বিবেক

লেখক: নিরমিন শিমেল

(প্রকাশ: কালবেলা)

টাকাটা পড়ে আছে অলক্ষে, রাস্তার কোলঘেঁষে, যেখান থেকে ফার্মগেটের দীর্ঘ ওভারব্রিজটা মরাল গ্রীবা বাঁকিয়ে পাক খেয়ে ওপরে উঠে গেছে। বাসের জন্য অপেক্ষা করছে রঞ্জু। বারবার হাতঘড়ি দেখছে।

রিফাতকে সময় দেওয়া আছে ঠিক ১০টায়। একটি টিউশনি জোগাড় করে দেওয়ার কথা। রঞ্জু আড়চোখে আরেকবার তাকাল। পঞ্চাশ টাকার চকচকে একটি লাল নোট। পাশাপাশি ভাবে ভাঁজ করা।

কারও কি চোখ পড়েনি? পকেটে অবশিষ্ট সিগারেটটায় অগ্নিসংযোগ করে লম্বা টান দেয়। বিরক্তিতে ভ্রু জোড়ায় সুস্পষ্ট ভাঁজ।

একটি চাকরিতে দরখাস্ত জমা দেওয়ার আজই শেষ তারিখ ছিল। পকেটের জীর্ণ দশায় ক্ষান্ত দিতে হয়েছে। মার কাছে অবশ্য সকালে হাত পেতে ছিল। বেশি না, মাত্র চল্লিশ টাকা। মায়ের কণ্ঠে ঈষৎ হতাশা মিশ্রিত রোষানল—এ নিয়ে কটা দরখাস্ত হলো বলত? উত্তর দেওয়া কিংবা টাকা নেওয়া দূরে থাক, জোঁকের মুখে নুন পড়ার মতো গুটিয়ে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। প্রশ্নটির জবাবের অন্তর্নিহিত গূঢ় কারণটির জন্য দায়ী সে কাকে করবে? নিজের অক্ষমতাকে, ভাগ্যকে না পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে?

ওভারব্রিজের সিঁড়ির ঊর্ধ্বাংশ থেকে একটা পটেটো ক্র্যাকার্সের খালি প্যাকেট পাক খেয়ে ঘুরতে ঘুরতে নিচে টাকাটার ওপর পড়ে। এতে টাকাটার প্রায় পুরোটাই ঢাকা পড়ে যায়। রঞ্জুর বুকের ভেতর থেকে অজান্তেই একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বের হয়ে আসে। যাক, আপাতত ওটা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেল; কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো, টাকাটা দৃষ্টির আড়াল হওয়ায় তার তৃপ্তির কারণ কী? অন্যের দৃষ্টির অন্তরালের সঙ্গে সঙ্গে ওটার প্রকৃত মালিকও তো বঞ্চিত হতে পারে। ওভারব্রিজের নিচের অংশটুকুতে ছেঁড়া কাগজ, বারোভাজার শূন্য ঠোঙা, বাদামের খোসা, সিগারেটের খালি প্যাকেট প্রভৃতি আবর্জনা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে জায়গাটুকুর শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছে। বাসের জন্য প্রতীক্ষারত আরও দু-চারজন যাত্রী পায়চারি করছে। তাদেরই একজন এগিয়ে এসে জানতে চায়—ভাই, কটা বাজে? একটা কুকুর ফুটপাত ধরে হেঁটে যেতে যেতে সিঁড়ির মুখে সহসা থমকে দাঁড়ায়। সিঁড়ির কাছাকাছি গিয়ে এক ঠ্যাং উঁচু করে তোলে। আরে টাকাটার ওপর হিসি করে দিচ্ছে না তো!

রঞ্জু দ্রুত কয়েক পা এগিয়ে ঘটনাটা সন্তর্পণে পর্যবেক্ষণ করে। না, মাত্র হাতখানেক ব্যবধানে বেঁচে গেছে ওটা। এবারে রঞ্জু ফিরে এসে লজ্জিতভাবে খানিকক্ষণ আগের প্রশ্নকর্তাকে বলে, আপনি কি কিছু বলছিলেন? হ্যাঁ, জানতে চাচ্ছিলাম বাজে কটা? কবজি উল্টিয়ে সময় বলে রঞ্জু ঘুরে দাঁড়ায়। এবারের দৃষ্টি সরাসরি নয়, কিছুটা কোনাকুনিভাবে পশ্চিম দিকের ল্যাম্পপোস্টে সাঁটানো ইংরেজি সিনেমার পোস্টারের ওপর। এখানে তাকালে তেরচাভাবে চোখের কোণ দিয়ে টাকার ওপর নজর রাখা যায়। এক সময় বাস এসে যায়। প্রতীক্ষারত লোকগুলো ছোটাছুটি করে উঠে গেলে বাসটা একরাশ কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে চলেও যায়। অথচ আশ্চর্য, যেজন্য প্রায় পনেরো মিনিট ধরে এখানে দাঁড়িয়ে থাকা, কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্তটিতে তার নিশ্চল পদক্ষেপ নিথর হয়ে যায়।

কেন এমন হলো? তাহলে কী লোভ…? অজান্তেই ডান হাতটা পকেটে চলে আসে। কটা এক টাকার কয়েন, আট আনা, পাঁচ টাকা মিলিয়ে মোট একুশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা। আর চল্লিশ টাকা হলেই চাকরির জন্য ব্যাংক ড্রাফট ও পোস্ট খরচ অনায়াসে চলে যেতে পারে। না একে লোভ বলা যায় না। এ হচ্ছে চাহিদা, প্রয়োজন। এ তার অধিকার। আর দ্বিধা না করে সরাসরি সে নির্দিষ্ট স্থানটায় চলে আসে। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশটা পরখ করে নেয়। তারপর পকেটের শূন্য সিগারেটের প্যাকেটটা আলগোছে ফেলে দেয়। পরক্ষণেই ওটা তোলার ভান করে প্যাকেটের সঙ্গে টাকাটাও তুলে নেয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ওটা বাম পকেটে চালান করে দেয়। এখন আর এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকা চলে না। ঘটনাটা কেউ লক্ষ করে থাকতে পারে। বাসটাও চলে গেছে। অগত্যা দ্রুত পায়ে রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা এক টেম্পোর ঘর্মাক্ত ঠাসাঠাসি যাত্রীর ভিড়ে আত্মগোপন করে। বিকট আওয়াজ তুলে একরাশ কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে ছুটে চলে কুৎসিত যন্ত্রযানটা।

মাথার ওপর মধ্যাহ্ন পিয়াসী রোদ ক্রমশ তেজস্বী। পেট্রোলের কাঁসটে গন্ধে নাকে জ্বালা ধরে। টেম্পোর গতি একটু শ্লথ হতেই এক অন্ধ ভিখারি হাত বাড়িয়ে দেয়। মৃদু চলমান গাড়ির চাকার সঙ্গে তার সঞ্চরণশীল পদক্ষেপে, মুখের ভাঁজে, মেলে ধরা করতলে এক তীব্র করুণা ও অসহায়ত্ব। ভিক্ষা করা অবশ্যই নিম্নমানের কাজ; কিন্তু এই অন্ধ ভিক্ষুকের ভিক্ষা করার চেয়ে কিছুক্ষণ আগে তার সেই কাজটা বেশি নিম্নমানের পরিচয় কি বহন করে না?

কিছুদূর এগিয়ে ভুস করে রাস্তার পাশে টেম্পো নিতম্ব হেলিয়ে ফের যাত্রী তোলে। স্থানটা লোকারণ্য। মৌমাছির মতো জটলা ও উত্তেজিত জনতার রোষানলে অনুমান করা যায়, অ্যাকসিডেন্ট বা অন্য কোনো ঝামেলা হয়েছে। স্থানটা থেকে ওঠা যাত্রীদের কথোপকথনে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এক ছিঁচকে চোরের ওপর গণপিটুনি চলছে। ছিঁচকে চোর-পকেটমারের উৎপাত দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।

এদের সঙ্গে রঞ্জুর কিছুক্ষণ আগের ঘটনার মধ্যে ব্যবধান কতটুকু? নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দেয়, সে তো আর চুরি করেনি, পড়ে থাকা টাকা তুলেছে; কিন্তু এটাও তো অন্যায়। তাহলে এর পেছনে অন্তর্নিহিত কারণটা কী? বেকারত্ব? জীবনের প্রতি অনিশ্চয়তাবোধ নাকি আর্থিক দৈন্যতাবোধ? কাকে দায়ী করবে রঞ্জু? কোথায় যেন পড়ে ছিল ছিঁচকে চুরি এক ধরনের মনোরোগ। কী যেন তার নাম… কী যেন তার নাম…। হ্যাঁ মনে পড়েছে, ক্লেপটোম্যানিয়া।

সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে এ রোগের বিস্তৃতি লাভের জন্য আজকের তুচ্ছ ঘটনা সূত্রপাত নয় কি? দূর এসব কী ভাবছে সে! ফের মনকে প্রবোধ দেয়, সে তো আর চুরি করেনি। বাম পকেটে টাকার অস্তিত্ব সুখের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। বড্ড ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করছে; কিন্তু এখানে এই পরিবেশে বের করা হয়তো সমীচীন নয়। এখানে ঘটনাস্থলের দু-একজন প্রত্যক্ষদর্শী থাকতে পারে। তারা হয়তো যাত্রী হিসেবে এ গাড়িতে উপস্থিত। মনে মনে পুরো দিনের একটা স্থূল ছক হিসাব করে নেয় রঞ্জু।

শিমুর সঙ্গে দেখা করতে প্রচণ্ড ইচ্ছে হয়। তার সঙ্গে দু-দিনের অসাক্ষাৎ যেন প্রলম্বিত দুই যুগ। সংসদ ভবনের লেকের সামনে পা ঝুলিয়ে দুজনে মুখোমুখি বসে থাকা, লেকের ফুরফুরে বাতাসে পুটপুট বাদাম চিবানো, আর স্মিত মুখে টুকুটুক গল্প বলার প্রবৃত্তিতে পেয়ে বসে। কোনো আকাঙ্ক্ষিত কাজ পরিসমাপ্তির পথে সুসংবাদটি বুঝি সবার আগে প্রেয়সীকেই দেওয়ার তৃষ্ণা জাগে। সোনালী ব্যাংকের সামনে নেমে পড়ে রঞ্জু। পাশেই ফুটপাতের টেলিফোন বুথ থেকে শিমুকে ফোন করে।

ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রঞ্জুর কণ্ঠস্বর দ্রুততর হয়। শিমুকে সংসদভবনের লেকের সামনে এসে অপেক্ষা করতে বলে। এখন শুধু হাতের বাকি কাজটুকু দ্রুত সেরে সংসদভবনে সাক্ষাতের পালা। কাচের পার্টিশন দেওয়া লম্বা টানা টেবিলের দক্ষিণ পাশে চলে আসে রঞ্জু। বুক পকেট থেকে বিজ্ঞপ্তিটা বের করে ব্যাংকের ফরমে ঠিকানা পরিষ্কারভাবে লেখে। তারপর প্যান্টের বাম পকেটে হাত চালিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া সেই কাঙ্ক্ষিত পঞ্চাশ টাকার নোটটা বের করে আনে।

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি হয়তো অবাঞ্ছিত এক দুর্নিবার আকর্ষণ থাকে। বাজারে কেনা ফলের চেয়ে চলতি পথে গাছের আগা বাড়ানো ঝুলন্ত ডালের ফল লুকিয়ে লাফ দিয়ে পেড়ে খাওয়ার স্বাদ বেশি। টাকাটা হাতে নিয়েই অকল্পনীয় গুপ্তধন প্রাপ্তির আনন্দে হৃদয়তন্ত্রীতে সুর বেজে ওঠে। টেবিলের ওপর দরখাস্তটায় চোখ পড়ে। হঠাৎ প্রাপ্ত টাকার মতো এ চাকরিটাও যদি সে পেয়ে যেত! হতেও তো পারে। হয়তো চাকরিটা হবে দেখেই দরখাস্ত পাঠানো জন্য ভাগ্যবিধাতা টাকাটা পাইয়ে দিয়েছেন।

ভাগ্য যখন সুপ্রসন্ন হয়, তখন একে একে সব দরজাই বুঝি খুলে যায়। টাকাটা আড়াআড়িভাবে চার ভাঁজ করা। চারপাশে আর একবার সতর্কতার সঙ্গে দেখে নিয়ে কৌতূহলপূর্ণ দৃষ্টির সামনে ওটা তুলে ধরে রঞ্জু। আশ্চর্য! পঞ্চাশ টাকা নয়, পাঁচশ টাকা ওটা। বিস্ময়ে আনন্দে ক্ষণিকের জন্য হতবাক হয়ে যায় সে। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। এতখানি দৃষ্টি বিভ্রম! টাকার কোনায় মুড়ে যাওয়া অংশটুকু ভালোভাবে টান করে ধরে পর্যবেক্ষণ করে। হ্যাঁ, পাঁচের পরে দু-দুটো শূন্য একেবারে সুস্পষ্ট।

কী আনন্দ! এত টাকা! কিন্তু আনন্দবোধের সঙ্গে মনের মাঝে কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম টানাপোড়েন চলতে থাকে। কুড়িয়ে পাওয়া এতগুলো টাকা গ্রহণ করা তার ঠিক হবে কি না! অপরাধবোধের সূক্ষ্ম কাঁটার ছোঁয়ায় থেকে থেকেই কি এ আনন্দধ্বনি বেসুরো হয়ে যাচ্ছে না? তবুও প্রয়োজনের কাছে, চাহিদার কাছে বিবেক তো তুচ্ছ! পায়ে স্যান্ডেল জোড়া সহসাই জীর্ণতার অস্তিত্ব নিয়ে চেতনার বৃত্তে আত্মপ্রকাশ করে।

ধীরে ধীরে সে টাকার ভাঁজ খোলে। রহস্যাবৃত এ টাকায় রঞ্জুর জন্য বুঝি আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। ভাঁজ খুলতেই দেখে একটা নয়, দু-দুটো পাঁচশত টাকার নোট। এবারে রীতিমতো বিবেকের কাছে ধাক্কা খায় রঞ্জু। অপরাধবোধের সূক্ষ্ম কাঁটাটা একবার সুতীক্ষ্ণ রূপ নিয়ে হ্যাঁচকা টান মেরে মুহূর্তে সমস্ত আনন্দসুরকে নিস্তব্ধ করে দেয়।

আশ্চর্য! খানিকক্ষণ আগে পঞ্চাশ টাকা কুড়িয়ে পাওয়াতে তার যতখানি আনন্দ হচ্ছিল, মনে মনে চাওয়া-পাওয়ার ছক কেটে হিসাব মেলাচ্ছিল; সেই পাওয়ার পরিমাণ যখন বৃহৎ অঙ্কের কোঠায় দাঁড়াল, তখন তো তার আরও বেশি আনন্দ লাগার কথা ছিল। আলিবাবার গুপ্তধন আবিষ্কারের মতোই সে খুশিতে স্বপ্নবিভোর হতে পারত। এর পরিবর্তে পাপবোধের যন্ত্রণায় ভেতরটা বিদগ্ধ হতে থাকে। কেবলই মনে হতে থাকে, এতগুলো টাকা হারিয়ে টাকার মালিক না জানি কত বিভ্রান্তিতে পড়েছে! হয়তো কোনো জরুরি কাজে খরচের কথা ছিল, এখন সে হারানোর কষ্টে উদ্ভ্রান্তের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে।

ব্যাংকের সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসার সময় প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি পদক্ষেপে অন্তর্দগ্ধে নিজেকে বিশ্লেষণ করতে থাকে রঞ্জু। এরই নাম কি মানবতা, বিবেক কিংবা মনুষ্যত্ব? বেকারত্বের অভিশাপের সুযোগ নিয়ে অর্থাভাবে যে লোভ-লালসা ক্ষণিকের জন্য হলেও অন্তরে ঠাঁই নিয়েছিল, বিবেকের দংশনেই বুঝি সেই পঙ্কিলতাটুকু মুছে ফেলতে পারছে। বাসটা ঊর্ধ্বশ্বাসে সামনে ছুটে চলে। পেছনে পড়ে থাকে আকাঙ্ক্ষিত সোপান, সংসদভবনে শিমুর উৎকণ্ঠিত প্রতীক্ষা…। সব… সব কিছুকে পেছনে ফেলে রঞ্জু বিব্রত মনে ছুটে চলে ফার্মগেটের দিকে। এখন শুধু একটাই উৎকণ্ঠা, একটাই উদ্দেশ্য… শেষ পর্যন্ত টাকার মালিককে খুঁজে পাওয়া যাবে তো…? চাকরির দরখাস্তটা তখনো বুকপকেটে অযাচিতভাবে পড়ে থাকে।

অনলাইনে ফ্রি বাংলা গল্প পড়তে আমাদের সঙ্গে থাকুন। প্রয়োজনে ওয়েবসাইট রিফ্রেশ করে সাইটের ‘বন্ধু’ হয়ে যান। সেক্ষেত্রে নতুন গল্প আপডেট হলেই শুধু নোটিফিকেশন পাবেন।

এ ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপলোড হবে বাংলা রোমান্টিক গল্প, বাংলা হরর গল্প, থ্রিলার গল্প , অতিপ্রাকৃত গল্প এবং বাংলা সায়েন্স ফিকশন গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *