বংসহা ধরণীর মত লক্ষ্মী মেয়ে৷এই যে সকালবেলা কলম খুঁজতে গিয়ে একটা লম্বা চওড়া মাঝারী ওজনের চড় আমার স্বামী ফর্সা গালে বসিয়ে দিলেন তাতে আমি কিছু মনে করিনি৷আত্মসম্মানবোধ সেই কবেই বিসর্জন দিয়েছি। আগে একটুতেই চোখে পানি আসতো।  একটু কটু কথাও সহ্য হতো না। এখন গায়ে হাত তুললেও কিছুই মনে হয় না।বরং গালে হাত বুলাতে বুলাতে, ছলছল চোখে হাসিমুখে তাকে দেখিয়ে দিলাম কলমটা তার পকেটে৷ছোট্ট একটা sorry  উচ্চারণ করে উনি চলে গেলেন৷ আমিও কাজে মন দিলাম৷ বিছানার উপর হাত পা নেড়ে তিন মাসের ছোট্ট যে মেয়েটি খেলছে সে আমার মেয়ে চেতনা৷ ওর জন্মে এ  বাড়ির কেউ খুশি হয়নি৷প্রথম সন্তান পুত্র হবে, বৃদ্ধ বয়সে বাবার সংসারের হাল ধরবে,বংশের মুখ উজ্জ্বল করবে৷ এ প্রত্যাশা ছিল কায়েসের পরিবারের৷অবশেষে আঙুর ফল টকের মত কায়েস বলেছে, প্রথম সন্তান কন্যা হয় ভাগ্যবানের৷পরে...
রোশনী জন্মেছিল মাটির ঘরে

রোশনী জন্মেছিল মাটির ঘরে

সামাজিক গল্প
মুমতাহিনা মুমু ময়নামতী গ্রামের শেষ প্রান্তের বাড়িটায়, যেখানে উঠোনে কাদা জমে থাকে বর্ষায় আর গরমে মাটিতে ফাটল ধরে। ছোটবেলা থেকেই সে জানত—এই মাটিই তার শক্তি, আবার এই মাটিই তার বোঝা। বিয়ের পর রোশনী এল শ্বশুরবাড়িতে। ঘরটা আগের চেয়েও ছোট, উঠোনটা আগের চেয়েও নীরব। ভোর হতেই তাকে উঠতে হয়—পানি আনা, গরু বাঁধা, চুলায় আগুন ধরা, শাশুড়ির ওষুধ, স্বামীর ভাত। কাজের তালিকা শেষ হয় না, শুধু বদলায়। রোশনীর স্বামী, হাশেম, খুব খারাপ মানুষ ছিল না। কিন্তু অভাব মানুষকে যেমন চুপ করায়, তেমনি কঠিনও করে তোলে। দিনশেষে সে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফেরে, কথা কম বলে। রোশনী বুঝত—কথা না বলাটাও কখনো কখনো কষ্টের আরেক নাম। একটা সময় রোশনী টের পেল, তার শরীর আর আগের মতো শক্ত নেই। ডাক্তার দেখানোর কথা উঠতেই শাশুড়ি বললেন, “এত ন্যাকামো কিসের? কাজ করলে ঠিক হয়ে যাবে।” রোশনী আর কিছু বলেনি। সে জানত, এখানে ব...
কষ্টের রঙে আঁকা আলো

কষ্টের রঙে আঁকা আলো

রোমান্টিক ছোটগল্প, সামাজিক গল্প
সৃজনী আচাৰ্য্য নীলা নীলাভ আকাশের মৃদু আলো যখন শহরের ওপর ছড়িয়ে পড়ে,ছোট্ট শহরের রাস্তায় কাঁটা রোদ আর শীতল হাওয়ার খেলায়প্রতিটি বাড়ি যেন নতুন জীবনের নিঃশ্বাস নিচ্ছে।পাখির কণ্ঠ, পাতার মৃদু কোলাহল,নদীর ধারের হালকা তরঙ্গ—সবকিছু যেন এক নীরব কাব্য। ছোট্ট একটি ঘরে, যেখানে বইয়ের স্তূপ, নোটবুক আর কলমের ছড়াছড়ি,সেখানে বসেছিল সপ্তবর্ণা, ষোল বছরের শেষের দিকে,স্বপ্নের পাখি চোখে আর হৃদয়ে আলো ভরা।প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি রঙ তার মনকে স্পর্শ করত।সূর্যের সোনালি রোদ, বাতাসের মৃদু শীতল স্পর্শ,ঘরের ছোট্ট আলো—সবকিছু যেন তার চোখের সামনে নাচছে,একটা অদৃশ্য লড়াই আর আশার সুর বাঁধছে। সপ্তবর্ণা স্বপ্ন দেখত—একদিন সে বড় হয়ে হবে একজন মহাকবি বা শিক্ষাবিদ,যে মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়াবে,যে তার লেখা শব্দ দিয়ে অন্যদের মন জাগিয়ে তুলবে।প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া, বই পড়া, লেখা—সবই তার স্বপ্নের ধাপ।প্রকৃতির প্রতি...
“আত্মার বন্ধন”

“আত্মার বন্ধন”

রোমান্টিক ছোটগল্প, সামাজিক গল্প
রাহেলা আক্তার  অবনী থার্ড ইয়ারের ছাত্রী। সামনে ফাইনাল এক্সাম। ভীষণ চিন্তায় ভুগছেন। একমাত্র ভাই এবার এস এস সি এক্সাম দিবে। ছোট বোন ক্লাস এইটে পড়ে। তিন ভাই বোনের মাঝে অবনীই বড়। অবনীর "মা" নীলিমা চৌধুরী আজ দশ বছর ব্রেস্ট ক্যান্সারে ভুগছেন। প্রথম চার বছর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও বছর খানেক পরে আবার দেখা দেয়। এবার ফারমেন্ট চট্টগ্রাম মেরিন সিটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিন মাস পরপর কেমোথেরাপি চলে, থেরাপি দিতে দিতে নীলিমা চৌধুরীর চুল প্রায় উঠে গেছে, পশম খসে পড়তেছে। অবনী রাতদিন হাসপাতালে মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে মায়ের শারীরিক অবস্থা একটু ভালো দেখা দিলে মাকে নিয়ে হাসপাতালের পাশেই অবনীর আন্টিদের বাসায় বেড়াতে নেন। অবনীর বাবা আদনান চৌধুরী নিউইয়র্ক থাকেন। স্ত্রী অসুস্থ হবার পর থেকে তিনি তেমন দেশে ফিরেন না। চিকিৎসা বাবদ কিঞ্চিৎ খরচ দেন। অবনীর নানার বাড়ি থেকেই বেশির ভাগ খরচ ...
অসহায়

অসহায়

সামাজিক গল্প
প্রায় দশ লাখ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে আমার বিয়ে হলো একটা এনজিওতে কর্মরত শহীদ নামক একজনের সাথে, বাবা-মায়ের টাকা গেলেও তারা এখন ভারমুক্ত কারন আমার মতো কালো বর্নের কুশ্রী চেহারার একটা মেয়ের সারা জীবনের জন্য একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছেলেটার চাকরী অত্যন্ত সাধারণ, খুব কম আয় তাতে অবশ্য আমার বাবা-মায়ের কিছুই যায় আসে না, তারা বোঝা নামিয়েছেন। ( সামাজিক গল্প ) আমার স্বামী শহীদ দেখতে আহামরি তেমন কিছু না, বোনের বিয়ে হয়ে গেছে , বাবা মা রা গেছে বছর সাতেক আগে , মা তার সঙ্গেই থাকেন। বিয়ের এক মাসের মাথাতেই আমি বুঝে গেলাম আমার প্রতি তার কোন আগ্রহ নেই ,আগ্রহ যতটুকু ছিল ওই দশ লাখ টাকার উপরে তাই এতদিন হয়তো আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে আর এখন পান থেকে চুন খসলেই যাচ্ছে তাই ব্যবহার করে এমনকি তুই-তোকারি করে, গা'লিগালা*জ তো বাদই দিলাম। সামাজিক গল্প অসহায় কিছুদিন পর দেখলাম ও অন্য রুমে শুচ...
জীবনের টানে লবণ জলে

জীবনের টানে লবণ জলে

সামাজিক গল্প
মোখলেছুর রহমান : আকাশের রং হলদেটে হয়ে উঠছে। এখনই সূর্য উঠবে। দূর দিগন্তময় বিস্তৃত ফসলের মাঠ। মৃদু বাতাস বয়ে চলেছে, যা মনের মধ্যে  প্রশান্তির এক উন্মাদনা সৃষ্টি করে তুলছে। কৃষকেরা মাঠে আসছে কাজের জন্য। কিন্তু তাদের মুখগুলো আর হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত নেই। তারা যেনো তাদের সোনালী ফসলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে আর ভালোবাসেন না। তাদের সমস্ত চিন্তা ধারা যেনো হঠাৎ বিচিত্র গোলক ধাঁধায় ঢুকেছে। তারা এই গোলক ধাঁধা থেকে মুক্তি চাই। নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষকের ইচ্ছা গুলি আজ উদ্দেশ্যবিহীন, লক্ষ্য অকেজো এবং অর্থহীন হয়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব আমাদের মতো দেশের সাধারন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে অসহায়ত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কৃষি নির্ভর পরিবারের ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। তাদের উপার্জন দরকার, তাদেরক...
মা আসিয়া!

মা আসিয়া!

সামাজিক গল্প
রকিবুল ইসলাম ও মা! মাগো!ও মা আসিয়া!তাহলে এটাই ছিল তোমার মনে?ছেড়েই যদি যাবে বেলা শেষে,মিছিমিছি পাষাণ হৃদয়কেও কেন হার মানালে!কেন তোমার জন্য কাঁদবে গোটা জাতি?এরা তো বর্বর! এরা তো নরপশু,পাষণ্ড!আইয়ামে জাহেলিয়াত তুমি তো দেখনি, আমরাও দেখিনি।তবে, তোমার সাথে হলো যেটা, এদের কাছে,,,ওই বর্বর যুগও বোধকরি হার মেনেছে।তুমি তো মারা যাওনি মাগো!মওলার উদ্দেশ্যে তোমার এই স্বর্গীয় যাত্রা নাড়া চিরকাল দিয়ে যাবে,অক্ষিপুঞ্জ নি:সৃত নোনা জলের অঝোর ধারা কিছু মনুষত্বহীন সীমারের মরুময় বুকে উপহার দিয়ে গেলে।এই বিবেক বিসর্জিত জাতিকে চিরকাল অপরাধী তুমি করে গেলে।তোমার অতৃপ্ত আত্মার দোঁহায়!ক্ষমা করো না মা এদেরকে।এরা যেন এহেন পৈশাচিক সুখ নিয়ে সারাটি জীবন গুমড়ে কেঁদে মরে।ভয়াল সেই বিচারের দিন ঘনাবার পূর্বেই বার বার যেন দাহ হয় দোজখের অসহনীয় অনলে।ওদের আত্মা, ওদের বিবেক যেন ওদেরকে ক্ষমা না করে।ভালো থেকো মা চিরনিদ...
রমেশ ও দুর্গাপূজা

রমেশ ও দুর্গাপূজা

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন : ভারতের পশ্চিম কলকাতার বাসিন্দা কার্তিক। স্ত্রী সুবাসিনী, ছোট বোন পুষ্পরেণু, যাকে সংক্ষেপে সবাই পুষ্প বলে ডাকে। বিধবা মা, নির্ঝরীণি আর চার বছরের ছেলে রমেশকে নিয়ে কার্তিকের পাঁচ সদস্যের একটা সুখের সংসার।  দুর্গাপূজা প্রায় এসে গেছে। আর তাই ছোট্ট ছেলে রমেশ তার মা-বাবার কাছে বায়না ধরেছে এবার দূর্গা-পূজা সে বাংলাদেশে গিয়ে তার ঠাকু -মা আর ঠাকু-দার সাথে করবে। একটা কথা আগেই বলে রাখা ভালো। রমেশের বাবা কার্তিক ভারতের বাসিন্দা হলেও তার মা- সুবাসিনী রায় এর জন্মস্থান হলো বাংলাদেশের যশোর জেলায়। বাংলাদেশে রমেশ এর বাবা কার্তিকের বাবা-ঠাকু-দার সূত্র ধরে বহু আত্মীয় স্বজন রয়েছে। সেই সূত্র ধরে কয়েকবছর আগে কার্তিক পাঁচফুট ভিসা করে বেড়াতে গিয়ে ছিলো বাংলাদেশে আত্মীয়ের বাসায়। আর এসেই প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিল কার্তিক রমেশের মা- সুবাসিনীর রায়ের।ঠিক কাঁচা হলুদের মতো য...