Saturday, August 30
Shadow

Author: webgolpo2024

বাল্যবিবাহ : সামাজিক গল্প

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন  তেরো- চৌদ্দ বছর বয়সের নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া  কিশোরী মেয়ে পুষ্প। আজ স্কুল ছুটির পর মন খারাপ অবস্থায় আনমনা হয়ে স্কুল ব্যাগটি তার পিঠে ঝুলিয়ে রাস্তা ধরে একাকি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছে। পিছন থেকে খুব দ্রুত পায়ে হাঁটছে আর একটু উচ্চস্বরে চিল্লাইয়ে পুষ্পর এক বান্ধবী  স্বর্ণ -লতা নামের একটি মেয়ে পুষ্পকে ডাকছে। এই পুষ্প. পুষ্প.. দাঁড়া শোন..। তবু পুষ্প শুনতে পাচ্ছে  না। আবারো ডাক দিলো স্বর্ণলতা.পুষ্প. এই পুষ্প দাঁড়া..দাঁড়া...এই, কি হলো পুষ্প.. শুনতে পাচ্ছিস না? আমি তোকে ডাকছি...এই পুষ্প একটু দাঁড়া.। এবার স্বর্ণলতার ডাক পুষ্পর কর্ণগোচর হতেই সে তার হাঁটার গতি কিছুটা শিথিল করলো।স্বর্ণলতা পিছন থেকে হাঁফাতে হাঁফাতে পুষ্পর কাছে পৌঁছে হাসফাস হাসফাস করতে করতে বললো, বাব্বাহ! সেই কখন থেকে আমি তোকে ডাকছি।তোর মন কোথায় ছিলো শুনি? যে, তুই শুনতে পাচ্ছিস না? পুষ...

কপাল পোড়ে অগ্নিমূল্যে

সামাজিক গল্প
শাহানাজ শিউলী  কই গো ! প্যাকেটটা দাও। বললেন,আনোয়ার সাহেব। স্ত্রী লাবণ্য হাসতে হাসতে প্যাকেটটি দিয়ে বলল,আজ মাসের শেষ দিন। মনে আছে তো তোমার? প্রতিমাসের শেষ দিনে আনোয়ার সাহেব পরিবারের জন্য   একটু ভালো বাজার করে খাওয়ান। আনোয়ার সাহেব একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনরকম দিন চলে যায়। একটু অভাব-অনটন থাকলেও সুখে-শান্তিতে খাকেন তারা। কোনো উচ্চভিলাষ জীবনযাপন পছন্দ করেন না তিনি।। তিনি সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী। স্ত্রী লাবণ্য তারই সমমনের। তিনি লাবণ্যের হাতে বেতনের সব টাকা তুলে দেন। লাবণ্য খুব হিসাব করে সংসার চালায়। এই টাকার ভিতর থেকে একটু একটু করে টাকা বাঁচিয়ে মাস শেষে একটা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে লাবণ্য। লাবণ্য এ মাসে বাড়তি ৫০০ টাকা আনোয়ার সাহেবের হাতে দেয়। আনোয়ার সাহেব টাকাটি নিয়ে ফ্যালফ্যাল করে স্ত্রীর  দিকে চেয়ে থাকে। গত মাসে...

কথার কথা

রোমান্টিক ছোটগল্প, সামাজিক গল্প
রকিবুল ইসলাম সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা, নয়নাভিরাম একটি গ্রামের নাম রূপপুর।শহর থেকে অদূরে অবস্থিত হলেও শহুরে সকল সুযোগ-সুবিধাই এখানে বিদ্যমান। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা একটু দুর্বল হলেও এখানকার জীবন যাত্রা বেশ ভালো। ঠিক এমনি একটি পরিবেশে ঠিক ৩৫ বছর পূর্বে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর গৃহ আলোকিত করে শুভাগমন ঘটে একটি নির্মল,নিষ্কলঙ্ক, ফুটফুটে সাদা ফুল 🌹!কি বলে ডাকি তারে! আচ্ছা! আপাতত তার নাম হোক "কথা!" "কথা" তার ডাকনাম। গল্প কথার মতই কথা'র জীবন কাহিনী। যদিও,সাদা সদৃশ এক ফুলের ন্যায় তুষার শুভ্র সে। বাবা ইসমাইল আলী হাওলাদার ও মাতা সাহেরা বেগমের সর্ব জ্যৈষ্ঠ সন্তান, আদরের দুলালী এই কথা। বাবা-মা'য়ের ভালোবাসার প্রথম ফসল সে। ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো ছোট্ট কথা। শুভ্র সেই ফুলের মতই সুবাস ছড়াতে শুরু করলো তার চারিধারে। শৈশব, কৈশোরের গণ্ডি পেরুনোর পূর্বেই অনেক ভ্রমরই বসতে চেয়েছে এই ফুলে। আস্বাদন করতে চেয়েছে ...

রঙধনু বিকেলের স্বপ্ন।

রোমান্টিক ছোটগল্প
রকিবুল ইসলাম আজ ভোর হইতেই বর্ষা নামিয়াছে। ভারী বর্ষণ যাহারে বলিয়া থাকি তেমনটা নয় আর কি! কথার 🏠 গৃহ হইতে অফিস দুই কিলোমিটারের মত দূরত্ব হইবে। একখানি ছাতা লইয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করিয়া কিছু দূর হাঁটিয়া তারপর একটা রিকশায় চাপিয়া সে আজ অফিসে আসিয়াছে। আকাশ অবশ্য রেইনকোট পরিয়া পায়ে হাঁটিয়াই অফিসে আসিয়াছে। আকাশের বাড়ি হইতে অফিসের দূরত্ব মাত্র আধা কিলোমিটার হইবে। আকাশ দূর হইতে কথাকে দেখিয়াই কহিল: সু-প্রভাত বৃষ্টিস্নাত মহারাণী!আহ্! এই প্রভাতের বৃষ্টি! আধ ভেজা শাড়িতে বর্ষা সিক্ত আপনি!বেশ ভালোই লাগিতেছে।আপনার গৃহ তো অফিসের সন্নিকটে তাই এমন কথা নি:সৃত হইতেছে মুখ হইতে: বলিল কথা। আমার মত দূর হইতে আসিলে বোঝা যাইত মহারাজের কি হাল! ঠিক আছে বাবা আমি পরাজয় বরণ করিলাম: আকাশের সরল সহজ স্বীকারোক্তি ও আত্মসমর্পণ। পরাজয় না মানিয়া কি উপায় আছে! আমি যে মহারাণী! আপনার মহারাণী:কথার অতি আত্মবিশ্বাসী উ...

ভালোবেসেছিলাম তারা

রোমান্টিক ছোটগল্প
রকিবুল ইসলাম যাবেন নাকি? কোথায়? চলুন না একটু ঘুরে আসি! কোথায় যাবেন? আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন সেখানেই যাব।তবে,দেখবেন জায়গাটা যেন কোলাহল মুক্ত হয়। ঠিক আছে! মহারাণী'র আদেশ শিরোধার্য।এই আমাকে মহারাণী বললেন কেন? আমি আবার কবে আপনার মহারাণী হলাম? ভুল বুঝে থাকলে আমি দুঃখিত। কথা'র কথার উত্তর দিতে গিয়ে থমকালো আকাশ। কথা তার হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেছিল যে! অনেক দূর এগিয়ে গেছে ঘটনা কিন্তু পাত্র পাত্রীর পরিচয় এখনো বলা হয়নি। কথা মহারাণী'র মত যার মেজাজ সে কিন্তু মোটেও মহারাণী বা সে ধরণের কিছু নয়। দরিদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী পিতা ও পুরোদস্তুর গৃহিণী মাতার অতি আদরের দুলালী এই মহারাণী রুপী কথা। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন সকলেই তাকে এই নামে ডাকতেই পছন্দ করে। কথা'রও বেশ ভালোই লাগে! বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। সুখের ঘরে দু:খের আগুন হয়ে এল তার বাবার অকাল প্রয়াণ। কিশোরী কথা পরিবারের জৈষ্ঠ্য সন্তান হওয়ায...
বালক বেলার প্রেম!

বালক বেলার প্রেম!

রোমান্টিক ছোটগল্প
রকিবুল ইসলাম : আমি তখন সবে প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম।সময়টা ১৯৯৬ সাল হবে। আমার বিদ্যালয়ের নাম ছিল ক্রিসেন্ট প্রি-ক্যাডেট নার্সারি স্কুল। সহপাঠী হিসাবে পেয়েছিলাম বাবু,মিন্টু,শরিফুল,সোহাগ,রিয়াদ প্রমূখকে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করা আমি অন্যান্য সহপাঠীদের সাথে সহজ হতে পারছিলাম না।অন্য ভাবে বলতে গেলে বলতে হয় তারাও ঠিক সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি আমাকে।ষষ্ঠ শ্রেণীর প্রথম সাময়িকী পরীক্ষায় আমি তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে সকলের হাস্য-রসের খোরাক হয়েছিলাম। পরবর্তীতে অবশ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের অকৃপণ সহযোগিতা, সহমর্মিতায় লেখা পড়ায় সফল হতে শুরু করি। ধীরে ধীরে সহপাঠীদের নিকটেও প্রিয়বৎসল হয়ে উঠতে লাগলাম।এরপর দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম কোন মতে।অবশ্য বাৎসরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে। সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকাল...

কখনো তুমি!

কবিতা
রকিবুল ইসলাম তুমি কখনো বরষার অবারিত বারি,আবার কখনো তুমি প্রচন্ড দাবদাহেপ্রজ্জ্বলিত অগ্নিদাহ খরা।কখনো তুৃৃমি কনকনে শীতের হিমবহতা,আবার কখনো তুমি বসন্তের মিষ্টি হাওয়া।কখনো তুমি পড়ন্ত বিকেলের গোধূলী লগন,তেজস্বী রবির বিদায় বেলা।আবার কখনো তুমি দিবাভাগের অন্তিম মূহুর্তের রক্তিম গগন, পাখিদের নীড়ে ফেরার সন্ধিক্ষণ,রাতের নীল আকাশে তারা'দের অসারিবদ্ধ বিচরণ।কখনো তুমি জোঁনাকীর আলো, তুমি দৃষ্টির পিদিম, তুমি আলেয়ার আলো।তুমি রঙ্গীন জ্যোৎস্নার ঝলমলে আলোকসজ্জা,সেই তুমিই আবার অমাবস্যার ঘণ,গাঢ় নিম রজনীর ঘোর আঁধার,এক রাশ হতাশা আর হৃদয়ের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত দুঃখের নিশান।কখনো তুমি আত্মার ব্যাকুলতা, কখনো আবার আশার ভেলা।কখনো সেই তুমিই স্বপ্ন সারথী,তোমাতেই প্রত্যাশার শুরু, তোমাতেই তা শেষ।কখনো তুমি তটিনী সঙ্গমে উন্মুখ প্রবল ঝর্ণা ধারা,আবার কখনো তুমি সাগর সঙ্গমের জন্য স্বীয় সত্ত্বাকে বিলিনকল্পে ব্যস্ত স্রোত...
কবিতা: বাঁচব মরণে

কবিতা: বাঁচব মরণে

কবিতা
রকিবুল ইসলাম যাবে থেমে সব কোলাহল,নিভবে সাধের জীবন প্রদীপ!নামবে তমসাবৃত গাঢ় আঁধার,ছিনিয়ে নিবে আলো চোখের। থামবে সকল ব্যস্ততা যখন,সকল খরা ঘুচবে তখন।ঘনাবে তমসাবৃত গাঢ় আঁধার,লেনা দেনা মিটবে সকল। ছিন্ন হবে সকল বাঁধন,চাওয়া পাওয়ার হলোনা মিলন।ফিরবো না কভু আসবো না আর,অতি অসহায় এই ছিন্নমূল। কাঁদবে সকল বন্ধু স্বজন,করবে বিলাপ পরিবার পরিজন।হলোনা জীবনে বাঁচা যখন,"বাঁচব মরণে" সতত তখন।...
হরর থ্রিলার গল্প : সি আই পি এ

হরর থ্রিলার গল্প : সি আই পি এ

অতিপ্রাকৃত গল্প, থ্রিলার গল্প, হরর গল্প
ধ্রুব নীলের হরর থ্রিলার গল্প : সি আই পি এ রেনু খুন হওয়ার দেড় মাসের মাথায় খুনিকে ধরেছে রশিদ। খুনি এখন তার সামনে ভারী কাঠের চেয়ারে হাত-পা বাঁধা বন্দি। ‘তুমি আমার একচল্লিশ নম্বর সাবজেক্টের... স্বামী। চিনতে পেরেছি আগেই।’ খুনি বলল। রশিদের স্ত্রী রেনুকে ভয়াবহ যন্ত্রণা দিয়ে সে-ই মেরেছে। ফ্ল্যাট বাসার ভেতরের একটা রুম। ভেতরে ঝলমলে আলো। দুই লেয়ারের ভারী পর্দায় ঢাকা চারপাশ। রুমটা সাউন্ডপ্রুফ করতেই লাখ তিনেক খরচ করেছে রশিদ। অ্যাকুস্টিক প্লাস্টারবোর্ডের সঙ্গে ফোমও বসিয়েছে। তবে খুনি লোকটা একবারও চেঁচামেচি করেনি। খুনির নাম জানা নেই। নাম নিয়ে রশিদের আগ্রহ নেই। পত্রিকার দেওয়া নামটা হলো ‘সলটেড কিলার’। ভিকটিমকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করতো। তারপর লবণ বা এ জাতীয় কিছু মেখে দিত। মরার আগ পর্যন্ত চলতো অমানুষিক নির্যাতন। দুয়েকটা ডেডবডিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ভিনেগারের ট্রেস পা...
ছোটদের গল্প : পিপির প্ল্যান

ছোটদের গল্প : পিপির প্ল্যান

কিশোর গল্প
পিপির মন খারাপ। মা আজও বকেছে। সে নাকি বসে বসে শুধু চিনি খায় আর ঘুমায়। কিন্তু সে যে মস্ত বড় বিজ্ঞানী এটা কারো মাথাতেই ঢোকে না। সে-ই প্রথম প্রমাণ করলো, শুধু মরার সময়ই পিঁপড়ার পাখা গজায় না, এর আগেই চাইলে পিপড়ারা পাখা লাগিয়ে উড়তে পারে। ইলেকট্রনিক পাখা বানানোর জন্য গত বছর সেরা পিবিজ্ঞানীর পুরস্কার পেয়েছিল সে। আর বিজ্ঞানীরা তো একটু বেশি ঘুমাবেই। টিটিনপুর পাশেই আছে ইয়া বড় এক দালান। সেখানে আবার রেড ইন্ডিয়ান পিপড়াদের কলোনি। অবশ্য এখন পর্যন্ত মিলেমিশে আছে সবাই। লাল পিঁপড়ের দল খাবার খোঁজার সময় ঘাড় উঁচিয়ে টিটিনপুরের দিকে তাকালেও কখনও কিছু বলেনি। ওদের নিয়েই চিন্তায় আছে পিপি। যদি আক্রমণ করে বসে! চিন্তা করা ছাড়া আপাতত কাজও পাচ্ছে না। কারণ অন্যদের মতো লাইন ধরে খাবার খুঁজতে তার ভাল লাগে না। সবাই খাবার জমা করার কাজে ব্যস্ত। সামনে নাকি বর্ষার মৌসুম। কিন্তু পিপি জানে, বর্ষা হলেও তার খাবার খুঁজতে সমস্যা...