লাল ফুল

ধ্রুব নীল : সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে এক এক করে বত্রিশ পর্যন্ত গুনে ফেলেছে অন্তু। তবু ঘুম আসার জো নেই। মাকড়সার ঝুলের ভেতর একটা নীল পোকা আটকে আছে। ওটার দিকে তাকিয়ে থাকলেও অন্তু ভাবছে অন্য কিছু। মনে মনে নিজের বয়স হিসেব করলো একবার। তিন হাজার চুয়ান্ন থেকে বাষট্টি সাল। কতো হলো? সাত নাকি আট পেরুলো? মনে মনে ধরে নিল এখন তার বয়স আট। তারমানে এখন তার একটা গোপন কুঠুরী থাকতে পারে। যেমনটা ছিল তার দাদার। দাদার কথা মনে পড়তেই আবার চিন্তা ঘিরে ধরলো অন্তুকে। দাদা মারা গেছেন পাঁচ দিন হলো। কিন্তু অন্তু দাদাকে কখনই ভুলতে পারবে না। দাদা তাকে বিশাল এক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একটা বাক্স পাহারা দেয়ার দায়িত্ব। ওটা আছে ঘরের পেছনের একটা কড়ই গাছের গোড়ায়। মাটির তলায়।

ওটাই এখন অন্তুর গোপন কুঠুরী। তাই অন্য সবার মতো ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো গোপন কুঠুরীর সব ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে আসার তাগিদ অনুভব করলো অন্তু। চুতর্থবারের মতো বিছানা ছাড়লো। ওদিকে জালে আটকে থাকা নীল পোকাটাকে দেখতে পেয়েছে একটা বড় মাকড়সা। সেদিকে খেয়াল নেই অন্তুর। অন্তু এটাও বুঝতে পারলো না যে তার ঘনঘন ঘরের বাইরে বেরুনোর ব্যাপারটা খেয়াল করছে পাশের বাড়ির রগচটা খুড়ম বুড়ো।

২.

গাছের গোড়ায় একট ভারী দরজার মতো ডালা। ওটার উপর পড়ে থাকা মরা ডালপালা সরাতে বেশিক্ষণ লাগেনি। হাতল ধরে টান দিতেই ভেতরে আলো জ্বলে উঠলো। একফুট গভীরেই একটা ছোট্ট বাক্স রাখা। কাঁপা কাঁপা হাতে ওটা তুলে নিল অন্তু। এখনও সে বাক্সটা খুলে দেখেনি। দাদা অবশ্য খুলতে নিষেধও করেননি। তবে অন্তু ওটা খুলছে না ভয়ে। যদি ভেতর থেকে এলিয়েন বেরিয়ে আসে! তা না হলে দাদা বাক্সটাকে পাহারা দিতে বললেন কেন?

‘খোকা, ভালয় ভালয় বাক্সটা এদিকে দাও। নইলে একদম ভ্যানিশ করে দেব!’

খুড়ম বুড়োর ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলা শুনে এমনিতেই ভয়ে জমে গেছে অন্তু। তার উপর আবার হাতে একটা সাব এটমিক বন্দুক। মিথ্যে বলেনি শয়তানটা। মনে মনে রাগ ঝাড়লো অন্তু। এ বন্দুকে কোনো শব্দও হয় না। যাকে গুলি করা হবে সে কিছু বোঝার আগেই ছোট ছোট অণু পরমাণু হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাবে। সবাই ভাববে অন্তু বুঝি হারিয়ে গেছে।

‘হে হে হে, ঠিক ধরেছ খোকা। ভ্যানিশ হয়ে যাবে একদম। বাক্সটা দাও জলদি!’

অন্তু বাক্সটা বাড়িয়ে ধরতেই খপ করে তা কেড়ে নিল বুড়ো। সঙ্গে সঙ্গে খুশিতে আÍহারা। অন্তু মনে মনে খুব চাচ্ছে, বাক্স থেকে যেন প্রক্সিট গ্রহের একটা শুঁড়ওয়ালা এলিয়েন বের হয়ে আসে। খপ করে গিলে ফেলবে বুড়োকে। জলদি বাক্সটা খুললো খুড়ম বুড়ো। তার পানসে চেহারা দেখে বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো অন্তুর। বুড়ো অন্তুর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। সাব এটমিক বন্দুকটাও হাত থেকে পড়ে গেল। অন্তু উঁকি দিয়ে বাক্সের ভেতরটা দেখার চেষ্টা করলো। এটুকু বুঝতে পারলো ভেতরে লাল একটা কিছু আছে। পরমুহূর্তে ওটা মুঠোয় চেপে ধরে অন্তুর মৃত দাদা রুলিনকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে উঠলো বুড়ো।

‘রুলিন! তুই এটা কি করলি! কোথায় সোনা! কোথায় হিরে! এ যে দেখি একটা ফুল! একটা হতচ্ছাড়া ফুল! একটা শয়তান অসভ্য লাল ফুল….!’ বলতে বলতে ফুলটাকে চেপে ভর্তা করে ফেলল বুড়ো। এরপর ঝাল মেটাতে ওটা মাটিতে ফেলে আচ্ছামতো পিষল। দুয়েকবার লাফও দিলো। কোন ফাঁকে অন্তু তার বাসায় দৌড়ে চলে গেছে তা টেরও পেল না বুড়ো খুড়ম।

৩.

স্বপ্নটা বেশ পরিষ্কার। দাদার গায়ে ধপধপে নীল ফাইবার স্যুট। নভোচারীদের মতো দেখাচ্ছে। এইমাত্র যেন তিনি রেক্সিনো গ্যালাক্সি থেকে উড়ে এসেছেন। হাসছেন শিশুদের মতো। অন্তুর তার সামনে দাঁড়িয়ে। কতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে তা বুঝতে পারলো না অন্তু। তবে এটুকু বুঝতে পারলো দাদা কী যেন বলার চেষ্টা করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু। অন্তু স্বপ্নের মধ্যে কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করলো। দাদা ফিসফিস করে খাপছাড়া কতোগুলো শব্দ বললেন, ‘ফুল.. লাল.. রং… ভরা নদীর ওপারে…পূর্ণিমার রাতে গর্ত ভরাট হবে.. তখন আসবে নীল পাখির দল। বইয়ের…।

এটুকুই শুনলো অন্তু। তার আগেই বাইরের শোরগোলে ঘুম ভেঙে গেল। হইচই প্রতিদিনই হয়। সরকারি খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি, ঝগড়া এমনকি খুনোখুনিও। কিন্তু আজকের হইচইটা একেবারে ভিন্ন। কেউ কেউ পাগলের মতো চিৎকার করছে, কেউবা বিলাপ করে কাঁদছে। অন্তু ঘাবড়ে গেল। আজকে কি খাবারের গাড়ি আসেনি? কিন্তু তাতেও তো এমন হওয়ার কথা নয়। ধীর পায়ে বিছানা ছাড়লো। সুইচ টিপতেই সিকিউরিটি লেজারগুলো অফ হয়ে গেল। তেল চিটচিটে কার্পেটে খালি পায়েই দরজার দিকে এগিয়ে গেল অন্তু। দাদার শেষ কথাগুলো এখনো কানে বাজছে তার। তবে খেয়াল এখন বাইরের শোরগোলের দিকেই। দরজা খুলতেই তার সামনে শুয়ে পড়লো এক মহিলা। দুহাতে পাগলের মতো নিজের চুল ছিঁড়ছে। গলা ফাটিয়ে চেঁচাচ্ছে, ‘একি হলো! এখন কি হবে! রং রং! রং’। অন্তু চমকে উঠলো। ভাইরাস আক্রমণ করেনি তো! তা না হলে সামনের বাড়ির রুকুম আঙ্কেল কেন একটা নীল বল হাতে নিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন? অন্তু চেঁচিয়ে উঠলো, ‘কী দেখছ রুকুম আঙ্কেল?’ রুকুম আঙ্কেল একবার মাথা উঁচিয়ে অন্তুর দিকে তাকালেন। এরপর আবার বলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। একবার কাছে নিয়ে দেখছেন আবার দূরে সরিয়ে দেখছেন। খুড়ম বুড়োটা হা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চেহারাও ভয়ে শুকিয়ে গেছে। কী যে হলো সবার।

‘তোমার কী হয়েছে জিলিতা আন্টি? তুমি ছবিটার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?’

‘অন্তুরে… ’ হু হু করে কেঁদে উঠলো জিলিতা নামের মেয়েটা। তার হাতে একটা ফ্রেমে বাঁধাই ছবি। অন্তু প্রশ্ন করার আগেই পাড়ার কাখিলদা হাতে লম্বা একটা পতাকার মতো কাপড় নিয়ে দৌড়ে এগিয়ে এলো। ত্বারস্বরে চিৎকার করছেন, ‘রং কই! রং কই! লাল কোথায়! নীল কোথায়! সবুজ কোথায়!’ মুহূর্তে ব্যাপারটা ধরতে পারলো অন্তু। আশপাশে কোনো রং দেখতে পাচ্ছে না সে! সব কিছু সাদাকালো! কাল রাতেও ঘুমানোর আগে লাল ফাইবারের লাল গেঞ্জি পরেছিল সে। এখন তাকিয়ে দেখলো গেঞ্জিটা ধূসর! আশপাশে ঝট করে চোখ বুলিয়ে নিল, গাছের পাতা সাদা, ঘাস কালচে। রং নেই কোথাও এক ফোঁটা!

৪.

পুরো স্বপ্নটা কাগজে লিখতে আধঘণ্টা কাটিয়ে দিল অন্তু। দাদাজানের কথাগুলোর ভেতরে একটা সূত্র লুকিয়ে আছে। ঐ বাক্সের ফুলটা সাধারণ ফুল ছিল না। ইশ্, খুড়ম বুড়োটাই যতো নষ্টের গোড়া। এখন ধাঁধার সমাধানটা পেলেই হয়।

লেখা শেষে অন্তু কাগজটার দিকে তাকালো। নিজের লেখা নিজের কাছেই দুর্বোধ্য লাগছে।

‘লাল রংয়ের ফুল। নদীর ওপারে আছে। পূর্ণিমার রাতে নদীটা ভরাট হবে। একটা গর্ত আছে। ওটার মধ্যে নীল পাখি আসবে। এরপর একটা বই।’

নদীটা চিনতে পেরেছে অন্তু। দাদা নিশ্চয়ই কানসি নদীর কথা বলেছেন। তবে ওটার পানি একদম শুকিয়ে এসেছে। একশ বছর আগেও ওটা ছিল একদম কানায় কানায় ভরা। অন্তু খাটের তলা থেকে দ্রুত কম্পিউটার বের করলো। ধূলো পড়ে মলিন হয়ে গেছে। দ্রুত ঝাঁকি দিতেই সরব হয়ে উঠলো অ্যালেক্স। গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘স্বাগতম অন্তু। বল আজ কী শিখতে চাও। আজ গণিতের তৃতীয় চ্যাপ্টারের…।’ ‘অ্যালেক্স! পূর্ণিমা কবে? জলদি বল’ স্ক্রিনের মধ্যে অ্যালেক্সের চোখ কুঁচকে গেল। গত এক হাজার বছরে এমন অদ্ভুত প্রশ্ন তাকে কেউ করেনি। সবাই কেবল দূরের গ্যালাক্সির খবর জানতে চায়। ঘরের কাছের চাঁদ নিয়ে আজকাল কেউ ভাবে না।

‘অ্যাঁ, আজই তো মনে হয়, হ্যাঁ হ্যাঁ, আজকেই পূর্ণিমা।’ অ্যালেক্সকে পাল্টা প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে ঝট করে অফ করে দিল কম্পিউটার। হাতে একদমই সময় নেই।

৫.

নদীটা বেশ সরু। এঁকেবেঁকে চলে গেছে আটলান্টিকে। চারপাশে ঘন জঙ্গল। ওপারে একদম খাড়া পাহাড়। খানিকটা ঢালু জায়গা আছে অবশ্য। ঢালের মধ্যে ক্যাকটাসের ঝোপ খালি চোখেই দেখতে পাচ্ছে অন্তু। রাত গভীর হলেও আছে ঝকঝকে চাঁদের আলো। ভাবার সময় নেই। অন্তু ফ্লাইং স্কেটে চড়ে ওপারে চলে গেল। নদী না হয় পেরুনো গেল, কিন্তু ফুল খুঁজবে কোথায়? সব গাছই এক রকম লাগছে। ধূসর। যেন গাছগুলো সব মরে গেছে।

স্কেটে ভর দিয়ে খানিকটা নিচে নেমে এলো অন্তু। নদীর পানি এখনো তিন ফুটের মতো নিচে। আকাশের দিকে তাকালো অন্তু। চাঁদের টানে নদীর পানি কিছুটা উপরে উঠে আসার কথা। সামনে একটা বড় ঝোপ। ওটার পাশে একটা গর্তের মতো আছে। কিন্তু অতো উপরে পানি ওঠার প্রশ্নই আসে না। অন্তু কিছুটা এগিয়ে স্কেট থেকে নামলো। খালি পায়েই এগিয়ে গেল ঢাল বেয়ে। দূরে আরেকটা ঝোপ দেখতে পেয়েছে। ওটার নদী থেকে আধ ফিটের মতো উপরে। কিন্তু ওটার পাশে কোনো গর্ত দেখছে না।

ঝোপের ভেতর কী যেন নড়ছে। থমকে দাঁড়ালো অন্তু।

সরসর করে বেড়িয়ে এলো একটা ইউপ্লিড সাপ। একটা মাথা অন্তুর দিকে ঘোরানো, আরেকটা নদীর দিকে। অন্তুর ধীরে ধীরে পকেট থেকে মিনি ওয়েভ গান বের করলো। সুইচ টিপে বুঝতে পারলো ব্যাটারির চার্জ শেষ। এবার সত্যি সত্যি ভয় পেল অন্তু। মৃত্যু একদম হাতের নাগালে। ইউপ্লিড সাপের এক ছোবলে বড়জোর কয়েক সেকেন্ড!

অন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের আলোর তেজ যেন আরো বেড়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপারটা টের পেল অন্তু। ইউপ্লিড সাপের কথা বইতে পড়েছে। এই সাপ নীল আর লাল ছাড়া কিছু দেখে না। ভাগ্যিস সে বই পড়ে! শহরের আর কেউ বই পড়ে না। সবাই এখন মাস্টার কম্পিউটারের কাছে গিয়ে জ্ঞান নিয়ে আসে। অন্তুর ওটা ভাল লাগে না। বই পড়ে সে অনেক মজা পায়। মাস্টার কম্পিউটার অনেক কিছু জানে না। এক হাজার বছর আগে মানুষ যে কেমন মজার ছিল সেটা বই না পড়লে জানতোই না অন্তু।

তারমানে সাপটা এখন তাকে দেখছে না। মুহূর্তে ভয় চলে গেল। দুপা এগিয়ে আসতেই সাপটা সরে গেল। সুরুৎ করে একটা ছোট্ট গর্তে ঢুকে পড়লো। অন্তুর চোখ খুশিতে চকচক করে উঠলো। এমন সময় পায়ে ঠাণ্ডা পানির ছোঁয়া পেল। তারমানে কাজ হচ্ছে! আরেকটু পরেই ছোট্ট গর্তটার ভেতর পানি ঢুকবে।

সামান্য পানি ঢুকতেই একটা কিছু ঘটে গেল ভেতরে। ঘড়ঘড় শব্দ। গর্তের চারপাশ থেকে মাটি খসে পড়তে লাগলো। হুট করে একটা ফাটল তৈরি হলো। অন্তু সরে দাঁড়ালো। ফাটলটা চওড়া হতেই ভেতর থেকে হুশহুশ করে বেরিয়ে এলো একরাশ পানি। সঙ্গে দুটো ইউপ্লিডও বেরিয়েছে। ওদের দিকে খেয়াল নেই অন্তুর। ফাটলটা আরেকটু বড় হতেই খানিকটা এগিয়ে এলো। উঁকি দিল ভেতরে। অনেক দূর পর্যন্ত গেছে গর্তটা। শেষ প্রান্তে একটা আলো দেখতে পাচ্ছে। চমকে উঠলো অন্তু। নীল আলো! ক্রমে আরো উজ্জ্বল হচ্ছে। পাখি! নীল পাখি! আলো ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে আসছে ঝাঁক ঝাঁক নীল পাখি। কাছাকাছি আসতেই মাথা সরিয়ে নিল অন্তু। দুয়েকটা ফাঁক পেয়ে উড়ে গেলেও বাকিরা ভেতরে কিচিরমিচির করেই যাচ্ছে। অন্তু আবার উঁকি দিল। পাখিগুলোর পায়ে সুতো দিয়ে একটা বাক্স বাঁধা। ওটা নিচে রেখেই আবার দল বেঁধে উড়ে চলে গেল সবকটা পাখি। কী আজব! অন্তু মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে হাত বাড়িয়ে বাক্সটা নিল। খুলতেই দ্বিতীয়বার অবাক হলো। কোনো ফুল নেই, বাক্সের ভেতর একটা বই!

৬.

গোটা শহর জেগে উঠেছে যেন। জঙ্গলের ওপাশে নদীর কিনারটা জ্বলছে। লাল নীল বেগুণী। কতো যে রং। রংয়ের আগুন ক্রমশ এগিয়ে আসছে শহরের দিকে। গোটা গ্রামবাসীর মাঝে আনন্দের হই চই পড়ে গেছে। একটু পর অন্তুকে দেখলো সবাই। তার হাতের বইটা থেকেই বেরুচ্ছে রঙিন আলো।

ধীরে ধীরে ভোরের আলো ফুটছে। অন্তুর পেছনের জঙ্গলটাও ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠলো। ধেই ধেই করে নাচ জুড়ে দিয়েছে বুড়ো খুড়ম। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে আর কখনও গোপন বাক্সে হাত দেবে না। অন্তু বইটা নিয়ে গেল তার ঘরে। সবাই বুঝে গেছে বইটার কারণেই গ্রামে রং ফিরে এয়েছে। ওটার জন্য তাই এখন আর গোপন কুঠুরীর দরকার নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *