জ্যোতি বসু চাকমা

পাহাড়ের একটি ছোট গ্রামে বসু বড় হয়েছে। তার জীবন ছিল সাধারণ—স্কুলে যাতায়াত, সকালে চা বিক্রি করা, বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা। কিন্তু একদিন গ্রামের নীলাভ আকাশের তলায় দেখা হলো কণিকার নামের এক মেয়ের সাথে।
কণিকা শহর থেকে এসে গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছে। তার চোখের মায়া, হাসির সুর, এবং সরলতা—সব কিছুই বসুকে প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করে দিল।
প্রথমে তারা কেবল হেসে কথা বলত। বসু পাহাড়ের পথে কণিকাকে নিয়ে হেঁটে যেতে ভালোবাসত। ঝর্ণার পাশ দিয়ে হাঁটা, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম—সবকিছুই তাদের বন্ধুত্বকে ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিণত করল।
একদিন বসু কণিকাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি জানো, আমি তোমাকে কতটা চাই?”
কণিকা লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে দিল। “আমি… আমি বুঝি না,” সে ভিজে চোখে বলল।
বসু তার হাত ধরে বলল, “চোখ বন্ধ করো, শুধু বিশ্বাস করো। পাহাড়ের বাতাস আমাদের গল্প শুনছে।”
সেই থেকে, তারা প্রতিদিন একে অপরের জন্য গল্প লিখত, পাহাড়ের নীরবতা এবং সন্ধ্যার আলোতে নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নিত। কিন্তু শহরের জীবন ধীরে ধীরে তাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করল। কণিকাকে ফিরে যেতে হবে শহরে, আর বসুর গ্রামে থাকা কঠিন হয়ে পড়ল।
বিদায়ের দিন, বসু কণিকার হাত ধরে বলল, “যতদূর যেও না কেন, পাহাড়ের বাতাসে আমার ভালোবাসা সবসময় তোমার সঙ্গে থাকবে।”
কণিকার চোখ ভিজে গেল। “আমি promise করি, ফিরে আসব, আর আমরা একসাথে থাকব।”
সময় কেটে গেল। কণিকা শহরে পড়াশোনা করল, বসু গ্রামে কাজ করল। কিন্তু তাদের বার্তা, ফোন, ছোট ছোট চিঠি—সবই তাদের ভালোবাসাকে জীবিত রাখল। অবশেষে, এক বছর পর কণিকা ফিরে এলো। পাহাড়ের সেই নীল আকাশের তলে, বসু তার হাত ধরে বলল, “আমাদের অপেক্ষা শেষ।”
সেই দিন থেকে, বসু এবং কণিকা বুঝল—ভালোবাসা কখনো দূরত্বে হারায় না। পাহাড়ের বাতাস, ঝর্ণার জল, এবং একে অপরের হৃদয় সবসময় তাদের কাছে সত্যিই শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে।
শেষমেষ, তারা শপথ করল, যতদিন তারা বেঁচে থাকবে, একে অপরের পাশে থাকবেই—পাহাড়ের নীরবতা সাক্ষী হয়ে।
