লালুর খাবার

কবির কাঞ্চন

অমল বাবু স্ত্রী-পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। এমুহূর্তে তাদের লক্ষ্য একটাই-রাত আটটার মধ্যে নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনে পৌঁছা। গত কয়েকদিন ধরে স্ত্রী-পুত্র তাকে কাচ্চি ডাইনে যাবার জন্য রীতিমতো পাগল করে ছাড়ছিল। আজ অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে দিলীপের মুখের দিকে তাকাতেই সে বাবার কাছে বায়না ধরে,
: আব্বু, আমরা কাচ্চি ডাইনে যেতে চাই। এই মাস তো প্রায় শেষ হতে চলেছে। আমাদেরকে কাচ্চি ডাইনে খাওয়াতে নেবে না?
অমল বাবু দিলীপকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
: অবশ্যই নেবো, বাবা। মন খারাপ করো না। যাও, তোমার আম্মুকে রেডি হতে বলো। আমরা এখনই কাচ্চি ডাইনে যাব।

বাবার মুখ থেকে যাবার অনুমতি পেয়ে দিলীপ আনন্দে বাবার গালে চুমু খেয়ে একদৌড়ে মায়ের কাছে ফিরে আসে। পূজা রাণী ছেলেকে এমন আনন্দিত হতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,
: কীরে বাবা, তোর আবার কী হয়েছে? তোকে যে খুশি খুশি লাগছে।
: আম্মু, তাড়াতাড়ি রেডি হও। আব্বু কাচ্চি ডাইনে যেতে রাজি হয়েছেন। বলেছেন এখনই যাবেন।
: ওহ্! এই কথা। ঠিক আছে। চল, আমরা রেডি হয়ে নিই।

রাত আটটা। নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে তাদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো কিছুক্ষণ। ভিতরে প্রচুর ভীড়। প্রায় পনেরো মিনিট পর তাদের বসার ব্যবস্থা হলো।
একটুপর একজন ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে ভিতরের দিকে চলে গেল।

বাসমতি রাইসের মুরগির কাচ্চি প্যাকেজ অর্ডার করায় দিলীপকে খুব খুশি লাগছে। অমল বাবু স্ত্রীর দিকে একটু ঝুঁকে গিয়ে আস্তে করে বলতে লাগলেন,
: পূজা, একটা বিষয় খেয়াল করেছো- বাসমতি রাইসের মুরগির কাচ্চি অর্ডার করায় আমাদের দিলীপ খুব খুশি হয়েছে।
পূজা রাণী মৃদু হেসে বললেন,
: আগে থেকেই ছেলেটার মুরগির কাচ্চির প্রতি খুব আগ্রহ। অন্যকিছু খেতে চায় না।
: এটা কোনো ভালো অভ্যাস নয়, বুঝলে?
: হ্যাঁ, তুমি একদম ঠিক বলেছো। অনেক করে বুঝিয়ে বলি, সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে হলে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সুষম খাবার খেতে হবে। কিন্তু ও তা শুনতেই চায় না।
: এখন থেকে ধীরে ধীরে ওর অভ্যাস পাল্টাতে আমাদের কাজ করতে হবে। জানোই তো, মানুষ অভ্যাসের দাস।
: হ্যাঁ।
দিলীপ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
: মা, আমি সব শুনেছি।
: কী শুনেছো?
: এতক্ষণ ধরে তোমরা আমার পছন্দের খাবার নিয়ে সমালোচনা করছিলে।
এই কথা বলে দিলীপ মন খারাপ করে অন্যদিকে মুখ করে বসে রইল।
পাশ থেকে অমল বাবু বললেন,
: দূর ব্যাটা, সমালোচনা করব কেন? আমার তোমার ভালো লাগার কথা বলছিলাম। মুরগির কাচ্চি তোমার খুব পছন্দের এ নিয়ে আমরা কথা বলছিলাম।
: ওহ্! আচ্ছা। সত্যি বাবা, নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনের মুরগির কাচ্চি খুব মজা হয়।
: ঠিক বলেছো, বাবা। এজন্যই তো সময় পেলে আমরা এখানে চলে আসি।

এরইমধ্যে ওয়েটাররা খাবার নিয়ে এসে সুন্দরভাবে টেবিলে সাজিয়ে রাখলো।
দিলীপ বাবামায়ের সাথে মজা করে খেলো।
খাওয়া শেষে দিলীপ বাবার কানে কানে বলতে লাগল,
: আব্বু, অবশিষ্ট খাবারগুলোর কী হবে?
: কেন? ওরা নিয়ে যাবে।
: তারপর কী করবে?
: ডাস্টবিনে ফেলে দেবে।
: তাহলে শোন, আমি এই উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো বাসায় নিয়ে যেতে চাই। তুমি ওদের বলো না এগুলো প্যাকেটে ভরে আমাদের দিয়ে দিতে।

অমল বাবু ছেলের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন,
: একি কথা, বাবা! এটা কেন আমরা আমাদের সাথে করে নিয়ে যাব? তোমার কি আরও খেতে ইচ্ছে করছে? করলে বলো, আমি তোমার বাসায় খাবার জন্য আরও কিছু পার্সেল নিয়ে নেবো।
: না, বাবা। আমার জন্য পার্সেল লাগবে না। আমি এই উচ্ছিষ্ট খাবারগুলোই নিতে চাই।
: এগুলো দিয়ে তুমি কী করবে?
: আমি আমার লালুর জন্য নিয়ে যাব। আমরা এখানে মজা করে খেয়েছি। কিন্তু লালু বাসায় একা পড়ে আছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওর খুব খিদে পেয়েছে। আমি নিজ হাতে ওকে এগুলো খাওয়াব। তাছাড়া এগুলোর সবই তো আমাদের টাকা দিয়ে কেনা। আমরা চাইলে ওরা তা দিতে বাধ্য থাকবে।
: লালুর খাবার বাসায় আছে। সেগুলো খাইয়ে দিও।
: না বাবা, আমাদেরও তো বাসায় খাবার আছে। তাহলে আমরা কেন কিছুসময় পর পর বাইরে আসি? ভালো ভালো খাবার খাই? তাছাড়া এইগুলো তো ওরা এমনিতেই ফেলে দেবে। নিয়ে যেতে সমস্যা কী?
: লোকে কী বলবে?
: কে কী বলবে সেটা কেন ভাবব, বাবা? তোমরাই তো আমাকে বলো, খাবার অপচয় করা ভালো নয়। তাহলে এখন এমন করছো কেন?
: এগুলো তো উচ্ছিষ্ট খাবার।
দিলীপ জেদ করে বলল,
: হ্যাঁ, এগুলো আমাদের জন্য উচ্ছিষ্ট খাবার। কিন্তু আমার লালুর জন্য ভালো খাবার। লালু হাড় খেতে খুব পছন্দ করে।
আমি এগুলো বাসায় নিয়েই যাব।

অমল বাবু ও পূজা রাণী বিস্মিত চোখে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

ওয়েটার এসে টেবিল পরিষ্কার করতে লাগলে অমল বাবু বললেন,
: এই শুনুন, আমাকে একটা পলিথিনের ব্যাগে এসব দিয়ে দিন। আমি এইগুলো নিয়ে যেতে চাই!
: জি, স্যার। আমি ব্যবস্থা করছি।
এই কথা বলে ওয়েটার ছেলেটা কিচেন রুমের দিকে চলে গেল।

বিল পেমেন্ট করে উঠতেই ওয়েটার ছেলেটা এসে কাচ্চি ডাইনের সুন্দর একটি প্যাকেটে খাবারগুলো ভরে দিয়ে বলল,
: স্যার, এখানে অবশিষ্ট সব আছে। সাথে কিছু মাংস বাড়তি দেয়া হয়েছে।
অমল বাবু অবাক হয়ে বললেন,
: বাড়তি কেন? আমরা তো এগুলো বাসার কুকুরের জন্য নিচ্ছি।
: জি, স্যার। আপনার সন্তানের আবেগময় কিছু কথা আমি শুনেছি। সেটা আমাদের ম্যানেজার স্যারকে জানিয়েছি। আমাদের স্যারেরও একটি পোষা কুকুর আছে। কিন্তু কখনও এই উচ্ছিষ্ট খাবার বাসায় নিতেন না। একটু আগে আমার কাছ থেকে আপনার ছেলের লালুর প্রতি এমন দায়িত্বের কথা শুনে স্যার খুব খুশি হয়েছেন।
এরইমধ্যে ম্যানেজার সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। সবার সাথে কুশল বিনিময় করে দিলীপের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
: লক্ষ্মী ছেলে! তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ। তোমার মতো আমারও একটি পোষা কুকুর আছে। ভালোবেসে আমি ওর নাম দিয়েছি বল্টু। বাসায় গেলে বল্টু সারাক্ষণ আমার সাথে সাথে থাকে।
পাশ থেকে অমল বাবু বললেন,
: আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ।
: আবার আসবেন, স্যার।
এই বলে ম্যানেজার রিসিপশন কক্ষের দিকে চলে গেলেন।

বাসায় এসে পৌঁছাতেই লালু দ্রুত ছুটে এসে দিলীপের কোলে উঠে বসে। এরপর প্যাকেটের খাবারগুলো একে একে লালুকে সে খাইয়ে দেয়। ক্ষুধার্ত লালু খাবারগুলো বেশ মজা করে খেতে লাগল। দূর থেকে অমল বাবু ও পূজা রাণী এসব দেখে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ।

কবির কাঞ্চন
কবি ও গল্পকার
সহকারী প্রধান শিক্ষক
জেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ নোয়াখালী

লালুর খাবার
কবির কাঞ্চন

অমল বাবু স্ত্রী-পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। এমুহূর্তে তাদের লক্ষ্য একটাই-রাত আটটার মধ্যে নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনে পৌঁছা। গত কয়েকদিন ধরে স্ত্রী-পুত্র তাকে কাচ্চি ডাইনে যাবার জন্য রীতিমতো পাগল করে ছাড়ছিল। আজ অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে দিলীপের মুখের দিকে তাকাতেই সে বাবার কাছে বায়না ধরে,
: আব্বু, আমরা কাচ্চি ডাইনে যেতে চাই। এই মাস তো প্রায় শেষ হতে চলেছে। আমাদেরকে কাচ্চি ডাইনে খাওয়াতে নেবে না?
অমল বাবু দিলীপকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
: অবশ্যই নেবো, বাবা। মন খারাপ করো না। যাও, তোমার আম্মুকে রেডি হতে বলো। আমরা এখনই কাচ্চি ডাইনে যাব।

বাবার মুখ থেকে যাবার অনুমতি পেয়ে দিলীপ আনন্দে বাবার গালে চুমু খেয়ে একদৌড়ে মায়ের কাছে ফিরে আসে। পূজা রাণী ছেলেকে এমন আনন্দিত হতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,
: কীরে বাবা, তোর আবার কী হয়েছে? তোকে যে খুশি খুশি লাগছে।
: আম্মু, তাড়াতাড়ি রেডি হও। আব্বু কাচ্চি ডাইনে যেতে রাজি হয়েছেন। বলেছেন এখনই যাবেন।
: ওহ্! এই কথা। ঠিক আছে। চল, আমরা রেডি হয়ে নিই।

রাত আটটা। নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে তাদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো কিছুক্ষণ। ভিতরে প্রচুর ভীড়। প্রায় পনেরো মিনিট পর তাদের বসার ব্যবস্থা হলো।
একটুপর একজন ওয়েটার এসে অর্ডার নিয়ে ভিতরের দিকে চলে গেল।

বাসমতি রাইসের মুরগির কাচ্চি প্যাকেজ অর্ডার করায় দিলীপকে খুব খুশি লাগছে। অমল বাবু স্ত্রীর দিকে একটু ঝুঁকে গিয়ে আস্তে করে বলতে লাগলেন,
: পূজা, একটা বিষয় খেয়াল করেছো- বাসমতি রাইসের মুরগির কাচ্চি অর্ডার করায় আমাদের দিলীপ খুব খুশি হয়েছে।
পূজা রাণী মৃদু হেসে বললেন,
: আগে থেকেই ছেলেটার মুরগির কাচ্চির প্রতি খুব আগ্রহ। অন্যকিছু খেতে চায় না।
: এটা কোনো ভালো অভ্যাস নয়, বুঝলে?
: হ্যাঁ, তুমি একদম ঠিক বলেছো। অনেক করে বুঝিয়ে বলি, সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে হলে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সুষম খাবার খেতে হবে। কিন্তু ও তা শুনতেই চায় না।
: এখন থেকে ধীরে ধীরে ওর অভ্যাস পাল্টাতে আমাদের কাজ করতে হবে। জানোই তো, মানুষ অভ্যাসের দাস।
: হ্যাঁ।
দিলীপ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
: মা, আমি সব শুনেছি।
: কী শুনেছো?
: এতক্ষণ ধরে তোমরা আমার পছন্দের খাবার নিয়ে সমালোচনা করছিলে।
এই কথা বলে দিলীপ মন খারাপ করে অন্যদিকে মুখ করে বসে রইল।
পাশ থেকে অমল বাবু বললেন,
: দূর ব্যাটা, সমালোচনা করব কেন? আমার তোমার ভালো লাগার কথা বলছিলাম। মুরগির কাচ্চি তোমার খুব পছন্দের এ নিয়ে আমরা কথা বলছিলাম।
: ওহ্! আচ্ছা। সত্যি বাবা, নাসিরাবাদ কাচ্চি ডাইনের মুরগির কাচ্চি খুব মজা হয়।
: ঠিক বলেছো, বাবা। এজন্যই তো সময় পেলে আমরা এখানে চলে আসি।

এরইমধ্যে ওয়েটাররা খাবার নিয়ে এসে সুন্দরভাবে টেবিলে সাজিয়ে রাখলো।
দিলীপ বাবামায়ের সাথে মজা করে খেলো।
খাওয়া শেষে দিলীপ বাবার কানে কানে বলতে লাগল,
: আব্বু, অবশিষ্ট খাবারগুলোর কী হবে?
: কেন? ওরা নিয়ে যাবে।
: তারপর কী করবে?
: ডাস্টবিনে ফেলে দেবে।
: তাহলে শোন, আমি এই উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো বাসায় নিয়ে যেতে চাই। তুমি ওদের বলো না এগুলো প্যাকেটে ভরে আমাদের দিয়ে দিতে।

অমল বাবু ছেলের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন,
: একি কথা, বাবা! এটা কেন আমরা আমাদের সাথে করে নিয়ে যাব? তোমার কি আরও খেতে ইচ্ছে করছে? করলে বলো, আমি তোমার বাসায় খাবার জন্য আরও কিছু পার্সেল নিয়ে নেবো।
: না, বাবা। আমার জন্য পার্সেল লাগবে না। আমি এই উচ্ছিষ্ট খাবারগুলোই নিতে চাই।
: এগুলো দিয়ে তুমি কী করবে?
: আমি আমার লালুর জন্য নিয়ে যাব। আমরা এখানে মজা করে খেয়েছি। কিন্তু লালু বাসায় একা পড়ে আছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওর খুব খিদে পেয়েছে। আমি নিজ হাতে ওকে এগুলো খাওয়াব। তাছাড়া এগুলোর সবই তো আমাদের টাকা দিয়ে কেনা। আমরা চাইলে ওরা তা দিতে বাধ্য থাকবে।
: লালুর খাবার বাসায় আছে। সেগুলো খাইয়ে দিও।
: না বাবা, আমাদেরও তো বাসায় খাবার আছে। তাহলে আমরা কেন কিছুসময় পর পর বাইরে আসি? ভালো ভালো খাবার খাই? তাছাড়া এইগুলো তো ওরা এমনিতেই ফেলে দেবে। নিয়ে যেতে সমস্যা কী?
: লোকে কী বলবে?
: কে কী বলবে সেটা কেন ভাবব, বাবা? তোমরাই তো আমাকে বলো, খাবার অপচয় করা ভালো নয়। তাহলে এখন এমন করছো কেন?
: এগুলো তো উচ্ছিষ্ট খাবার।
দিলীপ জেদ করে বলল,
: হ্যাঁ, এগুলো আমাদের জন্য উচ্ছিষ্ট খাবার। কিন্তু আমার লালুর জন্য ভালো খাবার। লালু হাড় খেতে খুব পছন্দ করে।
আমি এগুলো বাসায় নিয়েই যাব।

অমল বাবু ও পূজা রাণী বিস্মিত চোখে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

ওয়েটার এসে টেবিল পরিষ্কার করতে লাগলে অমল বাবু বললেন,
: এই শুনুন, আমাকে একটা পলিথিনের ব্যাগে এসব দিয়ে দিন। আমি এইগুলো নিয়ে যেতে চাই!
: জি, স্যার। আমি ব্যবস্থা করছি।
এই কথা বলে ওয়েটার ছেলেটা কিচেন রুমের দিকে চলে গেল।

বিল পেমেন্ট করে উঠতেই ওয়েটার ছেলেটা এসে কাচ্চি ডাইনের সুন্দর একটি প্যাকেটে খাবারগুলো ভরে দিয়ে বলল,
: স্যার, এখানে অবশিষ্ট সব আছে। সাথে কিছু মাংস বাড়তি দেয়া হয়েছে।
অমল বাবু অবাক হয়ে বললেন,
: বাড়তি কেন? আমরা তো এগুলো বাসার কুকুরের জন্য নিচ্ছি।
: জি, স্যার। আপনার সন্তানের আবেগময় কিছু কথা আমি শুনেছি। সেটা আমাদের ম্যানেজার স্যারকে জানিয়েছি। আমাদের স্যারেরও একটি পোষা কুকুর আছে। কিন্তু কখনও এই উচ্ছিষ্ট খাবার বাসায় নিতেন না। একটু আগে আমার কাছ থেকে আপনার ছেলের লালুর প্রতি এমন দায়িত্বের কথা শুনে স্যার খুব খুশি হয়েছেন।
এরইমধ্যে ম্যানেজার সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। সবার সাথে কুশল বিনিময় করে দিলীপের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
: লক্ষ্মী ছেলে! তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ। তোমার মতো আমারও একটি পোষা কুকুর আছে। ভালোবেসে আমি ওর নাম দিয়েছি বল্টু। বাসায় গেলে বল্টু সারাক্ষণ আমার সাথে সাথে থাকে।
পাশ থেকে অমল বাবু বললেন,
: আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ।
: আবার আসবেন, স্যার।
এই বলে ম্যানেজার রিসিপশন কক্ষের দিকে চলে গেলেন।

বাসায় এসে পৌঁছাতেই লালু দ্রুত ছুটে এসে দিলীপের কোলে উঠে বসে। এরপর প্যাকেটের খাবারগুলো একে একে লালুকে সে খাইয়ে দেয়। ক্ষুধার্ত লালু খাবারগুলো বেশ মজা করে খেতে লাগল। দূর থেকে অমল বাবু ও পূজা রাণী এসব দেখে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ।

কবির কাঞ্চন
কবি ও গল্পকার
সহকারী প্রধান শিক্ষক
জেলা প্রশাসন স্কুল এন্ড কলেজ নোয়াখালী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *