ধ্রুব নীলের গল্প
একটা ছিল ছোট বনরুটি। সবে মাত্র দোকানে এসেছে। এক রাতে আকাশে তাকিয়ে দেখে কত্ত বড় একটা বনরুটি। কিন্তু সেই বনরুটির মুখ গোমড়া। ওটা কি আমার মা? আমি নেই বলে মায়ের মন খারাপ?
বনরুটি ঠিক করল, মায়ের কাছে যাবে।
সুযোগ পেয়ে একদিন বনরুটি দিল লাফ। দোকান থেকে বের হয়ে গড়িয়ে চলল।
গড়াতে গড়াতে শহরের রাস্তায় এসে পড়ল। আরে রাস্তায় এত বনরুটি! ঘর ঘর শব্দ করে সাঁই সাঁই করে ছুটছে ওরা। সেগুলোর ওপর আবার মানুষ বসেও থাকে।
ছোট্ট বনরুটি গড়াতে গড়াতে গেল এক গ্রামে। সেখানে একটা গোলগাল জিনিস। পানিতে চুপচাপ বসে আছে।
‘ও ভাই, তুমি কি পানিরুটি?’
গোলগাল জিনিসটা বলল, ‘আমি রুটি না। পদ্মফুলের পাতা।’
রুটি গড়াতে গড়াতে গেল আরেক গ্রামে। এ পথে যায় ও পথে যায়। সামনে দেখে গোলগাল কী যেন একটা। রুটি ভাবলো, এ আবার কোন রুটি? সামনে সরু মাঝে গোল। পেছনে একটা লেজও আছে।
ছোট্ট রুটিকে দেখে ফেলল বড় গোলগাল জিনিসটা। সেটা হাম্বা বলে এগিয়ে এলো বনরুটির দিকে।
ছোট্ট বনরুটি পেলা ভয়। দ্রুত গড়াতে লাগালো। এরপর গেল এক বাগানে। বাগানেও অনেক বনরুটি। ওরা আবার চুপচাপ। নড়েচড়ে না। গাছের হাত ধরে মাটিতেই বসে আছে। বাহ, এই রুটি বুঝি গাছে ধরে?
এমন সময় ওদের একজন বনরুটিকে বলল, তুমি কোথায় যাবে?
রুটি বলল, মায়ের কাছে। ওই যে। মা থাকে আকাশে। গোলগাল, আমার মতো।
গোলগাল বস্তুটা হেসে বলল, ও তুমি চাঁদে যাবে? আমরা তো মিষ্টি কুমড়া। তোমাকে নিয়ে যেতে পারব না। তোমাকে যেতে হবে ইরাবতি নদীর তীরে। সেখানে আছে দৈত্যপাখি। সেটা তোমাকে আকাশের ওই রুটির কাছে নিয়ে যাবে।
ছোট্ট বনরুটি খুব খুশি। গড়াতে গড়াতে গেল ইরাবতি নদীর তীরে। কোথায় সেই দৈত্য পাখি?
বিকেল গড়িয়ে রাত। রুটি দেখল আকাশে তার মা এসেছে। আজও তার মুখ গোমড়া। একটুও আলো নেই।
এমন সময় নদীতে শুরু হলো উথালপাথাল ঢেউ। ক্ষেপে উঠলো ইরাবতি। বুদ বুদ বুদ বুদ। ভেসে উঠল দৈত্য পাখি। মস্ত বড় তার ডানা।
বনরুটি ভয়ে ভয়ে বললো, ও দৈত্য পাখি। তুমি আমাকে আকাশের ওই মা-রুটির কাছে নিয়ে যাবে?
দৈত্যপাখি বলল, অবশ্যই পারব। চেপে বসো আমার পিঠে।
এরপর শোঁ শোঁ করে দৈত্যপাখি বনরুটিকে নিয়ে গেল মায়ের কাছে। মায়ের কাছে বনরুটি যেতেই ঝলমল করে উঠলো চারদিক।
মা রুটি বলল, আয়রে আমার বনরুটি। তুই ছিলি না বলে এতদিন আমার আলোও ছিল না। এরপর আকাশের ওই বড় রুটি ফিরে পেল আলো। আমরা যেটাকে বলি পূর্ণিমা।