জন্মভূমির মাটি

ফারুক আহম্মেদ জীবন 

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা জহির রহমান আর মালতী বেগমের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের নাম জিতু। বছর সাতেক বয়স হবে তার। এবছর কেজি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে জিতু। মেয়েটা ছোট নাম মিতু। চার বছর মতো বয়স মিতুর। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে রাতে জিতু কিছু সময় ওর মায়ের কাছে বই পড়তে বসে। মিতুও আদর্শলিপি বই থেকে বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ অ, আ, ক, খ

অক্ষর গুলো পড়ে।এরপর পড়া শেষ হলে ওদের আব্বু জহির রহমান বাজার থেকে বাড়ি ফিরলে একসাথে সবাই মিলে রাতের খাবার খায়। আজ জিতুর পড়া শেষ হলেও তখনো ওদের আব্বু জহির রহমান বাড়ি ফেরেনি।মেয়ে মিতু বললো,

আম্মু, আব্বু কখন বাড়ি আসবে? মা, মালতী বেগম বললো. এইতো এখুনি আসবে মা মিতু। জিতু বললো মা, আব্বু না আসা পর্যন্ত তাহলে একটু টিভি দেখি? মালতী বেগম বললো..আচ্ছা ঠিক আছে বাবা..। তারপর মালতী বেগম সময় কাটানোর জন্য রিমোটে চাপ দিয়ে টিভি-টা ওয়ান করলো। টিভি চালু করতেই সংবাদদাতা শফিউর রহমান নিজের নাম বলে বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ গুলোর শিরোনাম পাঠ করে তারপর সব বিস্তারিত বলতে লাগলো। বললো, বর্তমান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের মধ্যে যেটা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ  ও আলোচনার বিষয়। তা- হলো, বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি এলাকার উপজাতি গোষ্ঠীরা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাঁরা আন্দোলনও দাবির নামে রীতি-

মতো দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছে। যেটাকে দেশদ্রোহীতা বলে। উপজাতিদের মধ্যে বিশেষ করে উঠতি বয়সী যুবকেরা অন্য অন্য দেশ থেকে ভয়াবহ দামী আগ্নেয়াস্ত্র এনে মজুত করছে পাহাড়ি এলাকায়। কক্সবাজার এলাকার চকরিয়া উপজেলার দুলাহাজারায় ঐ-সব অস্ত্র ধারীদের একটা দলের অস্ত্র উদ্ধার কালীন অভিযানে উপজাতি সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে শহীদ হয়েছেন আর্মির লেফটেন্যান্ট তানজিম সরোয়ার নির্জন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় তাদের দমন করতে সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গেলে নারী পুরুষ সকলে মিলে সেনাদের মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে এবং রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এখন তারা পাহাড়ি এলাকা থেকে সেনাশাসন তুলে নেওয়ার অন্যায় দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরো বলছে ওসব পাহাড়ি এলাকা থেকে সব বাঙালীদের সরিয়ে নিতে হবে। পাহাড়ি এলাকা শুধু আমাদের। আমাদের ভারতের সঙ্গে এক করে দিতে হবে। নইলে আমরা ক্ষান্ত হব না। এ পর্যন্ত সংবাদ শুনতে শুনতে জিতু মিতুর আব্বু জহির রহহান বাড়ি আসে। মিতু, জিতু বলে উঠে আম্মু ঐ দেখো আব্বু এসেছে। মালতী তখন জহির রহমানের দিকে তাকিয়ে বলে ও..তুমি এসেছ? জহির রহমান বলে হুম…এইতো এলাম। তখন মালতী বলে..পার্বত্য চট্টগ্রামের যে

অবস্থা শুনছি। এখন থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি এসো। বেশি রাত করতে যেওনা কেমন। তারপর মালতী বলে তোমরা সব বস আমি খাবার দিচ্ছি। 

খাবার বেড়ে দিতে দিতে বলে আচ্ছা, চট্টগ্রামের

পাহাড়ি এলাকার উপজাতি গোষ্ঠী আবার এসব

কি শুরু করেছে বলো তো? পরগাছাদের এতো স্পর্ধা কোথা থেকে এলো?  জহির বলতে যাবে,

তারমধ্যে জিতু বললো…আম্মু উপজাতি কারা?

মালতী বললো..উপজাতি হলো সাঁওতাল, চাকমা

, মারমা, মগ, মুরুং ত্রিপুরা-রা। বা- এরকম আরো নানান রকম নামের জাতি। যারা অনেক আগে পার্শ্ববর্তী অন্য অন্য দেশ যেমন, মায়ানমার,  ভারত, চীন এরকম বিভিন্ন দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গাদের মতো জীবন বাঁচাতে এদেশে এসেছিল। যারা এদেশের আদিবাসী নয়। সেসময় তারা এদেশেএকটু থাকার জন্য এদেশের মানুষের কাছে দয়া ভিক্ষা চেয়েছিল। তখন এদেশের মানুষ মায়া দেখায় দয়া করে তাদের থাকতে দিয়েছিল। জিতু বললো…আম্মু আর পরগাছা কি? মালতী বললো…পরগাছা হলো একপ্রকার পরজীবি উদ্ভিদ। যারা মেরুদণ্ড- হীন। অন্য জীবের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।অন্য বৃক্ষের উপর নিজের বিস্তার ঘটাতে চায়। পরজীবিকে ইংরাজিতে বলে mistletoe এসব বিষয় যখন তুমি উপরের ক্লাসে উঠবে তখন জানতে পারবে। তারপর…জহির রহমানকে উদ্দেশ্য করে মালতী বেগম বললো. তা হ্যাঁ গো, ওরা নাকি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাকে ভারতের মধ্যে করে দেওয়ার জন্য বিদ্রোহ শুরু করেছে? জহির রহমান বললো….আর সে কথা বলোনা..। ওরা 

যা শুরু করেছে তা-আর বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের

মতো হতে বেশি দেরি নেই। ফিলিস্তিন যেমন একসময় ইহুদি ইজ্রায়েলের কিছু সংখ্যক লোক-

কে দয়া করে জায়গা দিয়েছিল। পরে তারা আলাদা ইজ্রায়েল নামক রাষ্ট্র গঠন করেছে। আর এখন তারা তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য ফিলিস্তিনের উপরে দিনরাত আক্রমণ চালাচ্ছে। 

নারী, পুরুষ, শিশু, হত্যা করছে। তেমনি আমাদের

দেশের পাহাড়ি এলাকার উপজাতি গোষ্ঠী। ওরা সব গাদ্দার বুঝলে? একটা একটা মীর জাফর। কথায় বলে না….

নেমক হারামরা যার পাতে খায় 

তার সাথেই বিশ্বাস ঘাতকতা করে।

যে দেশ, দেশের মানুষ একসময় ওদের ঠাঁই দিয়েছিল। থাকার জন্য জায়গা দিয়েছিল। আজ সেই দেশ দেশের জনগণের সাথেই ওরা বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। জানো মালতী.. ওরা কতোটা  বর্বর? ওরা সেনাবাহিনীর উপর পর্যন্ত গায়ে হাত তুলছে। এখন আবার বলে কি! চট্টগ্রাম পাহাড়ি এলাকা নাকি ওদের। পাহাড়ি এলাকা ওদের দিয়ে দিতে হবে। ওরা ভারতের সাথে এক হয়ে যাবে। শুনে মালতী বেগম তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বললো হুম.. 

এদেশটাকে কি ওরা মগের মুল্লুক পেয়েছে নাকি?

যপ, যা ইচ্ছা তাই করবে?

এ যেনো মামুর বাড়ির ময়া। 

যে চাইলেই পেয়ে যাবে। 

বলি, ওরা জানে যে…১৯৭১সালে এদেশটা স্বাধীন করতে বাঙালীদের কতো রক্ত দিতে হয়েছিল? কতো জীবন দিতে হয়েছিল বাঙালী নওজোয়ান-

দের? বাঙালী কতো মা-বোনের ইজ্জত, সম্মান, সম্ভ্রম, হারাতে হয়েছিল?

ভালো ভাবে থাকলে থাক, আর তা- না হলে সব

জাগার গুটি জাগায় চলে যাক। মেয়ে মিতু বলে

উঠলো…আব্বু, ওরা শুধু থাকবে..তাহলে আমরা কোথায় যাবো? জহির রহমান বললো, আমরা

এখানেই থাকবো মা। ওদের শায়েস্তা করার জন্য 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নেমেছে। ওদের বিদ্রোহ

দমন করার জন্য। মালতী বললো, চিন্তা করতে

পারছো? আমাদের এতোটুকু একটা দেশ তা-

আবার খণ্ড করতে চাচ্ছে ঐসব উপজাতি গোষ্ঠী।

জহির রায়হান বললো, চাইলেই তো আর হবেনা।

ওরা যদি ভালোভাবে থাকে তো ভালো। তা-নাহলে

প্রয়োজনে বাঙালী নওজোয়ানরা দেশের স্বাধীন-

তা রক্ষা করতে। বাঁচাতে বাংলাদেশের মানচিত্র।  স্বাধীনতার লাল- সবুজের পতাকার মান। রক্ষা 

করতে এদেশের সার্বভৌমত্ব। প্রয়েজনে আবার

রক্ত দেবে। ওদের থেকে বাঁচাতে বাংলা মাকে। আবার তুলে নেবে সব অস্ত্র হাতে। তবুও জীবন

থাকতে বাংলাদেশের বাঙালী নওজোয়ানরা কেউ  নিজ জন্মভূমি বাংলা মা- মাটির একটা কোণাও 

ছাড়বে না। ছেলে জিতু বলে উঠলো…তুমি ঠিক

বলেছ আব্বু। দরকার হলে আমিও দেশের শত্রুর 

বিরুদ্ধে লড়বো। জহির রহমান জিতুর মাথায় হাত

দিয়ে বললো…সাব্বাশ বেটা। দেশকে বাঁচাতে তোর মতো ছেলে যেনো বাংলার প্রতিটা ঘরে ঘরে

জন্ম নেয়।।

লেখক: ফারুক আহম্মেদ জীবন ,নারাংগালী, ঝিকরগাছা, যশোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *