রকিবুল ইসলামের কয়েকটি কবিতা

সাথীহীন!

কোন অভিযোগ করিনি কভু,

রাখিনি কোন অনুযোগ তব তরে।

বেসেছিনু শুধুই ভালো,

পাইনি,চাইনি তার প্রতিদান।

শত অভিমানেরা নেই তবু,

প্রশ্নরা সকলি আজি গিয়েছে বিফলে।

নিভেছে প্রদীপের আলো,

চাওয়া-পাওয়ারা নেই এখন।

দু:খের ছোঁয়া পেয়েছি শুধু,

ছুটিনি যদিও নব জীবনের খোঁজে।

স্বপ্নরা ছিল অগোছালো,

তথাপি চলেছি পথ ভয়-ডরহীন।

দু:খ আমার প্রিয় বন্ধু,

সুখ যে আসেনি আদৌ মোর দ্বারে।

পাইনি খোঁজ আজো,

জীবনের নিয়মে চলিছে জীবন।

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!!

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!

থেমে যাবে সব কোলাহল।

বইবে না স্রোতস্বিনী তটিনী,

উন্মুক্ত হবে স্মৃতির কপাট।

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!

থমকাবে জীবনের সব আয়োজন।

ডাকবেন প্রভু ওপারে যেতে,

চলে যাব, মানবোনা পিছুটান।

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!

নিভে যাবে জীবন প্রদীপ।

যম রাত্রি আসবে ভূমে,

আমায় নিতে মরণ ভেলায়।

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!

পর হবে বন্ধু স্বজন।

থাকবেনা কেউ আত্মার কাছে,

ছিল যারা হয়ে আত্মজ।

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!

পড়বে না মোর পদচিহ্ন।

গাইবে না কেউ গান,

পঠিবে মোর ধুলোপড়া অভিধান।

মহাকালের কোন এক ক্ষণে!

অবশেষে কাটলো সব ঘোর।

ভুল করেছি,হয়েছে পাপ,

নরক যন্ত্রণায় যাপিবো জীবন।

ভুলে যে জীবনের শুরু,

ভুগিব জরা তাই একলা ভবে।

স্মৃতিরা দিক হারালো,

ছুটেছিনু তার তরে অন্তহীন।

আশারা আজি হয়েছে ক্ষয়িঞ্চু,

সুখেরা ভুলেছে ঠিকানা,ফিরেনি নীড়ে।

হয়েছিনু আমি পথভুলো,

সতত রইব হয়ে “সাথীহীন!”

যদিও তুমি মহারাণী!

যদিও তুমি মহারাণী!

আমি যে ভিখিরি আজ।

আত্মার দায় শোধিতে অপারগ তুমি,

তুচ্ছ অতিশয় আমি পারঙ্গম 

সেই দেনা মিটাতে।

যদিও তুমি মহারাণী!

আমি যে কাঙ্গাল আজ।

প্রার্থীর প্রার্থনা মঞ্জুরে ব্যর্থ তুমি,

দূর্বল অতিশয় আমি সফল,

সেই প্রত্যাশা পূরণে।

যদিও তুমি মহারাণী!

আমি যে অসহায় আজ।

বাসতে পারো না ভাল কারো,

নি:স্ব-রিক্ত আমি সক্ষম,

সেই আকাঙ্খা পূরণে।

যদিও তুমি মহারাণী!

আমি যে নি:সম্বল আজ।

পারো না কারো সহায়ক হতে,

যা কিছু সম্বল আমার,

বিলাতে পারি অকাতরে।

যদিও তুমি মহারাণী!

আমি যে ক্রীতদাস তোমার।

ভালোবাসা সব যাব বিলিয়ে,

তোমাতে দু’হাত ভরে,

আজ মহারাজ হয়ে!

মোর ক্ষতের প্রলেপ

আমিতো কাহারও অবহেলার স্বীকার মর্মন্তুদ এক আহত প্রাণী।
প্রগাঢ় অভিমান লইয়া কালের চোরা স্রোতে তলাইয়া যাইতে বসা এক অসহায় যাত্রী।
নিঃসীম আঁধার বেষ্টিত রজনীতে
আলোর পিদিম হস্তে অপেক্ষমাণ
সতত নিষ্পলক এক চাতক পাখি,
ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ নিশীথে
সবকিছু হারাইয়া ফেলা
সর্বহারা এক ফেরারী মাঝি।
স্বপ্ন’ই যাহার একমাত্র আলোকবর্তিকা,
আশা-আকঙ্খা-ই যাহার অবলম্বন,একমাত্র তরী।
মহারাণী যখন আসিলনা ফিরিয়া,
প্রতীক্ষা ব্যতীত কি আর করি!
শত-সহস্র বেদনা লুকাইয়া
অশ্রুসজল নেত্রে শুধু তাহারেই স্মরি!
তাহার স্মৃতি হাতড়াইয়া বেড়াইবার
অধিকারটুকুও যদি সে নেয় কাঁড়িয়া,
পাড়ি জমাইব,যাইব তবে এই ধরণী ছাড়িয়া ওপারে না ফিরিবার দেশে হারাইয়া।
কাঁদিওনা তখন,ঝরাইওনা তোমার
নেত্র হইতে মুক্তবিন্দুর মত বিসর্জিত অশ্রু।
অতীব সযতনে রাখিও তাহা
মোর ক্ষতে প্রলেপ দিবার লাগিয়া।

কোন এক উদাসী বিকেলে

কোন এক উদাসী বিকেলের

ভেজা ভেজা বাতাসে,
মন খারাপের সভাতে!
অকস্মাৎ তুমি উঁকি দিলে
আলোক বর্তিকা হয়ে।
আমি তখন মুঠো ভরে আলো কুড়িয়ে
নিলাম গায়ে মেখে।
দীপ্তিময় রশ্মির বিচ্ছুরণে
আলোকিত হলাম আমি
ক্ষণিকের তরে।
আমোদ ভরা বক্ষে তখন
নয়া হিল্লোল,নয়া কল্লোল
সহসা যায় খেলা করে।
অসুখসম সুখ যে আর
সয়না সবার ললাটে,
মেঘমালার দল ঘণীভূত হয়ে
গগণের বারি বর্ষিত করে
ধুয়ে দিল সব,
মনের তুলিতে আমার
মানসপটে আঁকা যত
সকল কাল্পনিক চিত্রকে সেই
-“কোন এক উদাসী বিকেলে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *