Friday, August 29
Shadow

Year: 2024

ঘোড়ার ডিম 

কিশোর গল্প
 নকুল শর্ম্মা বুল্টির মা বুল্টিকে মামলেট বানিয়ে দিবে যেই ডিম খানা ফাটালো ওমা এ কী কাণ্ড লাফ দিয়ে বেরিয়ে এলো একটা তরজাজা ছানা।মুরগির ছানা দেখে তো বুল্টির মায়ের চোখ ছানাবড়া। ডিম,হায় রে! ডিম, ডিম নিয়ে ঘটে গেলো আজগুবি সব কাণ্ড কারখানা। বুল্টির মা তখন রেগেমেগে বুল্টির বাবাকে বলছে আর কোনো ডিম পেলে না বুঝি? কী ডিম এনেছো পয়সা দিয়ে বাজার থেকে? বুল্টির বাবা মুখ ভেংচিয়ে বললো আর কোন ডিম আনব,ঘোড়ার ডিম? কথা মুখ থেকে বেরুতে না বেরুতেই বুল্টির ছোট ভাই বলে বসলো আমি ঘোড়ার ডিম খাবো। এই হলো গিয়ে,,, মরার উপর খাড়ার ঘা। ছেলের বায়না ঘোড়ার ডিম তার লাগবেই। কোনোভাবেই ওকে সামলানো যাচ্ছে না।বাবা,শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হলো ঘোড়ার ডিম গঞ্জের হাট ছাড়া কোথাও পাওয়া যায় না। ছেলে নাছোড়বান্দা, সে ঘোড়ার ডিম খেতে গঞ্জের হাটেই যাবে।  কী আর করা, যেই কথা সেই কাজ।বাবা ছেলেকে নিয়ে বিকেলে গঞ্জের...

ভূতের গল্প : মাছরাঙা ভূত

কিশোর গল্প
মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন সুন্দরপুর গ্রাম। গ্রামের পাশে ছলছলা নদী। নদীর পাশেই স্কুল। বাঁধ দেওয়াতে এবারের বর্ষায় বড় ধরনের ভাঙন নেই। তাই স্কুলটার রক্ষে। এই স্কুলেই পড়ে ফয়েজ। নবম শ্রেণিতে। ঝিলের খানিক দূরেই তার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত। কেউ তাকে কোথাও ডাকলে মানা নেই। রাত কয়টা বাজলো সেদিকে খেয়াল নেই। দে ছুট। একটা জোড়ালো শখ তার মধ্যে আছে। সেটা হলো মাছ ধরার শখ। বরশি দিয়ে টেঁটা দিয়ে কিংবা পোলো দিয়ে মাছ ধরা তার অন্যরকম শখ। আজ রাতে বৃষ্টি হয়েছে। রাত এগারোটা পর্যন্ত স্যারের কাছে পড়তে এসে আটকে পড়ে যায়। রাত সাড়ে এগারোটায় বাড়ি ফেরে। ঝিলের পাশ দিয়েই ওর যাওয়ার রাস্তা। হাতে টর্চলাইট। হঠাৎ দেখল ঝিলের কিনারে লাফিয়ে উঠছে অনেক মাছ। তেলাপিয়া, কই শিং ইত্যাদি। শরীর থেকে শার্ট খুলে মাছ ভরতে লাগল। অনেক হয়েছে। শার্টে আর জায়গা নেই। ওজনও হয়েছে বেশ। ভালো করে গিট মেরে মাছ কাঁধে ফেলে দ্রুত বা...

স্বপ্নের সাইকেল

কিশোর গল্প
কয়েকদিন যাবৎ অঝোর বৃষ্টি গোটা শহর জুড়ে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ।কতদিন সূর্যের মুখ দেখা হয় না মনে নেই।পীনপতন নীরবতা বিরাজমান শহরের অলিগলিতে।এমন এক মখমলে দিনে আসিফ মুখ ভার করে বসে আছে।তার ভীষণ রকমের মন খারাপ।কারণ তার বাবা আবদার রাখেনি তার।আজ সেই প্রতীক্ষিত দিন যে দিনে বাবা তাকে সাইকেল কিনে দিবে বলেছিল।এই দিনের অপেক্ষায় সে কতো রাত নিদ্রাহীন থেকেছে।কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আজ। আসিফের বাবা রিক্সাচালক।ঢাকার রায়ের বাজারে দীর্ঘ ১৬ বছর সে রিক্সা চালায়।অসীম অভাব আর টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার চলে যাচ্ছিল কোনোরকম।আসিফের একটা ছোট বোন আছে। তার নাম আফিয়া। আফিয়া তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। দুরন্ত স্বভাবের মেধাবী একজন মেয়ে। গত পরীক্ষা সে সেকেন্ড হয়েছে।সেজন্য তার প্রচুর মন খারাপ হয়েছিল।তাই এবার সে ভালোভাবে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছে।এবার তাকে ফার্স্ট হতে হবে। বিকেল পেরিয়ে সন...

গুলজার মামা ও মাজন সন্ন্যাসী 

কিশোর গল্প, হরর গল্প
জুয়েল আশরাফ  গুলজার মামা ভূত বিশ্বাস করেন না। কেউ ভূতুড়ে গল্প বললে তেতে ওঠেন। মামা একটা কোম্পানিতে ম্যানেজার পদে চাকরি করেন। অফিসের কেউ যদি তার সাথে ভূতের ভয়ানক কিছু বলেন, তাহলে মামা ভয় পান না। মামা বলেন, ভূত বলে কিছু নেই। এ সবই মানুষের মনের ব্যাপার। একদিন অফিসে বেশি কাজ থাকায় রাতে মামা বাড়ি ফিরছিলেন। বাইক নিয়ে আরাম করে বাড়ি ফেরার পথে, হঠাৎ নির্জন রাস্তায় বাইক বন্ধ হয়ে যায়। রাত অনেক হয়ে গেছে, এসময় কোনো দোকান খোলা থাকে না। বাইক ঠিক করতে পারবে না ভেবে টেনে নিয়ে হাঁটতে লাগলেন। কিছুদূর পৌছে দেখলেন বাসস্টপের কাছে মাজন সন্ন্যাসী বসে আছে। একসময় সে মাজন বিক্রি করত, তাই ওই নাম। ব্যবসায় লাভবান হয়নি, মাজন ব্যবসা ছেড়ে হালে সন্ন্যাসীর বেশভূষা ধরেছে। আজকাল কেউ আঙুলের মাথায় ছাইপাঁশ লাগিয়ে দাঁত মাজে না। সবাই এখন টুথপেষ্ট আর টুথব্রাশে অভ্যস্ত।  অনেকক্ষণ ধরে বাইক টেনে নি...

বাবা বটের ছায়া

সামাজিক গল্প
ফারুক আহম্মেদ জীবন  শাওন আর শায়লার কোন ছেলে নেই। দুটো মেয়ে নাম চন্দ্রা আর তন্দ্রা। বড় মেয়ে চন্দ্রার বয়স খুব বেশি হলে আট বছর হবে। এবছর তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে চন্দ্রা। আর ছোট মেয়ে তন্দ্রার বয়স পাঁচ ছয় বছর মতো। কয়েক মাস হচ্ছে তন্দ্রা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ওদের বাবা শাওন আদর করে দুই মেয়েকে ডাকে চন্দ্রা মণি আর তন্দ্রা মণি মা বলে।  আর ডাকবেই বা- কেনো? ওরা দু,বোন চন্দ্রা আর  তন্দ্রাই যে ওদের মা-বাবার প্রাণ। কলিজার বুটা, দুটি চোখের মণি। বলতে গেলে মেয়ে দুটোর জন্যই শাওন আর শায়লার পৃথিবীতে বেঁচে থাকা। ওরা দু,বোনই যেনো ওদের বাবা-মার পৃথিবী। কখনো মেয়ে দুটোকে ওরা চোখের আড়াল হতে দেয়না। বটবৃক্ষের ছায়ার মতো আদর, স্নেহ, আর ভালোবাসার সুশীতল মায়ার চাদরে আগলে রাখে মেয়ে দুটোকে। প্রতিদিন সকালে শায়লা ঘুম থেকে উঠে ওয়াশ রুমে গিয়ে দাঁত মেজে ফ্রেস হয়ে ওজু করে এসে ফজরের ন...
সায়েন্স ফিকশন গল্প : ত্রুটি

সায়েন্স ফিকশন গল্প : ত্রুটি

অতিপ্রাকৃত গল্প, সায়েন্স ফিকশন
অতিপ্রাকৃত সায়েন্স ফিকশন গল্পটি লিখেছেন ধ্রুব নীল এখন রাত দশটা। সকাল দশটা থেকে তরিকুলের মনে হচ্ছে কোথাও একটা বড় গণ্ডগোল আছে। গণ্ডগোলটা কী সেটা গত বারো ঘণ্টায়ও ধরতে পারেনি। সকাল দশটায় তরিকুল তার মুদিদোকানের শাটার খোলে। গ্রামের বাজারে তরিকুলের ছোটখাট মুদি দোকান। বেচাকেনা মাপমতো। দেরি করে দোকান খুললেও সমস্যা নেই। কাস্টমার হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকে। সকাল দশটার আগেই যা ঘটল তাতে দোকান খুলতে তরিকুলের দেরি হওয়ার কথা। অথবা দোকানে তার যাওয়ার কথাই না। তারপরও গেল। আধাঘণ্টার হাঁটাপথ। সারাটা পথ ভাবতে ভাবতে হেঁটেছে। কূল কিনারা হয়নি।              ঘটনাটা এমন- তরিকুল নাস্তা শেষ করে নলকূপ চিপে হাত ধুচ্ছিল। এমন সময় দেখল বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে বসে পাতিল মাজছে রুনু। কিন্তু তার কাছে মনে হচ্ছিল রুনু আছে রান্নাঘরে। নাস্তার কোন ফাঁকে শাড়...

গল্প : আলাপ

জাদু-বাস্তবতা
‘তোমরা বান্ধবীরা মিলে কোথাও ঘুরতেও তো যেতে পারো। চাকরি থেকে ছুটি নাও কদিনের।’ জানালার কপাট খুলে গোলগাল চাঁদটাকে দেখতে দেখতে বলল সুজন। রেনু চোখ বুঁজে আছে। ‘তোমার কারণেই তো যেতে পারি না।’ মৃদু অনুযোগ। তবে ভিত্তিহীন। ‘তোমার বান্ধবীরা তো বেশ ঘুরছে। একজন আছে না, কী যেন নাম তার।’ ‘মিথিলার কথা বলছো?’ ‘হুম।’ ‘ও তো দুর্ধর্ষ। পাহাড়পর্বতে চড়ে বেড়ায়। টাকার অভাব নেই।’ চাঁদের আলো মুখে মেখে নিচ্ছে সুজন। নড়ে উঠল রেনু। কাটিয়ে নিল আড়ষ্টতা। ‘হুমম। এ জন্যই এমন ফিগার ধরে রাখতে পেরেছে। তুমিও ওর সঙ্গে পাহাড়ে চড়তে শুরু করে দাও না কেন।’ ‘কেন? শায়লার ফিগার কি খারাপ নাকি! ও তো পাহাড়ের ধারে কাছেও যায় না।’ ‘খোঁজ নিয়ে দেখো, ঠিকই ইয়োগা করছে।’ বলতে বলতেই রেনুর আঙুলের ফাঁকে নিজের আঙুলগুলোর জায়গা করে নিল সুজন। আজকের চাঁদটা বেশ বড়। আকাশটাও বারবার ফুলেফেঁপে উঠছে, চাঁদের খাতিরে...

বিবেক

সামাজিক গল্প
লেখক: নিরমিন শিমেল (প্রকাশ: কালবেলা) টাকাটা পড়ে আছে অলক্ষে, রাস্তার কোলঘেঁষে, যেখান থেকে ফার্মগেটের দীর্ঘ ওভারব্রিজটা মরাল গ্রীবা বাঁকিয়ে পাক খেয়ে ওপরে উঠে গেছে। বাসের জন্য অপেক্ষা করছে রঞ্জু। বারবার হাতঘড়ি দেখছে। রিফাতকে সময় দেওয়া আছে ঠিক ১০টায়। একটি টিউশনি জোগাড় করে দেওয়ার কথা। রঞ্জু আড়চোখে আরেকবার তাকাল। পঞ্চাশ টাকার চকচকে একটি লাল নোট। পাশাপাশি ভাবে ভাঁজ করা। কারও কি চোখ পড়েনি? পকেটে অবশিষ্ট সিগারেটটায় অগ্নিসংযোগ করে লম্বা টান দেয়। বিরক্তিতে ভ্রু জোড়ায় সুস্পষ্ট ভাঁজ। একটি চাকরিতে দরখাস্ত জমা দেওয়ার আজই শেষ তারিখ ছিল। পকেটের জীর্ণ দশায় ক্ষান্ত দিতে হয়েছে। মার কাছে অবশ্য সকালে হাত পেতে ছিল। বেশি না, মাত্র চল্লিশ টাকা। মায়ের কণ্ঠে ঈষৎ হতাশা মিশ্রিত রোষানল—এ নিয়ে কটা দরখাস্ত হলো বলত? উত্তর দেওয়া কিংবা টাকা নেওয়া দূরে থাক, জোঁকের মুখে নুন পড়ার মতো গুটি...

পল্টু ফটিক ও ছেলিম মামার গল্প

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফটিক দৌড়াচ্ছে। মাঠ ঘাট খাল বিল পেরিয়ে দৌড়েই যাচ্ছে। পেছনে কুকুর তাড়া করলে যেভাবে দৌড়ায় সেভাবে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বেঁচে থাকলে লিখতেন, ফটিক ছুটেছে ফটিক, তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে… যাই হোক, ফটিক যাচ্ছে তার বন্ধু পল্টুর কাছে। পল্টুর বাসা ফুলতলা গ্রামের একেবারে শেষ সীমায়। দৌড়ে না গেলে বেলা পড়ে যাবে। উঠোনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ জিভ বের করে হাঁফিয়ে নিল ফটিক। পল্টু দুপুরে ঘুমায়। লম্বা করে হাই তুলে বলল, পাগলা কুকুর তাড়া করেছে?ফটিক সূচনা ভূমিকায় না গিয়ে সোজা বর্ণনায় গেল।'মহাবিপদ হয়ে গেছে। মানে, বিশাল একটা ব্যাপার। ছেলিম মামা একটা জিনিস আবিষ্কার করেছে।'‘কী জিনিস রে! খাওয়া যায়? স্বাদ কেমন? মিষ্টি নিশ্চয়ই? সঙ্গে আছে?’‘আরে নারে! ছেলিম মামা অংক টংক করে বের করেছে, আমাদের এই গ্রাম আর আমরা সবাই একটা গল্পের ভেতর আছি। কাগজে ছাপা হওয়া গল্প। বুঝতে পারলি!’‘অ্যাঁ, বলছিস কী! আমি তুই গল্পের...
বিকেল পাঁচটার পর

বিকেল পাঁচটার পর

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প ১ সামছুল করিম কলেজে বছর বিশেক হলো অংক পড়ান আবদুল মতিন। বয়স ষাটের কাছাকাছি। এখনো শক্তসমর্থ। হাঁটাহাঁটি করেন সারাদিন। একই কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক নেপাল চন্দ্রের সঙ্গে জমে ভালো। দুজনই সমবয়সী। বহুদিনের বন্ধুত্ব। ক্লাসের ফাঁকে সময় পেলেই দুজন বিজ্ঞানের কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আবদুল মতিন অবশ্য পদার্থবিজ্ঞানের অনেক কিছু না বুঝেও হাঁ হুঁ করে চালিয়ে যান। কঠিন আলাপের এক পর্যায়ে নেপাল চন্দ্র নিজেও খেই হারিয়ে মাথা দোলাতে দোলাতে চলে যান অন্য রুমে। ‘বুঝলি মতিন, সময় আমাদের চোখের সামনে থাকে। বয়ে যায়। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পারি না। ধরতে পারি না। আমাদের মনে হয় ওটা একটা ফাঁকি। কিন্তু না। সময় জিনিসটা একেক জায়গায় একেক গতিতে চলে।’ ‘বিষয়টা আমার মুখস্থ। এই নিয়া পঁচানব্বইবার শুনছি।’ ‘না, ধর, সময় কোথাও আস্তে চলে, কোথাও দ্রুত। দুইটাকে পা...