তুমি হাসবে, তুমি আসবে রলে এ যাত্রায় কতো না বর্ণিল সজ্জার বহর! বুঝতে পারলাম, পৃথিবীর ধূসর পথে যখন স্বর্ণালি সন্ধ্যে নামে, তখন জোনাকির মিটিমিটি আলো আঁধারির আড়ালে তোমার সচকিত হাসিমুখ। এর চেয়ে মনোরম তারুণ্যের উপমা কোথা পাই!
স্নিগ্ধ অবকাশে হেমন্ত নেমে আসে আদিগন্ত পৃথিবীর প্রান্তরে। শিশিরের শব্দ যেন একরাশ নৈঃশব্দ! কর্মব্যস্ত শহর, নগর, ঘাট-বাট পেরিয়ে দূর দূরান্তে সুশান্ত গাঁয়ের বিস্তীর্ণ মাঠ। ফসলের সোনা রঙ। চোখ বুঁজে ভাবি, হয়তো এমনই এক হেমন্ত সন্ধ্যেয় তোমার আগমণ ঘটেছিল এই পৃথিবীর গর্বিত বুকে।

শৈশব আসে, কৈশোর পেরোয়। সোনা রঙ, ধানক্ষেত, শিশিরার্দ্রতা, ধানের মলন, সোঁদা গন্ধ সব কিছুতেই তোমার দূরন্ত শৈশব আর কৈশোর ছাপিয়ে তারুণ্যের অনন্য ছাপ। তোমার অনবদ্য প্রেম, তোমার ভালোবাসার বিমুগ্ধ চেতনা, অনন্য মূল্যবোধ—যেন পরশ পাথর। ছুঁয়ে দিলেই আমি খাঁটি সোনা! কখনও মুচকি হেসে ছুঁয়ে দিও আমায়। আমিও হয়তো তখন তারুণ্যে ভেসে যাব; মিশে যাব সোনারঙ হেমন্তের কাঁচাপাকা আমনে। মেতে উঠবো নবান্নের উৎসব মুখরতায়।
তারপর, সাতরঙা ঘুড়ি উড়বে উদ্ভাসিত আকাশ আলোয়। সাত সকালের সৌর বিভায় তোমার অবয়বে অবলোকন যে অবলোহিত আলোকদৃশ্য—এর চেয়ে মনোরম তারুণ্যের উপমা আর কোথা পাই!
শুভাশীষ রায়
প্রধান শিক্ষক, গলাচিপা ডিএন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।
