নকুল শর্ম্মা
বুল্টির মা বুল্টিকে মামলেট বানিয়ে দিবে যেই ডিম খানা ফাটালো ওমা এ কী কাণ্ড লাফ দিয়ে বেরিয়ে এলো একটা তরজাজা ছানা।মুরগির ছানা দেখে তো বুল্টির মায়ের চোখ ছানাবড়া। ডিম,হায় রে! ডিম, ডিম নিয়ে ঘটে গেলো আজগুবি সব কাণ্ড কারখানা।
বুল্টির মা তখন রেগেমেগে বুল্টির বাবাকে বলছে আর কোনো ডিম পেলে না বুঝি? কী ডিম এনেছো পয়সা দিয়ে বাজার থেকে? বুল্টির বাবা মুখ ভেংচিয়ে বললো আর কোন ডিম আনব,ঘোড়ার ডিম?
কথা মুখ থেকে বেরুতে না বেরুতেই বুল্টির ছোট ভাই বলে বসলো আমি ঘোড়ার ডিম খাবো। এই হলো গিয়ে,,, মরার উপর খাড়ার ঘা। ছেলের বায়না ঘোড়ার ডিম তার লাগবেই। কোনোভাবেই ওকে সামলানো যাচ্ছে না।বাবা,শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হলো ঘোড়ার ডিম গঞ্জের হাট ছাড়া কোথাও পাওয়া যায় না। ছেলে নাছোড়বান্দা, সে ঘোড়ার ডিম খেতে গঞ্জের হাটেই যাবে।
কী আর করা, যেই কথা সেই কাজ।বাবা ছেলেকে নিয়ে বিকেলে গঞ্জের হাটে ছুটলেন আর ভাবছেন কী দিয়ে ছেলের বায়না মেটানো যায়। শেষ পর্যন্ত বাবা ছেলেকে নিয়ে ঢুকলেন এক মিষ্টির দোকানে।দোকানিকে বুঝিয়ে বলতেই দোকানি একটা প্লেটে ইয়া বড় এক মিষ্টি দিয়ে বললেন এই নাও ঘোড়ার ডিম। ছেলে এতবড় মিষ্টি আগে কখনো দেখেনি তাই ওটাকে ঘোড়ার ডিম ভেবে খেয়ে নিলো।বাবাকেও ঘোড়ার ডিম খাইয়ে ছাড়লো।ছেলে এখানেই ক্ষান্ত হয়নি,আরও দুটো ঘোড়ার ডিম বোন ও মায়ের জন্য কিনতে হলো।অবশেষে বাপ-বেটা মনের সুখে ফিরে চললো বাড়ির দিকে। বুল্টির বাবা মনে মনে হাসছে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলছে হায় রে ডিম! তুই কি না শেষ পর্যন্ত হয়ে গেলে ঘোড়ার ডিম।
গ্রাম: শাহজানপুর, ডাকঘর: তেলিয়াপাড়া
উপজেলা: মাধবপুর, জেলা: হবিগঞ্জ।