Saturday, August 30
Shadow

Month: May 2024

গল্প : আলাপ

জাদু-বাস্তবতা
‘তোমরা বান্ধবীরা মিলে কোথাও ঘুরতেও তো যেতে পারো। চাকরি থেকে ছুটি নাও কদিনের।’ জানালার কপাট খুলে গোলগাল চাঁদটাকে দেখতে দেখতে বলল সুজন। রেনু চোখ বুঁজে আছে। ‘তোমার কারণেই তো যেতে পারি না।’ মৃদু অনুযোগ। তবে ভিত্তিহীন। ‘তোমার বান্ধবীরা তো বেশ ঘুরছে। একজন আছে না, কী যেন নাম তার।’ ‘মিথিলার কথা বলছো?’ ‘হুম।’ ‘ও তো দুর্ধর্ষ। পাহাড়পর্বতে চড়ে বেড়ায়। টাকার অভাব নেই।’ চাঁদের আলো মুখে মেখে নিচ্ছে সুজন। নড়ে উঠল রেনু। কাটিয়ে নিল আড়ষ্টতা। ‘হুমম। এ জন্যই এমন ফিগার ধরে রাখতে পেরেছে। তুমিও ওর সঙ্গে পাহাড়ে চড়তে শুরু করে দাও না কেন।’ ‘কেন? শায়লার ফিগার কি খারাপ নাকি! ও তো পাহাড়ের ধারে কাছেও যায় না।’ ‘খোঁজ নিয়ে দেখো, ঠিকই ইয়োগা করছে।’ বলতে বলতেই রেনুর আঙুলের ফাঁকে নিজের আঙুলগুলোর জায়গা করে নিল সুজন। আজকের চাঁদটা বেশ বড়। আকাশটাও বারবার ফুলেফেঁপে উঠছে, চাঁদের খাতিরে...

বিবেক

সামাজিক গল্প
লেখক: নিরমিন শিমেল (প্রকাশ: কালবেলা) টাকাটা পড়ে আছে অলক্ষে, রাস্তার কোলঘেঁষে, যেখান থেকে ফার্মগেটের দীর্ঘ ওভারব্রিজটা মরাল গ্রীবা বাঁকিয়ে পাক খেয়ে ওপরে উঠে গেছে। বাসের জন্য অপেক্ষা করছে রঞ্জু। বারবার হাতঘড়ি দেখছে। রিফাতকে সময় দেওয়া আছে ঠিক ১০টায়। একটি টিউশনি জোগাড় করে দেওয়ার কথা। রঞ্জু আড়চোখে আরেকবার তাকাল। পঞ্চাশ টাকার চকচকে একটি লাল নোট। পাশাপাশি ভাবে ভাঁজ করা। কারও কি চোখ পড়েনি? পকেটে অবশিষ্ট সিগারেটটায় অগ্নিসংযোগ করে লম্বা টান দেয়। বিরক্তিতে ভ্রু জোড়ায় সুস্পষ্ট ভাঁজ। একটি চাকরিতে দরখাস্ত জমা দেওয়ার আজই শেষ তারিখ ছিল। পকেটের জীর্ণ দশায় ক্ষান্ত দিতে হয়েছে। মার কাছে অবশ্য সকালে হাত পেতে ছিল। বেশি না, মাত্র চল্লিশ টাকা। মায়ের কণ্ঠে ঈষৎ হতাশা মিশ্রিত রোষানল—এ নিয়ে কটা দরখাস্ত হলো বলত? উত্তর দেওয়া কিংবা টাকা নেওয়া দূরে থাক, জোঁকের মুখে নুন পড়ার মতো গুটি...

পল্টু ফটিক ও ছেলিম মামার গল্প

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফটিক দৌড়াচ্ছে। মাঠ ঘাট খাল বিল পেরিয়ে দৌড়েই যাচ্ছে। পেছনে কুকুর তাড়া করলে যেভাবে দৌড়ায় সেভাবে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বেঁচে থাকলে লিখতেন, ফটিক ছুটেছে ফটিক, তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে… যাই হোক, ফটিক যাচ্ছে তার বন্ধু পল্টুর কাছে। পল্টুর বাসা ফুলতলা গ্রামের একেবারে শেষ সীমায়। দৌড়ে না গেলে বেলা পড়ে যাবে। উঠোনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ জিভ বের করে হাঁফিয়ে নিল ফটিক। পল্টু দুপুরে ঘুমায়। লম্বা করে হাই তুলে বলল, পাগলা কুকুর তাড়া করেছে?ফটিক সূচনা ভূমিকায় না গিয়ে সোজা বর্ণনায় গেল।'মহাবিপদ হয়ে গেছে। মানে, বিশাল একটা ব্যাপার। ছেলিম মামা একটা জিনিস আবিষ্কার করেছে।'‘কী জিনিস রে! খাওয়া যায়? স্বাদ কেমন? মিষ্টি নিশ্চয়ই? সঙ্গে আছে?’‘আরে নারে! ছেলিম মামা অংক টংক করে বের করেছে, আমাদের এই গ্রাম আর আমরা সবাই একটা গল্পের ভেতর আছি। কাগজে ছাপা হওয়া গল্প। বুঝতে পারলি!’‘অ্যাঁ, বলছিস কী! আমি তুই গল্পের...
বিকেল পাঁচটার পর

বিকেল পাঁচটার পর

কিশোর গল্প, সায়েন্স ফিকশন
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প ১ সামছুল করিম কলেজে বছর বিশেক হলো অংক পড়ান আবদুল মতিন। বয়স ষাটের কাছাকাছি। এখনো শক্তসমর্থ। হাঁটাহাঁটি করেন সারাদিন। একই কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক নেপাল চন্দ্রের সঙ্গে জমে ভালো। দুজনই সমবয়সী। বহুদিনের বন্ধুত্ব। ক্লাসের ফাঁকে সময় পেলেই দুজন বিজ্ঞানের কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আবদুল মতিন অবশ্য পদার্থবিজ্ঞানের অনেক কিছু না বুঝেও হাঁ হুঁ করে চালিয়ে যান। কঠিন আলাপের এক পর্যায়ে নেপাল চন্দ্র নিজেও খেই হারিয়ে মাথা দোলাতে দোলাতে চলে যান অন্য রুমে। ‘বুঝলি মতিন, সময় আমাদের চোখের সামনে থাকে। বয়ে যায়। কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পারি না। ধরতে পারি না। আমাদের মনে হয় ওটা একটা ফাঁকি। কিন্তু না। সময় জিনিসটা একেক জায়গায় একেক গতিতে চলে।’ ‘বিষয়টা আমার মুখস্থ। এই নিয়া পঁচানব্বইবার শুনছি।’ ‘না, ধর, সময় কোথাও আস্তে চলে, কোথাও দ্রুত। দুইটাকে পা...

চরণে ধরিয়া তব

রোমান্টিক ছোটগল্প
রোমান্টিক ছোট গল্প ‘চরণে ধরিয়া তব’ লিখেছেন ধ্রুব নীল। আপনার গল্প পাঠান এই ঠিকানায় news@matinews.com শুধু আমিই আমাকে বুঝতে পারি। মা-ও পারে না। সেখানে তমাল কোন ছার! তাকে বুঝতে দিলেও সে বুঝবে না। তমাল হলো খোলা বই। তরতর রিডিং পড়া যায়। সমস্যা হলো বইটায় থ্রিল নেই। ম্যাড়ম্যাড়ে কয়েকটা ছোটগল্প বড়জোর। তমালের ফোনে ব্রাউজার হিস্ট্রি ডিলিট করার অ্যাপ দেখেছি। কথা বলার সময় মিনিটে চোখ কতবার কোন দিকে যায়, আর সেটার পেছনে যে মনস্তত্ত্ব লুকিয়ে থাকে, সেটা একটা সফটওয়্যারও ধরে ফেলবে। আমার চোখের কঠিন ফেস রিকগনিশন সে ফাঁকি দেবে কী করে! লুকিয়ে এটা সেটা দেখলে দেখুক। প্রেম করার জন্য লুতুপুতু মার্কা সেজে বসে থাকাটা যে কাজের জিনিস নয়, এই ভুল তার ভাঙতে হবে। বিশ্বাস করুন, ভালো মানুষিগিরির চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছু নেই আমার অভিধানে। আমি আমার মতো। ভালো মানুষ ভালো হোক, খারাপ মানুষ খারাপগিরি করুক। আমি থা...