প্রেমাণুকাব্য-১
যামিনী নিরব হলে
তুমি একা একা কেঁদো না
পাশে তার স্মৃতিটুকু
হয়ে থাক মধুর বেদনা।
প্রেমাণুকাব্য-২
বহু যুগ অপেক্ষার পর যেমন
আর গন্তব্য থাকে না
বহুকাল তারে ভালোবাসার পর
পেয়েছি কি পাই নাই
এসব আর মানে রাখে না।
প্রেমাণুকাব্য-৩
তোমার দৃষ্টি এড়িয়ে যায় যে পথ
তাতেই আমার বাস
প্রেমিক হতে গিয়ে শেষে
হয়ে যাই তোমার চেপে রাখা শ্বাস
প্রেমাণুকাব্য-৪
বাগানের ফুল বলে না কখনো
কাঁটার ব্যথা তার বুকে
নীরবে তাকিয়ে একবার না হয়
কিছু ব্যথা নাও শুঁকে।
প্রেমাণুকাব্য-৫
চিঠি লিখব তাকে
বলে কয়ে রেখেছি কাগজওয়ালাকে
কলমের ফেরিওয়ালা কথা দিয়েছে
আসবে ভাতঘুমের পরে।
হায় নীল, ভুলে বসে আছো
পোস্ট অফিসের ঠিকানাটাই।
প্রেমাণুকাব্য-৬
তোমার আধবোঁজা চোখের সামনে
প্রেম নিবেদন যেন
আগাগোড়া ভাঁড়ামি।
তোমার রূপের বয়ান লিখে লিখে
হাতের কলমও হয়ে গেছে হারামি।
প্রেমাণুকাব্য-৭
সে না হয় প্রথম ছিল আমার
হয়তো তুমি প্রথম ছিলে তাহার
আমরা দুজন শেষের প্রেমেই না হয়
এক টেবিলে করবো রাতের আহার
প্রেমাণুকাব্য-৮
রাত গভীর হলে
আমার সিথানে ঝকমকে তারা
ভুল বললাম
ওরা আসলে
তোমার আঙিনার নয়নতারা
প্রেমাণুকাব্য-৯
তুমি খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ালে
শিরায় যে উচ্ছ্বাস আসে
তা থেকে শিখেছি বিজ্ঞান,
তবু মাধ্যাকর্ষণের সূত্র ভুলে
বার বার সূর্য ছোঁয়ার ভুল করে ফেলি
প্রেমাণুকাব্য-১০
প্রেম তো স্বার্থপরেরা করে
সাবধানে ছিলাম তাই,
পরোপকারী না হয়ে যাই পাছে!
কিন্তু প্রেমে পড়ার অনুমতিটাই পাইনি
এর চেয়ে অভাগা আর কে আছে!
প্রেমাণুকাব্য-১১
তোমার মনের বাগান থেকে
আমার দিকে তাকাল যেদিন
নয়নতারা গাছ
সেদিন থেকে বলতে পারো
হয়েছি আমি
ইচ্ছে করেই টোপ গেলা এক মাছ
প্রেমাণুকাব্য-১২
তুমি ভোর তুমি সন্ধ্যা
বনজুঁই বা
রজনীগন্ধা
তোমার রোদে তোমার মেঘে
সচকিত বা
তুমুল তন্দ্রা
প্রেমাণুকাব্য-১৩
প্রেমিকা! তুমি আমার
সোনালী ডানায় ঝিলমিলে রোদ্দুর
তোমার ভালোবাসায় বখে গিয়ে গিয়ে
তুড়িতে ওড়াব সমুদ্দুর।
প্রেমাণুকাব্য-১৪
অনন্তকালের অপেক্ষা শেষ হয়
এক মুহূর্তের দেখায়
হাজারো পেয়ালা মদ যে বৃথা
প্রেয়সীর চুমু শেখায়
