সাগর আহমেদ : জিয়ানা এবার ক্লাস সিক্সে উঠেছে। নতুন বই , নতুন সিলেবাস, নতুন সবকিছু।
সে তার নতুন বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিলো। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল ভূগোল বইয়ের মহাবিশ্ব অধ্যায়ের একটা ছবির দিকে। এমন সময় টোকন মামাকে নিয়ে ওদের বাসায় অপু এলো।
অপু জিয়ানার বড় বোন টিয়ানার ক্লাসমেট। সে তিয়ান ও টিয়ানাকে নিয়ে দুঃসাহসী কিশোর দল গঠন করেছে। নানা দেশে,নানা জায়গায় এডভেঞ্চার করে বেড়ায়। অপুর টোকন মামা প্রায়ই ওদের সঙ্গে থাকেন।
টোকন মামাকে দেখে জিয়ানা চেঁচিয়ে উঠলো,” মামা, মামা, দেখতো আমার ভূগোল বইয়ে এই ঝাড়ুর মতো জিনিসটা কি? এটির মাথার দিকে আবার গোলাকৃতি অগ্নিগোলক।” টোকন মামা ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন,”এটাতো ধুমকেতু।
মহাকাশে এমন ছোট বড় অনেক কিছু রয়েছে। যেমন আমাদের সৌরজগতের সূর্য ও ৮টি গ্রহ রয়েছে, তেমনি অনেকগুলো সৌরজগত নিয়ে একটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ গঠিত হয়।
জিয়ানা টোকন মামাকে জিজ্ঞেস করলো,” মামা, একেকটি গ্যালাক্সি কত বড়ো হয়?” টোকন মামা হেসে বললেন,” একটা বড়সড় দৈত্যাকৃতি গ্যালাক্সিতে ১০০ হাজার কোটি সূর্য বা নক্ষত্র থাকতে পারে।এইযে ধরো আমাদের গ্যালাক্সি,যার নাম মিল্কিওয়ে তাতেও বেশুমার নক্ষত্র রয়েছে। আদতে আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে একটি মাঝারি সাইজের গ্যালাক্সি।
আর আমাদের সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম প্রক্সিমা সেন্টোরাই। ” এমন সময় টিয়ানা অপুকে নিয়ে ওদের ফুল বাগান থেকে ঘুরেফিরে এসে বসলো টোকন মামার কাছে।
টিয়ানা জিয়ানাকে বললো,” জানিস, আমাদের সূর্যের বয়স কতো?” জিয়ানা ঠোঁট উল্টে বললো,” আমি কি আর অতশত জানি? তুমিই বলো, বড় আপু।” টিয়ানা হেসে দিয়ে বললো,” আমাদের সূর্যটা মাঝ বয়েসী, এর বয়স ৫০০ কোটি বছর। ধারণা করা হয়, এটি আরো ৫০০কোটি বছর বাঁচবে।” অপু যোগ করলো” মহাকাশের এই সব সূর্য গুলোর ভিতরে হিলিয়াম গ্যাস আছে, পুড়তে পুড়তে যখন এই গ্যাস শেষের দিকে যায়, তখন সূর্যটিকে অনেক বড় ও রক্তলাল দেখায় । একে তখন রেড জায়েন্ট বলা হয় ।
এরপর যখন হিলিয়াম গ্যাস পুড়ে একদম শেষ হয়ে যায়, তখন সেই সূর্যটি সাদা রং ধারণ করে একদম সংকুচিত হয়ে যায়, তখন একে হোয়াইট ডোয়ারফ বলে । এর কিছুদিন পর এই হোয়াইট ডোয়ারফ সুপার নোভায় পরিনত হয়ে বিস্ফোরিত হয়ে মহাশূন্যে লীন হয়ে যায়। এভাবেই নক্ষত্র বা সূর্যের মৃত্যু হয়।” কখন যে তিয়ান টিয়ানাদের পাশের বাসা থেকে এসে নিশ্চুপে ওদের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আলাপ শুনছে , কেউ খেয়াল করেনি। হঠাৎ সে কথা বলে উঠলো, ” শুধু তাই নয়, মহাকাশে রয়েছে বিস্ময়কর ব্ল্যাকহোল ।
সুপার নোভা মহাশূন্যে লীন হয়ে উক্ত এলাকায় প্রচন্ড চুম্বকীয় আবেশ ও আকর্ষণ সৃষ্টি করে ।ব্ল্যাক হোলের কাছে বড়,ছোট যে বস্তুই যাক না কেন, তারা মহা আকর্ষণে পড়ে হারিয়ে যায় । তাকে আর কখোনোই দেখা যায় না। এমনকি কাছাকাছি এলাকায় এলে ব্ল্যাক হোল আলোও খেয়ে ফেলে। তাই ব্ল্যাক হোলের রাজত্ব অন্ধকারময়।”
টোকন মামা বললেন,” মহাকাশ এক মহাবিস্ময় । এখানে পালসার ও আছে।এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎ চুম্বকীয় নিউট্রন তারকা যা তরঙ্গায়িত পালসের মাধ্যমে তড়িৎ চুম্বক মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও নিহারিকা মহাকাশের আরেক বিস্ময় । এটি মহাজাগতিক ধূলো ও গ্যাসের এক গভীর আস্তরণ। এমন আরো অনেক অনেক বিস্ময়কর বস্তু মহাকাশে আছে । একদিনে বলে শেষ করা যাবে না। ”
জিয়ানা বললো টোকন মামা আপনি সময় করে মাঝেমাঝে আসবেন । আমি আরো জানতে চাই । একদিন জ্ঞান, বিজ্ঞানে বিকশিত হয়ে যেনো বড় বিজ্ঞানী হতে পারি – এটাই আমার স্বপ্ন।” টোকন মামা বললেন, হ্যা, এর জন্য তোমাকে নিজ থেকেও অনেক কিছু পড়তে হবে, জানতে হবে । পড়া ও জানার আগ্রহই মানুষকে বড় করে তোলে ।আজ তাহলে আসি মামণি?” তিয়ান, টিয়ানা, জিয়ানা সমস্বরে বলে উঠলো, ” শীঘ্রই আবার এসো কিন্তু মামা।” টোকন মামা অপুকে নিয়ে মুচকি হেসে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন।
সাগর আহমেদ, সাহেরুনবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা ১২১৯